অ্যাসোসিয়েট অক্সিজেনের আইপিও আবেদনে অনিয়ম তদন্তে বিএসইসি
নুরুজ্জামান তানিম || রাইজিংবিডি.কম
পুঁজিবাজারে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি অ্যাসোসিয়েট অক্সিজেন লিমিটেডর প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) আবেদন সংক্রান্ত নানান অনিয়ম পর্যালোচনা ও পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এরই ধারাবাহিকতায় নয়টি শর্তে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গঠিত তদন্ত কমিটিকে আগামী ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করে কমিশন।
সম্প্রতি বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ থেকে শর্তসাপেক্ষে এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়েছে বলে বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে। তদন্তের বিষয়ে অ্যাসোসিয়েট অক্সিজেন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অবহিত করা হয়েছে।
বিএসইসির সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা রাইজিংবিডি ডটকমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন- বিএসইসির উপপরিচালক শাহনওয়াজ, জিয়াউর রহমান এবং সহকারী পরিচালক আলী-আহসান।
বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, অ্যাসোসিয়েট অক্সিজেনের আইপিও প্রক্রিয়ায় আবেদন, ইস্যু ম্যানেজারের ভূমিকা, দায়িত্ব ও যথাযথ যাচাই ও বাধ্যবাধকতা মূল্যায়ন করা হবে। এছাড়া পাবলিক লিস্টিংয়ের জন্য নথিপত্র প্রস্তুত, যাচাই ও দাখিলের ক্ষেত্রে ইস্যু ম্যানাজার এনআরবি ইকুইটি ম্যানেজমেন্টের সম্পৃক্ততা মূল্যায়ন এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়ে তদন্ত করা হবে।
কমিশনের মতে, এই তদন্তের মাধ্যমে কোম্পানির আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরো সুদৃঢ় হবে। পাশাপাশি বাজারে শৃঙ্খলা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এটি একটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
বিগত সরকারের আমলে আইন লঙ্ঘন করা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে তেমন কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর পুনর্গঠিত বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন নতুন কমিশন কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে।
বিএসইসির তদন্তের আদেশ
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন মনে করে, পুঁজিবাজার ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বৃহত্তর স্বার্থে জুলাই ২০১৭ থেকে ২০২০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়কালে অ্যাসোসিয়েট অক্সিজেনের আইপিও আবেদন সংক্রান্ত অনিয়ম পর্যালোচনা ও পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
তাই কমিশনের ৯৯২তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯ এর ধারা ২১ দ্বারা অর্পিত ক্ষমতাবলে কমিশন উপরোক্ত বিষয়সমূহে একটি অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করার নির্দেশ প্রদান করা হলো। এ জন্য বিএসইসির তিনজন কর্মকর্তাকে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিয়োগ প্রদান করা হলো। অনুসন্ধান কর্মকর্তারা এই আদেশ জারির তারিখ থেকে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন তৈরি করে কমিশনের নিকট দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হলো।
যেসব বিষয় খতিয়ে দেখবে তদন্ত কমিটি
অ্যাসোসিয়েট অক্সিজেনের পণ্য বিক্রয় আয়ের যথার্থতা ও বৈধতা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে ভ্যাট ও আয়কর তথ্যের সত্যতা যাচাই করবে গঠিত তদন্ত কমিটি। কোম্পানিটির প্রশাসনিক ব্যয় ও আর্থিক ব্যয়ের যৌক্তিকতা এবং প্রযোজ্য মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্যতা যাচাই করা হবে। এছাড়া কোম্পানিটির কর প্রফেশনের পর্যাপ্ততা, যথার্থতা ও আইনানুগতা মূল্যায়ন করা হবে। কোম্পানিটির চলতি সম্পদ ও স্থায়ী সম্পদের যাচাই ও মূল্যায়ন, পরিশোধিত মূলধন, প্রি-আইপিও শেয়ার বরাদ্দ এবং পরিশোধিত মূলধনের আমানতের বিপরীতে সংগৃহীত মূলধনসহ মূলধন কাঠামোর গঠন যাচাই করা হবে। একইসঙ্গে গ্রাহকদের নিকট থেকে প্রাপ্ত নগদ অর্থ, বাণিজ্যিক পাওনা, মজুদ, কাঁচামাল ক্রয় এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পরিচালন ও আর্থিক বিষয় পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি আইপিও প্রক্রিয়ায় ইস্যু ম্যানেজারের ভূমিকা, দায়িত্ব ও যথাযথ যাচাই ও বাধ্যবাধকতা মূল্যায়ন, পাবলিক লিস্টিংয়ের জন্য নথিপত্র প্রস্তুত, যাচাই এবং আইপিও আবেদন দাখিলের ক্ষেত্রে এনআরবি ইকুইটি ম্যানেজমেন্টের সম্পৃক্ততা মূল্যায়নসহ আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো খতিয়া দেখবে গঠিত তদন্ত কমিটি।
সর্বশেষ আর্থিক অবস্থা
ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি অ্যাসোসিয়েট অক্সিজেন লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ সর্বশেষ ২০২২ সালে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে। এর পর থেকে কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য কোনো লভ্যাংশ দেয়নি।
শেয়ার ধারণ পরিস্থিতি
অ্যাসোসিয়েট অক্সিজেন লিমিটেড পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ২০২০ সালে। 'জেড' ক্যাটাগরির এ কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ১০৯ কোটি ৭৮ লাখ ২০ হাজার টাকা। সে হিসেবে কোম্পানির মোট শেয়ার সংখ্যা ১০ কোটি ৯৭ লাখ ২০ হাজার। ২০২৫ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত কোম্পানির উদ্যোক্তাদের হাতে ৩০.৬৫ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ১৩.৪০ শতাংশ, বিদেশে বিনিয়োগকারীদের হাতে ০.০৭ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৫৫.৮৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) কোম্পানির শেয়ার সর্বশেষ লেনদেন হয়েছে ১৭.১০ টাকায়।
ঢাকা/এনটি/বকুল