চাল-চিনিসহ বেড়েছে মাছ, ডিম ও সবজির দাম
রাজধানীর বাজারে চিনি, সবজি ও ডিমের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে পণ্য পরিবহন খরচ বেড়েছে। বাজারে এখনো সংকট কাটেনি বোতলজাত সয়াবিন তেলের। বিক্রেতারা বলছেন, গত এক মাসের ব্যবধানে চাল ও চিনিসহ বেড়েছে মাছ, মুরগি, ডিম এবং সবজির দাম।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর হাজারীবাগ, নিউমার্কেট ও কারওয়ান বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা এ তথ্য জানা গেছে।
তারা জানান, গত এক মাসের ব্যবধানে বেড়েছে অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। বাজারে এখনো রয়েছে সয়াবিন তেলের সংকট। গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত সবজির দাম বেড়েছে।
বেড়েছে চাল ও চিনির দাম
বিশ্ববাজারে চালের দাম কমলেও দেশের বাজারে মানভেদে কেজি প্রতি ২-৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে চালের দাম। এখন বাজারে বিআর-২৮ ও পাইজাম বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা দরে। স্বর্ণা গুটি (মোটা চাল) বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৩ টাকা। মানভেদে বিভিন্ন ব্রান্ডের মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে গড়ে ৭৩ থেকে ৮০ টাকা। তবে, সবচেয়ে বেশি বেড়েছে পোলাও চালের দাম। দুই সপ্তাহ ব্যবধানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত পোলাও চালের দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৯০ টাকায়। খোলা পোলাও চাল বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫৫ টাকায়।
এদিকে, খুচরা পর্যায়ে দুই সপ্তাহ ব্যবধানে চিনির দাম ৫ টাকা বেড়েছে। এখন প্রতিকেজি খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১০৫ টাকা। প্যাকেটজাত প্রতিকেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়।
সংকটের কারণে বাজারে সরকার নির্ধারিত দামে মিলছে না বোতলজাত সয়াবিন তেল। এখন প্রতি লিটার ৫ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল দাম ৯৫৫ টাকা, ২ লিটার ৩৯০ টাকা ও লিটার ১৯৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুসারে, এক মাসের ব্যবধানে মোটা ও মাঝারি চালের দাম ৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
বাড়তি মাছ, মুরগি, ডিম ও সবজির দাম
পরিবহন খরচ বৃদ্ধি ও সরবরাহের সংকটে বেড়েছে মাছ, মুরগি, ডিম ও সবজির দাম। এখন বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। সোনালি মুরগির বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৬০ টাকায়। গরুর মাংস ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১৫০ থেকে ১২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
সপ্তাহ ব্যবধানে ডিমের দাম বেড়েছে ১০ টাকা। গত সপ্তাহের ফার্মের মুরগির লাল ডিম ডজন বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকা দরে, এ সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়।
মুদি বাজারে অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। এখন নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকায়। দেশি পেঁয়াজ মানভেদে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, রসুন (দেশি) ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, দেশি আদা ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে এখন মাঝারি আকারের চাষের রুই বিক্রি হচ্ছে ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে। চাষের পাঙাস আকার অনুযায়ী ২০০ থেকে ২২০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, মাঝারি আকারের কৈ মাছ ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
আকারভেদে কেজিতে দেশি শিং ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, বড় সাইজের পাবদা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, দেশি পাঁচমেশালি ছোট মাছ ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, মলা ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা, টেংরা ৭০০ টাকা, রূপচাঁদা ১৪০০, বোয়াল আকার অনুযায়ী ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৪০০ গ্রাম ওজনের পদ্মার ইলিশ ১২০০ টাকা এবং চট্টগ্রামের ইলিশ ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এখন বাজারে প্রতিকেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ থাকে ১০০ টাকা। দেশি শশা ৬০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, গাজর (দেশি) ৫০ টাকা, চিচিঙ্গা ১০০ টাকা, বরবটি ও ঢেঁড়স ৮০ থেকে ১০০টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা পেঁপে ৩০ টাকা, পটল ৮০ টাকা, টমেটো ৬০ টাকা, কাঁচমরিচ ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি এবং ফুলকপি ও বাঁধাকপির পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং প্রতিটি পিস জালি কুমড়া ও লাউ ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
যা বলছে ক্রেতা বিক্রেতারা
রাজধানীর হাজারীবাগে কেনাকাটা করতে আসা গৃহিণী তানজিলা আক্তার রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “বাজারে যেদিকেই যাই, সেদিকেই দেখি দাম বাড়তি। আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এখন দুমুঠো খেয়ে বেঁচে থাকাই কষ্টকর। সবকিছুর দাম বাড়ে, শুধু বাড়েনা আমাদের মতো মানুষের দাম। বাসা ভাড়া দেওয়ার পর বাজার করে খাওয়া মতো টাকা থাকে না। ভাবছি গ্রামে চলে যাবো।”
নিউমার্কেটের বনলতা কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা মামুন বেপারি বলেন, “পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কারণে আমাদের খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত সবজির দাম বেড়েছে। কিছু কিছু সবজির দাম আবার কমেছে। সবজির এই দাম বৃদ্ধির জন্য একমাত্র দায়ী জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি।”
সম্প্রতি সরকারের দ্রব্যমূল্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা বিষয়ক টাস্কফোর্সের বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। সরকার বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
তিনি দাবি করেন, নিত্যপণ্যের মজুত পরিস্থিতি স্থিতিশীল। কোনো পণ্যের সংকট নেই। বোতলজাত সয়াবিনের সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকলেও খোলা সয়াবিনের পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে বাজারে।
মন্ত্রী বলেন, নির্ধারিত দামের বাইরে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়টি সরকার নজরে রেখেছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সরকার বাজারে কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট বা কারসাজি বরদাশত করবে না। এটি ১৮ কোটি মানুষের দেশ। কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তি বাজারকে জিম্মি করতে পারবে না।
ঢাকা/রায়হান/মাসুদ
চাল-চিনিসহ বেড়েছে মাছ, ডিম ও সবজির দাম