ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  ফাল্গুন ১৪ ১৪৩২ || ৯ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

অতিরিক্ত ভাড়ার অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা: নৌপরিবহন মন্ত্রী 

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:৫৫, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  
অতিরিক্ত ভাড়ার অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা: নৌপরিবহন মন্ত্রী 

মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নৌপথে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার  (২৬ ফেব্রুয়ারি) নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সভাপতিত্বে আয়োজিত প্রস্তুতিমূলক সভায় সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাসমূহকে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সভায় নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, “ঈদকে কেন্দ্র করে নৌপথে যাত্রী চাপ বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের নিরাপত্তা, নিরাপদ যাত্রা ও স্বস্তি নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার। ঢাকার জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত সড়ক ১৫ রমজান থেকে ঈদের পর তৃতীয় দিন পর্যন্ত যানজটমুক্ত রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সদরঘাট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, যাত্রী নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ট্রাফিক পুলিশ, নৌপুলিশ, আনসার ও কমিউনিটি পুলিশ সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে।

আরো পড়ুন:

নৌদুর্ঘটনা প্রতিরোধে আগামী ১৬ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত দিনে-রাতে সার্বক্ষণিক বালুবাহী বাল্কহেড ও ডিঙ্গি নৌকা চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। রাতের বেলায় স্পিডবোট চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং দিনের বেলায় স্পিডবোটে যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট পরিধান নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ১৭ মার্চ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় ও দ্রুত পচনশীল পণ্যবাহী ট্রাক ব্যতীত সাধারণ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান ফেরিতে পারাপার বন্ধ রাখা হবে, যাতে যাত্রী পরিবহন নির্বিঘ্ন থাকে।

মন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, কোনো অবস্থাতেই অনুমোদিত ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা যাবে না এবং লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বা মালামাল বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। লঞ্চের ছাদে যাত্রী উঠানো যাবে না। বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক অনুমোদিত ভাড়ার তালিকা সকল নদীবন্দর, টার্মিনাল, ঘাট ও নৌযানে দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল বহনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট নৌযানের রুট পারমিট ও লাইসেন্স বাতিলসহ মালিক ও চালকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ লক্ষ্যে ফেরিঘাট, লঞ্চঘাট ও স্পিডবোট ঘাটে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে।

অভ্যন্তরীণ নৌপথে ফিটনেসবিহীন নৌযান ও ফেরি চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সব নৌযানকে নির্ধারিত সময় সূচি অনুযায়ী চলাচল নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে এবং সিরিয়াল ভঙ্গ বা অনিয়মের ক্ষেত্রে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নদীর মাঝপথ থেকে যাত্রী উঠানো বন্ধে কঠোর নজরদারি থাকবে। নৌপথে ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও যাত্রী হয়রানি প্রতিরোধে বিশেষ করে রাতের বেলায় টহল জোরদার করা হবে।

যাত্রী নিরাপত্তা জোরদারে ১৫ রমজান থেকে ঈদের পর তৃতীয় দিন পর্যন্ত প্রতিটি লঞ্চে ন্যূনতম ৪ জন আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে প্রত্যেক ঘাট এলাকায় ভিজিল্যান্স টিম গঠন করা হবে। পাশাপাশি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং টিম গঠন করে সার্বিক পরিস্থিতি তদারকি করা হবে।

দুর্ঘটনা মোকাবিলায় উদ্ধারকারী নৌযান প্রস্তুত রাখা হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দরে অগ্নি দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে ভাসমান নৌ-ফায়ার স্টেশন স্থাপন করা হবে। চাঁদপুরের মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর মোহনায় ঘূর্ণাবর্ত এলাকা চিহ্নিতকরণসহ অন্যান্য নৌরুটে নাব্য চ্যানেল যথাযথভাবে মার্কিং নিশ্চিত করা হবে। সব নৌচ্যানেল ও ফেরি রুট সার্বক্ষণিক সচল রাখতে প্রয়োজনীয় খনন, পন্টুন স্থাপন ও ঘাট উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

যাত্রী সেবা উন্নয়নের অংশ হিসেবে নদীবন্দর ও টার্মিনালসমূহে পানীয় জল, স্যানিটেশন, মোবাইল চার্জিং, ব্রেস্ট ফিডিং কর্নারসহ নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। সদরঘাটসহ সব নদীবন্দর ও লঞ্চ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং ধূমপান নিয়ন্ত্রণে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

ঈদ উপলক্ষে ঢাকা ও গাজীপুর মহানগর এলাকায় গার্মেন্টস ও নিটওয়্যার খাতের শ্রমিকদের পর্যায়ক্রমে ছুটি প্রদানের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে একযোগে অতিরিক্ত যাত্রীচাপ সৃষ্টি না হয়। লঞ্চ ও ফেরিঘাট থেকে দেশের অভ্যন্তরে যাত্রীদের যাতায়াত সহজ করতে বিআরটিসির পর্যাপ্ত ফিডার বাস সার্ভিস চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা ও দপ্তরকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়ে বলেন, “ঈদযাত্রায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না। যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এবং যাত্রীসেবা সংক্রান্ত বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর হটলাইন ১৬১১৩ নম্বরে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।”

সভায় নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ ও মো. রাজিব আহসান উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা/এএএম/এসবি

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়