ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  ফাল্গুন ১৪ ১৪৩২ || ৯ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

বসন্তে মোহিত রাবি: গাছে গাছে মুকুল, বাতাসে মিষ্টি ঘ্রাণ

ফাহিম, রাবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:২৪, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  
বসন্তে মোহিত রাবি: গাছে গাছে মুকুল, বাতাসে মিষ্টি ঘ্রাণ

বসন্তের আগমনী বার্তায় সেজেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাস। হলুদাভ আমের মুকুলে নুয়ে পড়েছে গাছের ডালপালা, চারপাশে ছড়িয়ে পড়েছে মিষ্টি সুবাস। মৌমাছির গুনগুন এবং পাখির কিচিরমিচিরে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে তৈরি হয়েছে প্রাণবন্ত প্রাকৃতিক আবহ, যা শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের মনকে দিচ্ছে বসন্তের নির্মল ছোঁয়া।

ক্যাম্পাসের আমবাগান, পরিবহন চত্বর, বুদ্ধিজীবী চত্বর, কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, শহিদ মিনার, চারুকলা ও কৃষি অনুষদ, বধ্যভূমি, বিভিন্ন একাডেমিক ভবনের সামনের প্রাঙ্গণ এবং আবাসিক হলের আঙিনায় থাকা আম গাছগুলো মুকুলে ভরে উঠেছে। সবুজ পাতার ফাঁকে হলুদ মুকুল যেন প্রকৃতির নিজস্ব রঙের উৎসব।

আরো পড়ুন:

সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মুকুলে ভরা ডালগুলোতে মৌমাছি ব্যস্ত, আর হাওয়ায় ভেসে আসা মুকুলের ঘ্রাণ শিক্ষার্থীদের থমকে দাঁড়াতে বাধ্য করছে। ডালে বসে ছোট পাখিদের কিচিরমিচিরে বসন্তের আবেশ আরো গভীর হচ্ছে, যা ক্যাম্পাসের ব্যস্ততাকে প্রশান্তির ছোঁয়া দিচ্ছে।

শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিবছর বসন্তে আম গাছগুলো নতুন রূপে ধরা দেয়। তবে এবার অনুকূল আবহাওয়ার কারণে মুকুলের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। তাই চলতি মৌসুমে ভালো ফলনের প্রত্যাশা করছেন তারা।

চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের শিক্ষার্থী হুমায়রা তাবাসসুম সাবা বলেন, “ক্যাম্পাসে হাঁটলেই আমের মুকুলের গন্ধটা স্পষ্ট টের পাওয়া যায়। ব্যস্ততার মাঝেও প্রকৃতির শান্ত ছোঁয়া অনুভূত হয়। বসন্ত এখানে প্রকৃতির রূপান্তর এবং অন্তরের এক সূক্ষ্ম নবায়নের ইঙ্গিত বহন করে।”

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার বলেন, “প্রতি বছর খুব কাছ থেকে আমের মুকুল ফোটার দৃশ্য দেখার সুযোগ হয়। হলুদাভ মুকুলে ভরা গাছগুলো বসন্তের আগমনী বার্তা স্পষ্ট করে। মিষ্টি ঘ্রাণ আর চারপাশের সজীবতা মনকে প্রশান্তিতে ভরিয়ে দেয়। এটি মনে আশার সঞ্চারও করে, হয়তো এবার প্রচুর আম হবে এবং তা সবাই মিলে ভাগাভাগি করতে পারব।”

উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মুস্তফা আবুল কালাম আজাদ এ বিষয়ে বলেন, “আবহাওয়া ও পরিবেশগত কারণ ছাড়াও কুয়াশার পরিমাণ কম থাকায় মুকুল নষ্ট হয়নি। এছাড়া কিছু গাছ প্রতি বছর ফল দেয়, কিছু বছর বিশ্রাম নেয়। ফলনশীলতার এই প্রাকৃতিক চক্রও মুকুলের উপস্থিতি প্রভাবিত করে।”

এগ্রোনোমি অ্যান্ড এগ্রিকালচালার এক্সটেনশন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. গিয়াসউদ্দিন আহমেদ বলেন, “বসন্তকালেই আমের মুকুল ভালো হয়। গত দুই বছরে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকায় পোকার আক্রমণ বেশি ছিল। এবার শীতকালে তাপমাত্রা কম থাকায় পোকার ক্ষতি কম হয়েছে। অতীত ফলন কম হওয়ায় গাছগুলো পুষ্টি সঞ্চয় করতে পেরেছে, ফলে ফুল ও ফল ধারণের সম্ভাবনা বেশি।”

তিনি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বলেন, “সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন কৃষি অধিদপ্তর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও উদ্যান উন্নয়ন কেন্দ্র কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। তবে কিছু কৃষক বিজ্ঞাপনের প্রলোভনে অতিরিক্ত স্প্রে ব্যবহার করেন, যা পরিবেশ ও মাটির উর্বরতার জন্য ক্ষতিকর।”

ঢাকা/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়