পাকিস্তান আইডলে বাংলাদেশের দুই বিচারক
রাজা বশির, হোমায়েরা বশির
পাকিস্তানের জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘পাকিস্তান আইডল’-এর অতিথি বিচারক হিসেবে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী, সুরকার ও গীতিকার বশির আহমেদের দুই উত্তরসূরি। তারা হলেন—শিল্পী হোমায়েরা বশির ও শিল্পী রাজা বশির। সম্প্রতি করাচি সফরে যান তারা।
আন্তর্জাতিক মানের রিয়েলিটি শো ‘পাকিস্তান আইডল’-এ প্রথমবারের মতো বিদেশি দেশ হিসেবে অতিথি বিচারক আমন্ত্রণ জানানো হয়। বিশেষ এই পর্বের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘ভালোবাসা ও বন্ধুত্ব’।
এই পর্বে বিচারকের আসনে হোমায়েরা ও রাজা বশিরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের পপ সম্রাট আলমগীর, উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী রাহাত ফতেহ আলী খান, বিলাল মাকসুদ এবং যেব বাঙ্গেশ।
এ প্রসঙ্গে হোমায়েরা বশির ও রাজা বশির বলেন, “সর্বপ্রথম আমরা তেপান্তর ভাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। তিনিই আমাদের দেশের কিংবদন্তি অভিনেত্রী শবনম আন্টির কাছে আমাদের ফোন নম্বরটি পৌঁছে দেন।”
অভিনেত্রী শবনমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন হোমায়েরা বশির ও রাজা বশির। কারণ তিনিই পাকিস্তানের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী ও সুরকার তানভীর আফ্রিদির সঙ্গে তাদের পরিচয় করিয়ে দেন। বলে রাখা ভালো, তানভীর আফ্রিদি পাকিস্তান আইডলের ডিরেক্টর অব ট্যালেন্ট।
এই সফর নিয়ে অনুভূতি প্রকাশ করে হোমায়েরা বশির বলেন, “আমরা অকল্পনীয় ভালোবাসা ও সম্মান পেয়েছি। আমাদের বাবা শিল্পী বশির আহমেদের প্রতি এবং তার গানের প্রতি মানুষের যে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা দেখেছি, তা আমাদের আবেগাপ্লুত করেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতি তাদের সম্মান আমাদের গর্বিত করেছে।”
রাজা বশির বলেন, “সবকিছুই যেন স্বপ্নের মতো মনে হয়েছে। আমাদের বাবার প্রতি এবং আমাদের দেশের প্রতি যে আকাশছোঁয়া সম্মান প্রদর্শন করা হয়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।”
করাচি সফরের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে হোমায়েরা ও রাজা বশির জানান, তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও বাংলা গানের মান অক্ষুণ্ন রাখা, পাশাপাশি বাবা-মায়ের সম্মান বজায় রাখা।
অতিথি বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তারা দু’জনই অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন। সংগীত পরিবেশনার শুরুতে তারা গেয়ে শোনান বাংলা জনপ্রিয় গান ‘ওগো প্রিয়তমা’, যা বশির আহমেদ ও মীনা বশিরের গাওয়া বিখ্যাত দ্বৈতকণ্ঠের গান।
পরবর্তীতে বশির আহমেদের উর্দু সিনেমায় গাওয়া কয়েকটি জনপ্রিয় গান পরিবেশন করেন তারা। গানগুলো হলো—‘হাম চালে ছোড় কার’, ‘ইয়ে মৌসম ইয়ে মাস্ত নজারে’, ‘তুম জো মিলে প্যায়ার মিলা’, ‘ইয়ে সামা প্যায়ারা প্যায়ারা’।
ছয় দিনের সফল ও সম্মানজনক সাংস্কৃতিক সফর শেষে হোমায়েরা বশির ও রাজা বশির দেশে ফিরেন।
ঢাকা/রাহাত/শান্ত