সরাসরি বিশ্বকাপে, কঠিন পথে বাংলাদেশ
আইসিসি-এর শর্ত পূরণ করে ২০১৫, ২০১৯ ও ২০২৩ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। দীর্ঘ সময় ওয়ানডে র্যাংকিংয়ের ৭ নম্বরে থাকা দলটি এখন নেমে গেছে ১০ নম্বরে। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—২০২৭ বিশ্বকাপে কি সরাসরি জায়গা করে নিতে পারবে বাংলাদেশ?
২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে হলে র্যাংকিংয়ের সেরা আট দলের মধ্যে থাকতে হবে। ১৪ দলের এই আসরে বাকি দলগুলোকে খেলতে হবে বাছাইপর্ব। ২০২৭ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে ছাড়াও র্যাংকিংয়ের সেরা আট দল সরাসরি বিশ্বকাপে খেলবে। অর্থাৎ, স্বাগতিকরা যদি সেরা আটের মধ্যে থাকে, তাহলে র্যাংকিংয়ের ১০ নম্বর পর্যন্ত দলও সরাসরি সুযোগ পেতে পারে।
তবে এই সময়ের মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে থাকতে না পারলে অপেক্ষা করছে কঠিন বাছাইপর্ব। যেখানে গত বিশ্বকাপে দুইবারের চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ-ও পেরে উঠতে পারেনি।
বর্তমান ওয়ানডে র্যাংকিং অনুযায়ী বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট ৭৪, অবস্থান ১০ নম্বরে। তাদের ঠিক ওপরে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের পয়েন্ট ৭৭। অর্থাৎ এই দুই দলের একটির বাছাইপর্বে নামার শঙ্কাই বেশি।
এদিকে জিম্বাবুয়ে স্বাগতিক হিসেবে সরাসরি জায়গা পেয়ে যাওয়ায় বাস্তবে বাংলাদেশ যেন ১১ নম্বর অবস্থানেই রয়েছে। ফলে ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের আগে অন্তত ৯ নম্বরে উঠতে না পারলে বাছাইপর্ব খেলতেই হবে মিরাজদের।
সব মিলিয়ে সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার পথটা বাংলাদেশের জন্য বেশ জটিল। প্রতিটি সিরিজ, প্রতিটি ম্যাচই হয়ে উঠছে গুরুত্বপূর্ণ। তবে সুযোগও রয়েছে যথেষ্ট—লড়াইটা শুরু হচ্ছে মার্চ থেকেই।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ায় প্রস্তুতির জন্য সময় পাচ্ছে বাংলাদেশ। আগামী সিরিজ নিজেদের মাঠে পাকিস্তান-এর বিপক্ষে—১২, ১৪ ও ১৬ মার্চ তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। এরপর ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও ভারত-এর বিপক্ষে তিনটি করে এবং অ্যাওয়েতে আয়ারল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে যথাক্রমে ৩ ও ৫টি ওয়ানডে খেলবে টাইগাররা। এই ম্যাচগুলো আইসিসির এফটিপির অংশ হওয়ায় র্যাংকিং নির্ধারণে সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
পাকিস্তান সিরিজের আগে নিজেদের ঝালিয়ে নিতে ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে চার দলের বিসিএল ওয়ানডে আসর। বগুড়া ও রাজশাহীতে ডাবল লিগ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতার ফাইনাল হবে মিরপুরে।
জাতীয় দলের সাবেক নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু মনে করেন, এই টুর্নামেন্ট কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তাঁর ভাষায়, “অনেক দিন ধরেই আমরা পঞ্চাশ ওভারের ক্রিকেটে ছিলাম না। এখান থেকেই সেই ধারাটা শুরু হচ্ছে, যা মূলত ২০২৭ বিশ্বকাপ প্রস্তুতির অংশ। ভালো মানের ক্রিকেটই দেখতে পাব বলে আশা করছি।”
পাকিস্তান সিরিজ আর বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার মিশন—এই দুই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের নতুন পথচলা।
ঢাকা/ইয়াসিন