মার্কিন আগ্রাসনের জবাব হবে ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’: ইরান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো ধরনের হামলা চালালেই সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হবে বলে ইরানের হুঁশিয়ারি
ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তেহরান যে কোনো মার্কিন হামলাকে ইরানের বিরুদ্ধে ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ হিসেবে গণ্য করবে ও কঠোরতম জবাব দেবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে বিশাল নৌবহর পাঠানোর ঘোষণার দেওয়ার পরপরই ইরানের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা এই সতর্কতা জারি করলেন। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে ইরানি ওই কর্মকর্তা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ ও অন্যান্য বাহিনী আসার পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের সামরিক বাহিনীকে ‘উচ্চ সতর্কতায়’ রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক শক্তি বৃদ্ধি- আমরা আশা করি এটি প্রকৃত সংঘাতের উদ্দেশ্যে নয়- তবে আমাদের সামরিক বাহিনী সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। ইরানের সবকিছু উচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।
তিনি সতর্ক করে জানান, তেহরান সম্ভাব্য হামলার মাত্রা বা প্রকৃতির মধ্যে কোনো পার্থক্য করবে না।
ওই কর্মকর্তা হুঁশিয়ারি দিয়ে আরো বলেন, এবার আমরা যে কোনো আক্রমণকে- সেটি সীমিত হোক, অসীম হোক, সার্জিক্যাল হোক বা কাইনেটিক- আমাদের বিরুদ্ধে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করব এবং কঠোরতম উপায়ে এর জবাব দেব।
গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সংবাদিকদের বলেন, আমাদের অনেক জাহাজ সেই দিকে (ইরানের দিকে) যাচ্ছে, শুধু যদি কিছু ঘটে। আমি চাই না যে কিছু ঘটুক, তবে আমরা তাদের ওপর গভীর নজর রাখছি...আমাদের একটি নৌবহর আছে ...সেই দিকে (ইরানের দিকে) এগিয়ে যাচ্ছে এবং সম্ভবত আমাদের এটি ব্যবহার করতে হবে না।”
রয়টার্সের খবর অনুসারে, গত সপ্তাহে এশিয়া-পাসিফিক অঞ্চল থেকে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন, বেশ কয়েকটি ডেস্ট্রয়ার এবং যুদ্ধবিমানসহ মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো রওনা হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের জন্য অতিরিক্ত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও বিবেচনা করা হচ্ছে।
এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানি ওই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘন করে, তাহলে আমরা জবাব দেব। তবে ইরানের সেই প্রতিক্রিয়া কেমন হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ক্রমাগত সামরিক হুমকির মুখে থাকা একটি দেশের কাছে এছাড়া কোনো বিকল্প নেই। তেহরান তাদের হাতে থাকা সব শক্তি ব্যবহার করে আক্রমণকারীকে প্রতিহত করবে এবং সম্ভব হলে ভারসাম্য বজায় রাখবে।
উল্লেখ্য, মার্কিন সামরিক বাহিনী এর আগেও উত্তেজনার সময়ে সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত বাহিনী পাঠিয়েছে। তবে, গত বছর ইরানের বিরুদ্ধে জুন মাসের হামলার আগে মার্কিন সামরিক বাহিনী বড় ধরনের শক্তি বৃদ্ধি করেছিল।
ঢাকা/ফিরোজ