ঢাকা     শনিবার   ১৩ জুন ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ৩০ ১৪৩৩ || ২৭ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের অপসারণসহ ৭ দফা দাবি, নতুন কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:৪৬, ১৩ জুন ২০২৬   আপডেট: ১৫:২৬, ১৩ জুন ২০২৬
ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের অপসারণসহ ৭ দফা দাবি, নতুন কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

ইসলামী ব্যাংককে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে নতুন করে সাত দফা দাবি উত্থাপন করেছে সচেতন গ্রাহক ফোরাম।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেল ৪টার মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নেওয়া হলে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে।

আজ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচির কথা জানান সচেতন গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র অধ্যাপক নুর উন-নবী মানিক। 

চেয়ারম্যানের অপসারণ, আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, গ্রাহকদের স্বার্থ সংরক্ষণ, এস আলম গ্রুপ ও তাদের সহযোগীদের বয়কট এবং গ্রাহকদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

অধ্যাপক নুর উন-নবী মানিক বলেন, “অবিলম্বে খোরশেদ আলমকে চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণ করে ব্যাংকিং খাতে অভিজ্ঞ, সৎ ও পেশাদার ব্যক্তিকে দায়িত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে ইসলামী ব্যাংকে এস আলম গ্রুপ ও তাদের সহযোগীদের কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দেওয়া যাবে না।” ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত বা ব্যাংকটি দখলের যে কোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করারও দাবি জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, “সাত দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের দিকে যেতে বাধ্য হবে গ্রাহকরা। এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে এর দায়ভার সরকারকেই বহন করতে হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে সম্প্রতি জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন তিনি। 

নুর উন-নবী মানিক বলেন, “জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত তথ্যকে জনগণ নির্ভরযোগ্য বলে মনে করে। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তথ্যগত অসঙ্গতি শুধু ওই প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং পুরো ব্যাংকিং খাতের ওপর জনগণের আস্থাও দুর্বল করে।” এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও প্রয়োজনীয় সংশোধনের আহ্বান জানান তিনি।

ফোরামের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শনিবার বিকেল ৪টার মধ্যে দাবি পূরণ না হলে রবিবার (১৪ জুন) ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। এছাড়া, মঙ্গলবার (১৬ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো লিখিত ৭ দফা দাবিগুলো হলো-

১. অনতিবিলম্বে বর্তমান চেয়ারম্যানের পদ থেকে অপসারণ করে ইসলামী ব্যাংকিং সম্পর্কে ওয়াকিবহাল সৎ, যোগ্য ও পেশাদার ব্যক্তিকে বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগদান 

২. যাদের কাছ থেকে ব্যাংকগুলো বন্দুকের মুখে দখল করেছিল তাদেরকে ফেরত দিতে হবে। কারণ ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা পরিবর্তন স্বাভাবিক উপায়ে ছিল না। ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগিতায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সরাসরি হস্তক্ষেপে জোরপূর্বক পদত্যাগ পত্রে স্বাক্ষর করিয়ে মালিকানা দখল করা হয়। সুতরাং যাদের কাছ থেকে ব্যাংক লুটেরা ও মাফিয়া দখল করেছিল তাদেরকে মালিকানা ফেরত দিতে হবে। প্রকৃত মালিকদের কাছেই এই ব্যাংক নিরাপদ।

৩. ব্যাংক লুটেরাদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করতে হবে। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিসহ বিভিন্ন ব্যাংক ফ্যাসিস্ট হাসিনা এবং তার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় এস আলমসহ যারা লুট করেছে তাদের বিচার নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে। এই ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে তাদের দ্রুত বিচার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে যাতে বাংলাদেশে এ রকম লুটেরা মাফিয়া গোষ্ঠীর আর জন্ম না হয়।

৪. ইসলামী ব্যাংকগুলোতে আতঙ্ক সৃষ্টি বন্ধ করতে হবে। ইসলামী ব্যাংকগুলোতে স্থিতিশীলতা আনয়নের জন্য বিতর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারকে বিরত থাকতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে অপপ্রচার রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

৫. লুটের অর্থ পুনরুদ্ধারে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ টাস্কফোর্সের মাধ্যমে বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ফেরত এনে ব্যাংকের দায় পরিশোধ করার ব্যবস্থা করতে হবে। অর্থঋণ আদালতে বিশেষ সেল গঠন করে লুটেরাদের সব স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও বিক্রির মাধ্যমে ব্যাংকের দায় পরিশোধের ব্যবস্থা করতে হবে। অর্থঋণ আদালতে লুটেরাদের বিচারের ক্ষেত্রে উচ্চ আদালত থেকে কোনো স্থিতাবস্থা যাতে লুটেরা জারি করতে না পারে এ ব্যাপারে সরকারকে প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের ব্যবস্থা করতে হবে। 

৬. ব্যাংক লুটেরাদের ফেরার পথ রুদ্ধ করতে হবে। ব্যাংক লুটেরাদের বিচার না করে তাদের পুনর্বাসন করার ব্যবস্থা করা হয়েছে ব্যাংকিং রেজুলেশন আইন ১৮/ক ধারা সংযোজন করে। অবিলম্বে এ ধারা বাতিল করে লুটেরাদের ফেরার পথ রুদ্ধ করতে হবে। তারা যাতে ভিন্ন নামে আবার ব্যাংক দখল করতে না পারে এ জন্য লুটেরাদের সন্তান, স্ত্রী, সুবিধাভোগী এবং যে সব প্রক্সি কোম্পানির মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংকে পরিচালক নিয়োগ করে অর্থ লুট করেছে তাদেরকে ব্যাংকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগে অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে।

৭. জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মিথ্যা বক্তব্য ও ডাকাত এস আলমের হাতে ব্যাংক তুলে দেওয়ার বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে।

ঢাকা/তুহিন/ইভা 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়