ঢাকা     শুক্রবার   ১৫ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ১ ১৪৩৩ || ২৮ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

কোরবানির ঈদের আগে অস্থির বাজার: পেঁয়াজ-আদা-সবজির দামে দিশেহারা ক্রেতারা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:৪৩, ১৫ মে ২০২৬   আপডেট: ১৯:৪৮, ১৫ মে ২০২৬
কোরবানির ঈদের আগে অস্থির বাজার: পেঁয়াজ-আদা-সবজির দামে দিশেহারা ক্রেতারা

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীর কাঁচাবাজারে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজ, আদা ও ডিমের দাম বৃদ্ধিতে নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ মানুষের। রাজধানীর কাপ্তান বাজার ও রায়েরবাগসহ বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবজির দাম এখনও চড়া। ক্রেতাদের অভিযোগ, মধ্যস্বত্বভোগীদের সিন্ডিকেটের কারণেই বাজার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। তবে, বিক্রেতারা এর দায় চাপাচ্ছেন পাইকারি বাজারের ওপর।

পেঁয়াজ ও আদার বাজারে ‘আগুন’
শুক্রবার (১৫ মে) সকালে রাজধানীর বাজারগুলোতে দেখা গেছে, দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫০ টাকা কেজি দরে। মাত্র এক সপ্তাহ আগেও এই পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৩৫-৪০ টাকায়। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে আদার দাম; এখন আদা কেজিপ্রতি ১৭০-১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রান্নার নিত্যপ্রয়োজনীয় এই দুই পণ্যের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তরা।

আরো পড়ুন:

কাপ্তান বাজারের ক্রেতা সোহান ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সপ্তাহে সপ্তাহে জিনিসের দাম বাড়ছে। আমাদের বেতন বাড়ে না, কিন্তু বাজার এখন আগুন। পেঁয়াজ-আদা তো রান্নার নিত্য জিনিস, সিন্ডিকেট এটার ওপরও হাত দিল!”

ডিম ও মাংসের পরিস্থিতি
ডিমের বাজারে গত সপ্তাহ থেকেই অস্থিরতা চলছে। ডজনপ্রতি ডিম ১৩০-১৩৫ টাকা থেকে বেড়ে এখন ১৫০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। কোথাও কোথাও হালি প্রতি ডিম ১৫ টাকা দরেও বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে, মুরগির বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা লক্ষ করা গেছে। ব্রয়লার মুরগি ১৭০-১৮৫ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩০০-৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

স্বস্তি নেই সবজির বাজারেও
সবজির বাজারে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ সবজিই এখন সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। পেঁপে ৬০-৮০ টাকা এবং বেগুন ৯০-১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ঢ্যাঁড়স, চিচিঙ্গা, ও ধুন্দল বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকায়। করলা ও বরবটি বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা কেজি দরে।

রায়েরবাগ বাজারের ক্রেতা সালমা বেগম বলেন, “আগে ২০০ টাকায় ব্যাগ ভরে বাজার করা যেত। এখন শুধু কয়েকটা সবজি কিনতেই ১০০-১৫০ টাকা লাগে। ঈদের আগে এমন অবস্থা হলে আমরা চলব কীভাবে?”

ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেট ইস্যু
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, তারা অসহায়। কাপ্তান বাজারের বিক্রেতা আব্দুল কাদের বলেন, “আমরা ইচ্ছা করে দাম বাড়াই না। পাইকারি বাজারে প্রতিদিন ১-২ টাকা করে দাম বাড়ছে। বেশি দামে কিনে আমাদেরও বেশি দামে বেচতে হয়।” 

তবে, রায়েরবাগ বাজারের বিক্রেতা মো. শফিক ইঙ্গিত দিলেন বড় ব্যবসায়ীদের কারসাজির দিকে। তিনি বলেন, “কৃষকের হাত থেকে পেঁয়াজ এখন বড় ব্যবসায়ীদের গুদামে। চাহিদা বাড়লে তারা দাম বাড়িয়ে দেয়, আমাদের কিছু করার থাকে না।”

ভোক্তাদের মতে, রমজানের ঈদে যারা সুযোগ পায়নি, সেই অসাধু সিন্ডিকেট এখন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বাজার অস্থিতিশীল করছে। বাজার মনিটরিং বা তদারকি জোরদার না হলে ঈদের আগে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা/এএএম/রফিক

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়