ছেচল্লিশেও অবিবাহিত রাইমা, চিন্তিত মা মুনমুন
মায়ের সঙ্গে রাইমা সেন
ভারতীয় বাংলা সিনেমার প্রথম সারির অধিকাংশ নায়িকা বিয়ে করে থিতু হয়েছেন। এ তালিকায় রয়েছেন—পাওলি দাম, কোয়েল মল্লিক, নুসরাত জাহান, শুভশ্রী গাঙ্গুলির মতো তারকারা। তাদের কেউ কেউ এখন একাধিক সন্তানের মা।
তবে ভারতীয় সিনেমার লাস্যময়ী অভিনেত্রী রাইমা সেন ছেচল্লিশেও অবিবাহিত। কেবল তাই নয়, সিঙ্গেল বলেও দাবি তার। এ অভিনেত্রীর বিয়ে নিয়ে ভক্ত-অনুরাগীদের মাথা ব্যথার শেষ নেই। এবার রাইমার মা অভিনেত্রী মুনমুন সেন মেয়ের বিয়ে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন।
তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন সংসদ সদস্য মুনমুন সেন অ্যাডিশন-কে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। এ আলাপচারিতায় তিনি বলেন, “আমি চাই ওর দেখভাল করার কেউ থাকুক। এটা অনেকেই হয়তো বুঝতে পারবেন না। তবে এমন কেউ, যে ওর দেখাশোনা করবে, আমাকে যেমন আমার স্বামী দেখাশোনা করেছে।”
বাবা-মা ও বোনের সঙ্গে রাইমা সেন
খানিকটা ব্যাখ্যা করে মুনমুন সেন বলেন, “এটা সবসময় ভালোবাসা বা যৌনতার জন্য নয়। ওর পাশে দাঁড়াবে, ওকে সাপোর্ট করবে, আমি তো চিরকাল থাকব না।”
ছোট কন্যা অভিনেত্রী রিয়া সেনের প্রসঙ্গ তোলে মুনমুন সেন বলেন, “আমার ছোট মেয়ে (রিয়া সেন) বিয়ে করে নিয়েছে। দুজনে হিপিস। এখানে ঘোরে, ওখানে ঘোরে। দুজনে একে-অপরকে খুব ভালোবাসে। কিন্তু রাইমা তো একা। আমি চাইব ও দত্তক (বাচ্চা) নিক অথবা কারো সঙ্গে থাকুক।”
রাইমা সেন
মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের কন্যা মুনমুন সেন। ১৯৭৮ সালে সুচিত্রা নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ভরত দেব ভার্মার সঙ্গে কন্যার বিয়ে দেন। জানা যায়, স্বামীর অনুমতি নিয়ে অভিনয়ে নাম লেখান মুনমুন সেন। কিন্তু এ সিদ্ধান্ত প্রথমে মেনে নেননি সুচিত্রা। এ নিয়ে মনমালিন্য তৈরি হয়েছিলেন। যদিও পরবর্তীতে তা মিটে যায়। মুনমুন-ভরত দম্পতির দুই কন্যা। তারা হলেন—রাইমা সেন ও রিয়া সেন। তারা দুজনেই জনপ্রিয় অভিনেত্রী।
গত বছরের ১৯ নভেম্বর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে দক্ষিণ কলকাতার নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মুনমুন সেনের স্বামী ভরত। স্বামীকে হারিয়ে নিজেকে সামলে নেন। তখন এ অভিনেত্রী বলেছিলেন, “এখন যদি আমি ভেঙে পড়ি, আমার মেয়েরা কষ্ট পাবে। আমিও কষ্ট পাব। তাই রোজকার জীবন চলতেই থাকে।”
রাইমা সেন
কবে বিয়ে করছেন—এ প্রশ্ন শুনতে শুনতে অনেকটা ক্লান্ত রাইমা সেন। কয়েক বছর আগে এ সাক্ষাৎকারে রাইমা সেন বলেছিলেন, “আমার বিয়ে হলে কার কী সুবিধা হবে? আমি হ্যাপিলি সিঙ্গেল। বাবা-মা যথেষ্ট স্বাধীনতা দিয়েছেন, রোজগার করছি, ট্রাভেল করছি। কারো কাছে জবাবদিহি করার নেই। শুধু বিয়ে করার জন্য বিয়ে করব না, যদি না পাগলের মতো কারো প্রেমে পড়ি। আর তাকেও আমার সব কিছুর সঙ্গে অ্যাডজাস্ট, কম্প্রোমাইজ করতে হবে।”
রাইমা সেন
১৯৯৯ সালে বলিউডের ‘গডমাদার’ সিনেমার মাধ্যমে রুপালি জগতে পা রাখেন রাইমা। তারকা পরিবারের সন্তান হলেও রূপ আর অভিনয় গুণে নিজেকে প্রমাণ করেছেন এই অভিনেত্রী। উপহার দিয়েছেন বেশ কিছু হিন্দি ও বাংলা ভাষার দর্শকপ্রিয় সিনেমা। তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হলো—‘হাওয়া বদল’, ‘২২শে শ্রাবণ’, ‘মি আমোর’, ‘বাস্তশাপ’, ‘দ্বিতীয় পুরুষ’, ‘চিত্রাঙ্গদা’ প্রভৃতি।
ঢাকা/শান্ত