আমার মেয়ের কোনো ভুলত্রুটি থাকলে ক্ষমা করে দেবেন: কায়সার হামিদ
বিনোদন ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
কারিনা কায়সার, কায়সার হামিদ
গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা ৩০ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদ বাবা–মেয়ের একটি হাসিখুশি ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে আমার প্রাণপ্রিয় আদরের মেয়ে কারিনা কায়সার একটু আগে চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমাদের ছেড়ে ওপারে চলে গেছে।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সক্রিয় কায়সার হামিদ। পরিবারকে ঘিরে নানা মুহূর্ত, বিশেষ করে মেয়ে কারিনা কায়সার–কে নিয়ে তার পোস্ট অনেকের নজর কাড়ত। কখনো জন্মদিন, কখনো পারিবারিক আড্ডা, আবার কখনো সাধারণ কোনো মুহূর্ত—বাবা–মেয়ের হাসিমাখা ছবিগুলো ছিল অনুসারীদের কাছে পরিচিত দৃশ্য। সেই হাসিখুশি পরিবারেই গতকাল গভীর রাতে নেমে আসে শোকের ছায়া।
স্ট্যাটাসে কায়সার হামিদ আরও লেখেন, “আমার মেয়ের কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে কিংবা কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে আপনারা তাকে ক্ষমা করে দেবেন। যারা এই দুঃসময়ে আমাদের পাশে ছিলেন, দোয়া করেছেন, সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। দোয়া করবেন সবাই, আল্লাহ তাকে বেহেশত নসিব করুক।”
লিভার–সংক্রান্ত জটিলতায় মারা গেছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার। উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়ার পর গতকাল সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৩০ বছর। তিনি মা–বাবা ও দুই ভাই রেখে গেছেন। বরেণ্য দাবাড়ু রানী হামিদ তার দাদি।
কয়েক দিন ধরেই সংকটাপন্ন অবস্থায় ছিলেন কারিনা। প্রথমে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। পরে গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে চেন্নাই নেওয়া হয়। সেখানে ভেলোরের খ্রিষ্টান মেডিকেল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছিল।
গতকাল গণমাধ্যমকে কায়সার হামিদ জানান, ফুসফুসে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার সময় হঠাৎ কারিনার রক্তচাপ অনেক নিচে নেমে যায়। এরপর চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও তাকে বাঁচাতে পারেননি।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হন কারিনা। পরে তার শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। একই সঙ্গে হেপাটাইটিস এ ও ই–জনিত জটিলতায় তার লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। চেন্নাইয়ে নেওয়ার পর তার ফুসফুসের চিকিৎসা শুরু হয়েছিল। এরপর লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতিও চলছিল।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পেলেও সাম্প্রতি অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখার কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন কারিনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্ট তরুণ দর্শকদের কাছে তাকে জনপ্রিয় করে তোলে। পরে ওটিটি ও নাটকের জগতেও ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও কাজ করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’।
কারিনার মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর শোবিজ অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মী, নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী ও ভক্তরা তার স্মৃতিচারণা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোক প্রকাশ করছেন।
ঢাকা/লিপি