ঢাকা     বুধবার   ২১ জানুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ৭ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

হিরণের দ্বিতীয় বিয়ে প্রচারের কৌশল না কি সত্যি?

বিনোদন ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:২৭, ২১ জানুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১২:৩৬, ২১ জানুয়ারি ২০২৬
হিরণের দ্বিতীয় বিয়ে প্রচারের কৌশল না কি সত্যি?

বিয়ের সাজে হিরণ ও ঋত্বিকা গিরি, অনিন্দিতা চ্যাটার্জি (বাঁ থেকে)

ভারতীয় বাংলা সিনেমার চিত্রনায়ক ও বিজেপির বিধায়ক হিরণ চ্যাটার্জি। ব্যক্তিগত জীবনে অনিন্দিতা চ্যাটার্জির সঙ্গে ঘর বেঁধেছেন। তাদের ২৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে নাইসা নামে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে; যার বয়স ১৯ বছর। গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশ করে দ্বিতীয় বিয়ের ঘোষণা দেন হিরণ। তার দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম ঋত্বিকা গিরি। ২১ বছর বয়সি ঋত্বিকা পেশায় একজন মডেল। 

বিয়ের নানা মুহূর্তের ছবি দ্রুত অন্তর্জালে ছড়িয়ে পড়ে; শুরু হয় চর্চা। পরে তা সোশ্যাল মিডিয়া থেকে মুছে ফেলেন হিরণ। কিন্তু এ নিয়ে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েছেন ‘নবাব নন্দিনী’খ্যাত এই নায়ক। কারণ অনেকে জানতেন হিরণের প্রথম সংসার ভেঙে গেছে। কিন্তু সত্যিটা তা নয়। প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্স না দিয়েই দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন হিরণ। কেবল তাই নয়, তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বয়স কন্যার বয়সের। এসবের মধ্যে অনেকে সংশয় প্রকাশ করেছেন—“এটি কোনো প্রচারের কৌশলও হতে পারে!” 

আরো পড়ুন:

অনিন্দিতা তার স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের ছবি দেখে রীতিমতো বিস্মিত। বিস্ফোরক কিছু মন্তব্যও করেছেন ভারতীয় গণমাধ্যমে। অনিন্দিতা বলেন, “কয়েক বছর আগে আমরা আলাদা থাকতাম ঠিকই, কিন্তু কদিন আগে আমরা আবার একসঙ্গেই ছিলাম। গত বছর নভেম্বরে মেয়ের জন্মদিন সেলিব্রেট করতে ব্যাংকক গিয়েছিলাম। আমাদের তো ডিভোর্স ফাইলই হয়নি। হিরণের এই বিয়েটা তো অবৈধ। মেয়ের অবস্থা চোখে দেখা যাচ্ছে না। কোনো কথা বলছে না। বাবার এরকম খবর এলে কী করতে পারে একটা মেয়ে?” 

ঋত্বিকা গিরির সিঁথিতে সিঁদুর পরাচ্ছেন হিরণ


এ ঘটনার পর হিরণের সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি অনিন্দিতার। তবে হিরণের দাদা-বৌদির সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে তার। ২৫ বছর বিবাহিত জীবন পার করার পর হিরণের এমন কাজে তারাও স্তম্ভিত। এসব তথ্য জানিয়ে অনিন্দিতা বলেন, “ওই মেয়েটিকে খড়গপুরের পার্টি অফিসে, প্রচারে আগেও দেখেছি। যখন যেতাম দেখতাম অনেক মেয়ের সঙ্গেই তো ও ঘুরঘুর করত। একটা আঁচ করতে পেরেছিলাম, কিন্তু হঠাৎ এরকম হবে বুঝতে পারিনি।” 

মেয়ের সঙ্গে অনিন্দিতা


এর আগেও নানাভাবে মানসিক নির্যাতন করেছেন হিরণ। অনিন্দিতার ভাষায়—“এর আগেও আমরা মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে গিয়েছি। অনেকরকম ট্রমা আছে। আমার মেয়ের পেলপিটিশন হয়, ডাক্তার দেখাতে হয়েছে—এসব থেকেই হয়েছে। একজন বাবা হয়ে কর্তব্য-জ্ঞানহীন, জঘন্য বাবা থাকলে এসব তো ফেস করতে হবেই। দুঃখ তো আমরা পছন্দ করে নিয়ে আসি না, এটা দুঃখের যে এরকম একটা লোকের সঙ্গে থাকি। সবচেয়ে কাছের লোক সবচেয়ে বেশি যন্ত্রণা দেয়।” 

অনেকেই বলছেন এটা প্রচারের একটা কৌশল। আপনার কী অভিমত? এ প্রশ্নের জবাবে অনিন্দিতা বলেন, “আমি ঠিক জানি না। পলিটিক্সটা তো ভালো বুঝি না। তবে এই ঘটনায় মানসিকভাবে খুব ক্ষতি হয়েছে আমার আর মেয়ের। আইনি পদক্ষেপ তো নেবই।” 

অনিন্দিতা


বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার পারদ চড়তে থাকলেও নীরব ভূমিকায় রয়েছেন হিরণ। ভারতীয় একাধিক গণমাধ্যম তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য সমস্ত প্রশ্নের জবাব দিতে পারে। আপাতত তারই অপেক্ষায় হিরণের ভক্ত-অনুরাগীরা। 

ঢাকা/শান্ত

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়