২১ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ার
প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলার রোমাঞ্চের অপেক্ষায় মুশফিকুর
ক্রীড়া প্রতিবেদক, সিলেট থেকে || রাইজিংবিডি.কম
২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে টেস্ট খেলার অপেক্ষায় বাংলাদেশ। ডারউইন ও ম্যাকাইতে হবে দুটি টেস্ট ম্যাচ। ডারউইনের মারারা ওভালে প্রথম টেস্ট শুরু হবে ১৩ আগস্ট। ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় দ্বিতীয় টেস্ট ২২ অগাস্ট থেকে।
দুটি টেস্টই টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ। এবারের সফরে আর কোনো ম্যাচ খেলবে না বাংলাদেশ। ২৩ বছর আগে ২০০৩ সালে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সবশেষ টেস্ট খেলেছিল। এবার লম্বা সময় পর দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলার জন্য বাংলাদেশের অস্ট্রেলিয়ার দুয়ার খুলল। বাংলাদেশের জন্য এই সিরিজটি বিরাট পাওয়া।
বাংলাদেশের সবচেয়ে অভিজ্ঞ টেস্ট ক্রিকেটার মুশফিকুর। শততম টেস্ট খেলে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিলেট টেস্ট তার ১০২ নম্বর টেস্ট। এরপর অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে সাদা পোশাকে খেলবেন তিনি।
শুনতে আশ্চর্যজনক মনে হলেও, ২১ বছরের দীর্ঘ লম্বা ক্যারিয়ারে মুশফিকুর এখনো অস্ট্রেলিয়ায় কোনো দ্বিপক্ষীয় সিরিজের ম্যাচ খেলেননি। ২০০৫ সালে তার অভিষেকের দুই বছর আগে বাংলাদেশ সবশেষ টেস্ট খেলেছিল। এরপর ২০০৮ সালে ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল বাংলাদেশ। তখন উইকেট কিপার ছিলেন ধীমান ঘোষ।
লর্ডসে মুশফিকুরের অভিষেক ২০০৫ সালে। এরপর লর্ডসে আবারও খেলা হয়েছে তার। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলা হয়নি। বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেট খেলা হয়নি। ২০১৫ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলেছিল কয়েকটি ম্যাচ। এবার টেস্ট খেলার সুযোগ পাওয়ায় নিশ্চিতভাবেই খুশি। তবে রোমাঞ্চ লুকানোর চেষ্টা করলেন, ‘‘অস্ট্রেলিয়ার ব্যাপারে…কাল কী হবে, কে বলতে পারে! ইনশাআল্লাহ, যদি সুযোগ আসে এবং আমরা যাই, তাহলে আমি বলব আমার ক্যারিয়ারে এখনো পর্যন্ত সেখানে খেলার সুযোগ হয়নি। কোনো বাইল্যাটারাল সিরিজেও না, কোনো টেস্টেও না। যদি আল্লাহ সুযোগ দেন, আমি অবশ্যই দেশের হয়ে খেলতে পারলে খুবই খুশি হব।’’
‘‘হ্যাঁ, সুযোগ তো করে দিয়েছে (অস্ট্রেলিয়া)। এখন যেটা বললেন, এত বছর ধরে যেটা হয়নি, এখন সেটার সুযোগ এসেছে এবং এই বছর যেহেতু ট্যুর আছে, এটা আমাদের জন্য একটা চ্যালেঞ্জও। আমি মনে করি, এটা সহজ হবে না, কিন্তু অন্তত আমাদের কাছে একটা সুযোগ আছে ভালো কিছু করার।’’
মুশফিকুরের মতে, ‘‘আমরা গত তিন-চার বছর ধরে টেস্ট ক্রিকেটে যে উন্নতি করেছি, সেটাও এখন দেখানোর একটা ভালো সুযোগ হবে।’’
বাংলাদেশের স্কোয়াড এখন অনেকটাই পেস নির্ভর। তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা, ইবাদত হোসেন, শরিফুল ইসলামরা দু্যতি ছড়িয়ে যাচ্ছেন ধারাবাহিকভাবে। বাইরে থাকা খালেদ আহমেদ, হাসান মাহমুদও বাড়িয়েছেন শক্তি।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পেসাররা সুস্থ থাকলে ভালো চ্যালেঞ্জ করতে পারবে বলে বিশ্বাস করেন মুশফিকুর, ‘‘আপনি যেটা বললেন, বিশেষ করে ওখানে কন্ডিশনটা আলাদা থাকে। পেস বোলারদের জন্য সহায়ক হয়। আমাদের পেস বোলাররাও খুব এক্সাইটেড। ইনশাআল্লাহ, তারা যদি সুস্থ থাকে এবং তাদের সেরা ফর্মে থাকে, আমরা আশা করি আমরা ওদের জন্যও কঠিন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারব।’’
ঢাকা/ইয়াসিন/আমিনুল
২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ১২ জনের মৃত্যু