তামহা সিকিউরিটিজের লোপাটকৃত অর্থ ফেরত দিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ
নুরুজ্জামান তানিম || রাইজিংবিডি.কম
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সদস্যভুক্ত ব্রোকারেজ হাউজ তামহা সিকিউরিটিজ লিমিটেডের মালিক ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিনিয়োগকারীদের ৮৭ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী বিনিয়োগকারীরা অর্থ ফেরত পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। এবার অভিযোগটির বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে লোপাটকৃত অর্থ দ্রুত ভুক্তভোগী বিনিয়োগকারীদের ফেরত দেওয়ার জন্য পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি বিএসইসির কাছে পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও বিএসইসি সূত্র জানিয়েছে, বিনিয়োগকারী মো. আজিজার রহমানের দুটি বিও হিসাব থেকে শেয়ার বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে তামহা সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী বিনিয়োগকারী বিষয়টি জানিয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। সে অনুযায়ী আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বিধি মোতাবেক অভিযোগটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিএসইসিকে নির্দেশ দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিএসইসি দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দিয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগপত্রে আজিজার রহমান উল্লেখ করেন, অনুমতি না নিয়ে, অজ্ঞাতসারে তামহা সিকিউরিটিজ লিমিটেড তার বিও হিসাব থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে শেয়ার বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে ডিএসই দুই দফায় তাকে আংশিক অর্থ ফেরত দেয়। তবে এখনো তার প্রায় ৪৩ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বিনিয়োগকারীর অজান্তে শেয়ার বিক্রি ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনা পুঁজিবাজারে আস্থার জন্য মারাত্মক হুমকি। এ ধরনের অভিযোগ দ্রুত ও কঠোরভাবে নিষ্পত্তি করা না-হলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা দুর্বল হবে। যদিও ব্রোকারেজ হাউসের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ নতুন নয়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা ও দুর্বল শাস্তির কারণে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়।
বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে ব্রোকারেজ হাউসগুলোর ওপর নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে। এবং একইসঙ্গে অপরাধ প্রমাণিত হলে দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করার কথা বলছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিনিয়োগকারী মো. আজিজার রহমান রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, ‘‘চার বছরের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও শেয়ার বিক্রি করে দেওয়া অর্থ এখনো আমি পুরোটা ফেরত পাইনি। ডিএসই কর্তৃক দুই দফায় অল্প কিছু টাকা ফেরত দিয়েছে। কিন্তু এখনো ৪৩ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দিয়েছি।’’
তামহা সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ
২০২১ সালের ডিসেম্বরে তামহা সিকিউরিটিজ অভিনব কায়দায় প্রতারণা করে দুই শতাধিক বিনিয়োগকারীর ৮৭ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক ডুপ্লিকেট সফটওয়্যার ব্যবহার করে বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রি করে দেন। ব্রোকারেজ হাউজটি দুটি ব্যাক অফিস সফটওয়্যার ব্যবহার করে গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের মিথ্যা ও ভুয়া বিবরণী ও পোর্টফোলিও স্টেটমেন্ট দেওয়া হতো বলেও জানা যায়।
উল্লিখিত হাউজে গ্রাহকদের মোট ঘাটতির পরিমাণ ছিল প্রায় ১৩৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে গ্রাহকের সমন্বিত হিসাবে ঘাটতি ৯২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ও শেয়ারের বাজারমূল্যের ঘাটতি ৪৭ কোটি ১১ লাখ টাকা।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২১ সালের ৯ ডিসেম্বর বিএসইসি তামহা সিকিউরিটিজের শেয়ার লেনদেন স্থগিত করে। পরে ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি তামহা সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হারুনুর রশিদ ও তার সহযোগীদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। পরবর্তীতে ওই অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের দায়ে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ মোট ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
উল্লেখ্য, তামহা সিকিউরিটিজ ২০০৫ সালের ১৯ জানুয়ারি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে নিবন্ধিত হয়।
ঢাকা/এনটি//