শিক্ষার্থীদের ভালোবাসায় সিক্ত বিদায়ী নোবিপ্রবি উপাচার্য
নোবিপ্রবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
বিদায়বেলায় জুলাই বিপ্লবের স্মৃতিবিজড়িত দেয়ালম্যাট উপাচার্যকে উপহার দেন শিক্ষার্থীরা
আবেগঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বিদায় নিলেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল। শুক্রবার (১৫ মে) বিদায়ের মুহূর্তে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও এলাকাবাসীর ভালোবাসা-শ্রদ্ধায় সিক্ত হন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে বিদায়ী উপাচার্য উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। দায়িত্ব পালনকালে কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে তার জন্য সবার কাছে ক্ষমা চান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য সবার সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন তিনি।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, “দীর্ঘ ১৮ মাস আপনাদের সঙ্গে ছিলাম। আজ বড় একটি আমানত থেকে মুক্ত হয়েছি। দায়িত্ব পালনকালে আমার যত অর্জন সবকিছু আপনাদের সহযোগিতায় হয়েছে। আপনারা সবসময় আমাকে সহযোগিতা করেছেন। যত ব্যর্থতা, তার সব আমার কাঁধে নিলাম। ভুল-ত্রুটি হয়ে থাকলে আপনারা আমাকে ক্ষমা করবেন। আমার জন্য দোয়া করবেন, আমার পরিবারের জন্য দোয়া করবেন।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, “একদিন নোবিপ্রবি এ দেশের নাম উজ্জ্বল করবে। সংশ্লিষ্ট সকলের প্রচেষ্টায় সে দিনের প্রত্যাশা করছি। আমি যতটুকু পেরেছি চেষ্টা করেছি। আশা করছি, নতুন উপাচার্য মহোদয় এ বিশ্ববিদ্যালয়কে আরো উন্নতির শিখরে নিয়ে যাবেন। সবাই ভালো থাকবেন।”
নামাজ ও বক্তব্য শেষে মসজিদ প্রাঙ্গণে অভূতপূর্ব ও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। উপস্থিত সাধারণ মুসল্লি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিদায়ী উপাচার্যকে জড়িয়ে ধরে কোলাকুলি করেন। এ সময় দীর্ঘদিনের প্রিয় অভিভাবককে বিদায় জানাতে গিয়ে উপস্থিত সকলে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। অনেক শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ডুকরে কাঁদতে দেখা যায়। উপাচার্যের চোখের পাতাও অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়ে।
মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় চারদিক থেকে শত শত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ তাকে ঘিরে ধরেন এবং তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। নারী শিক্ষার্থীরাও মসজিদের বাইরে দাঁড়িয়ে প্রিয় উপাচার্যকে বিদায় জানান।
পরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইলকে সংক্ষিপ্ত সংবর্ধনা দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং জুলাই বিপ্লবের স্মৃতিবিজড়িত বিশেষ চিত্র সম্বলিত একটি দেয়ালম্যাট (ওয়ালম্যাট) উপহার দেন।
উপস্থিত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল। সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করে অশ্রুভেজা চোখে মসজিদ প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন তিনি। প্রিয় শিক্ষকের বিদায়বেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
ঢাকা/শফিউল্লাহ/শান্ত
২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ১২ জনের মৃত্যু