ঢাকা     মঙ্গলবার   ১৬ জুন ২০২৬ ||  আষাঢ় ২ ১৪৩৩ || ৩০ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

জাবিতে এক শিক্ষককে বাধ্যতামূলক অবসর, ৯ জনের পদাবনতি

জাবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:২০, ১৬ জুন ২০২৬  
জাবিতে এক শিক্ষককে বাধ্যতামূলক অবসর, ৯ জনের পদাবনতি

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় মদদ দেওয়ার অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক শিক্ষককে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। একই ঘটনায় আট শিক্ষক ও এক কর্মকর্তাকে বিভিন্ন মেয়াদে পদাবনতি, আর্থিক দণ্ড এবং প্রশাসনিক দায়িত্বে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। তবে, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ৭ শিক্ষক ও এক কর্মকর্তা অব্যাহতি পেয়েছেন।

আরো পড়ুন:

মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভোর ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের টানা ১২ ঘণ্টার বৈঠকে এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সিন্ডিকেট সূত্রে জানা যায়, জুলাই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় মদদ দেওয়ার অভিযোগে ১৯ জন শিক্ষক ও দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত পরিচালিত হয়। অভিযোগের মাত্রা ও তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

বাধ্যতামূলক অবসর

সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেহেদী ইকবালকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।

পদাবনতি ও আর্থিক দণ্ড

চারজন শিক্ষক পদাবনতি ও আর্থিক দণ্ডের মুখে পড়েছেন। তাদের মধ্যে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক মহিবুর রৌফ শৈবালকে সহকারী অধ্যাপক থেকে প্রভাষক পদে নামিয়ে আনা হয়েছে। একই বিভাগের অধ্যাপক ইস্রাফিল আহমেদের বেতন বর্তমান পদের প্রারম্ভিক স্কেলে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নাজমুল হোসেন তালুকদার এবং অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের প্রভাষক কানন কুমার সেনের দুই বছরের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে অধ্যাপক নাজমুল হোসেন তালুকদারকে নিম্নতর বেতনস্তরেও নামিয়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনিক দায়িত্বে অযোগ্য ঘোষণা

আরো ৫ জন শিক্ষককে আগামী ৫ বছরের জন্য যেকোনো প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে, তাদের আর্থিক দণ্ডও দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে সাবেক উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মোহাম্মদ মোস্তফা ফিরোজের বেতন দ্বিতীয় গ্রেডে নামিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়া, সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক আলমগীর কবির, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান, একই বিভাগের অধ্যাপক বশির আহমেদ এবং পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের অধ্যাপক তাজউদ্দীন শিকদারের বেতন বর্তমান পদের প্রারম্ভিক স্কেলে নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে, আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান, বশির আহমেদ এবং তাজউদ্দীন শিকদারকে দুই বছর পর যথাক্রমে পদোন্নতি ও গ্রেড উন্নয়নের জন্য আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
সতর্কীকরণ

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ এ মামুনকে সতর্ক করার পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরের জন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক হোসনে আরাকে শুধুমাত্র সতর্ক করা হয়েছে।

কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তার মধ্যে ডেপুটি রেজিস্ট্রার নাহিদুর রহমান খানকে সহকারী রেজিস্ট্রার পদে পদাবনতি দেওয়া হয়েছে। তবে, দুই বছর পর তিনি পুনরায় পদোন্নতির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

অব্যাহতি পেলেন যারা

অভিযোগ থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি পেয়েছেন আইবিএর সহকারী অধ্যাপক পলাশ সাহা, পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শফি মোহাম্মদ তারেক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জহিরুল ইসলাম খোন্দকার, লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ ছায়েদুর রহমান ও সহযোগী অধ্যাপক মনির উদ্দিন শিকদার, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ার খসরু পারভেজ এবং সহকারী রেজিস্ট্রার রাজীব চক্রবর্তী।

সাবেক উপাচার্যদের বিষয়ে তদন্ত

উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান জানান, হামলায় মদদ দেওয়ার প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে নাম আসায় তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক মো. নুরুল আলম, সাবেক উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মনজুরুল ইসলাম এবং সাবেক কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক রাশেদ আখতারের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি স্ট্রাকচারাল কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিন্ডিকেট।
উপাচার্য বলেন, “ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তাদের প্রত্যেকের ভূমিকা ও সংশ্লিষ্টতা পৃথকভাবে গভীরভাবে তদন্ত করা হবে।”

ঢাকা/আহসান/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়