ঢাকা     শনিবার   ১৬ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ২ ১৪৩৩ || ২৮ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

পাহাড়ে এক দিনের হাসপাতাল, চিকিৎসা পেল ৫ হাজার মানুষ

কুমিল্লা প্রতিনিধি  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:৫১, ১৫ মে ২০২৬  
পাহাড়ে এক দিনের হাসপাতাল, চিকিৎসা পেল ৫ হাজার মানুষ

কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ের মকবুল টিলায় মানবিকতার অন্যরকম আয়োজন। পাহাড়ি পথ বেয়ে সকাল থেকেই মানুষ আসছিল। কারও কোলে শিশু, কারও হাতে লাঠি। কেউ হাঁপাতে হাঁপাতে উঠছেন টিলার চূড়ায়, কেউ আবার দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন চিকিৎসকের দেখা পাওয়ার আশায়।

লালমাই পাহাড়ের মানুষের কাছে চিকিৎসা মানেই সাধারণত ভোগান্তির আরেক নাম। সামান্য অসুস্থতা নিয়েও যেতে হয় শহরে। পরিবহন খরচ ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেকেই চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পান না। বিশেষ করে, নারী ও বৃদ্ধদের জন্য এ কষ্ট যেন আরো বেশি।

তাই শুক্রবার (১৫ মে) লালমাইয়ের মকবুল টিলায় যখন এক দিনের জন্য গড়ে ওঠে অস্থায়ী হাসপাতাল, তখন সেটি শুধু চিকিৎসা ক্যাম্প ছিল না, ছিল মানুষের স্বস্তির ও ভরসার জায়গা।

এসএসসি ২০০২ ও এইচএসসি ২০০৪ ব্যাচের বন্ধুদের উদ্যোগে আয়োজিত এই ব্যতিক্রমী চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলে চিকিৎসাসেবা। প্রায় ৬০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ৭০টি বুথে বসে সেবা দেন পাহাড়ি এলাকার মানুষদের।

চোখের সমস্যা, ডায়াবেটিস, নাক-কান-গলাসহ নানা রোগের চিকিৎসা নিতে আসেন হাজারো মানুষ। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, দিনব্যাপী এই ক্যাম্পে প্রায় ৫ হাজার মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন।

শুধু চিকিৎসাসেবাই নয়, রোগীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় ওষুধ। পাশাপাশি বিতরণ করা হয়েছে গাছের চারা ও নতুন পোশাকও। পাহাড়ি জনপদে যেন এক দিনের জন্য হয়েছিল মানবসেবার উৎসব।

চিকিৎসা ক্যাম্পে সবচেয়ে বেশি ভিড় ছিল নারী ও বৃদ্ধদের। অনেক নারী প্রথমবারের মতো নিজেদের শারীরিক সমস্যার কথা খোলামেলাভাবে চিকিৎসকদের জানিয়েছেন। শিশুদের এলার্জিজনিত সমস্যা থেকে শুরু করে বার্ধক্যজনিত নানা রোগ নিয়েও চিকিৎসা নিতে আসেন অনেকে।

স্থানীয়রা বলছেন, এমন আয়োজন এই অঞ্চলের মানুষের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। কারণ, প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দেখা পাওয়া প্রায় অসম্ভব। এক জায়গায় এত চিকিৎসককে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ডা. কমরুল ইসলাম মামুন বলেছেন,“আমাদের চেষ্টা ছিল প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার। আমরা প্রতিবছরই এমন আয়োজন করে থাকি। এবার কুমিল্লার প্রত্যন্ত অঞ্চলে করেছি। সেখানে হাজারো মানুষের ঢল নেমেছিল চিকিৎসাসেবা নেওয়ার জন্য।”

দিন শেষে সূর্য যখন পাহাড়ের আড়ালে ঢলে পড়ছিল, তখনও অনেকের হাতে ছিল ওষুধের প্যাকেট, কারও হাতে নতুন পোশাক, কারও হাতে গাছের চারা। সবচেয়ে বড় বিষয় ছিল— পাহাড়ের মানুষ সেদিন সঙ্গে করে নিয়ে গেছেন একটু স্বস্তি, একটু যত্ন আর মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসার অনুভূতি।

ঢাকা/রুবেল/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়