চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন শামস সুমন
শামস সুমন
যে শহরে শিল্পকর্মের যাত্রা শুরু করেছিলেন, সেই রাজশাহী শহরে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন অভিনেতা শামস সুমন। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজশাহী নগরের হেতেম খাঁ গোরস্তানে তাকে সমাহিত করা হয়।
গতকাল দুপুরের আগেই ঢাকা থেকে শামস সুমনের মরদেহ রাজশাহীতে পৌঁছায়। জোহরের নামাজের পর নগরের ঝাউতলা এলাকার মিঠুর মোড়ে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও স্থানীয় মানুষের উপস্থিতিতে তাকে শেষবিদায় জানানো হয়।
গত ১৭ মার্চ সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন শামস সুমন। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এ অভিনেতার বয়স হয়েছিল ৬১ বছর। ১৮ মার্চ সকালে রাজধানীর চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় তার প্রথম জানাজা। এতে সহকর্মী, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বহু ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর রাজশাহীতে দ্বিতীয় জানাজা শেষে দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এক সময়ের টিভি নাটকের জনপ্রিয় অভিনেতা শামস সুমন মঞ্চ থেকে ছোট পর্দা এবং বড় পর্দা দাপিয়ে বেড়িয়েছেন। নব্বইয়ের দশকের শেষভাগ থেকে টেলিভিশন নাটকে অভিনয় শুরু করেন। দুই দশকেরও বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে অসংখ্য জনপ্রিয় নাটকে অভিনয় করেছেন। তবে ইদানীং টেলিভিশন নাটক থেকে দূরে ছিলেন।
অভিনেতা শামস সুমন ‘রেডিও ভূমি’তে স্টেশন চিফ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তুখোড় এই অভিনেতা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবৃত্তি সংগঠন স্বননের সদস্য।
২০১৩ সালে নায়করাজ রাজ্জাক পরিচালিত ‘আয়না কাহিনী’ শিরোনামে একটি সিনেমায় সর্বশেষ অভিনয় করেন শামস সুমন। তার অভিনীত চলচ্চিত্রগুলো হলো—মন জানেনা মনের ঠিকানা (২০১৬) কক্সবাজারে কাকাতুয়া (২০১৬) চোখের দেখা (২০১৬), প্রিয়া তুমি সুখী হও (২০১৪), আয়না কাহিনী (২০১৩), বিদ্রোহী পদ্মা (২০০৬), জয়যাত্রা (২০০৪), নমুনা (২০০৮), হ্যালো অমিত (২০১২), জয়যাত্রা (২০০৪)।
২০০৮ সালে ‘স্বপ্নপূরণ’ চলচ্চিত্রে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন এই অভিনেতা।
ঢাকা/শান্ত