বৈচিত্র্যকে বিভাজন নয়, জাতীয় শক্তিতে রূপ দিতে হবে: তথ্যমন্ত্রী
বাংলাদেশের ভাষা, ধর্ম, লিঙ্গ ও জাতিসত্তার বৈচিত্র্যকে বিভাজনের হাতিয়ার না বানিয়ে জাতীয় সম্পদে রূপান্তর করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
রাজধানীর পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সে শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে সিএইচটি ওয়েল ফেয়ার সোসাইটি আয়োজিত ‘বিজু, বৈসুক, সাংগ্রাই, বিষু ও চাংক্রান পুনর্মিলনী, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক উৎসব’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, “৫৬ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশ একটি দেহের মতো। এই দেহের প্রতিটি অংশ যেমন অপরিহার্য, তেমনি দেশের প্রতিটি জাতিসত্তা, ধর্মীয় ও ভাষাগত গোষ্ঠীও বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ।”
অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান, সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, মাধবী মার্মা ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতিত্ব করেন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক মেজর (অব.) তপন বিকাশ চাকমা।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “স্বাধীনতার পর জাতীয় পরিচয় নিয়ে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ এর ধারণার মাধ্যমে তার সমাধান দিয়েছিলেন। এই দর্শনের ভিত্তিতে ভাষা, বর্ণ, ধর্ম বা জাতিসত্তা নির্বিশেষে সব নাগরিক সমান মর্যাদার অধিকারী।”
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে ফেরার পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে পাহাড়ি ও সমতলের মানুষকে সমান নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সরকারও ভবিষ্যতে সমঅধিকারভিত্তিক রাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করবে।
মন্ত্রী বলেন, “যে সমাজ যত বেশি বৈচিত্র্য ধারণ করতে পারে, সেই সমাজ তত বেশি শক্তিশালী হয়।” উদাহরণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কথা টেনে তিনি বলেন, “বিভিন্ন ভাষা, বর্ণ ও সংস্কৃতির মানুষের সহাবস্থান দেশটিকে শক্তিশালী করেছে।”
তিনি বলেন, “যারা বৈচিত্র্যকে বিভাজনের পথে নিতে চায়, তারা দেশবিরোধী। আর যারা দেশের প্রতিটি জাতিসত্তা ও সম্প্রদায়কে সম্মান করতে চায়, তারাই প্রকৃত দেশপ্রেমিক।”
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, “পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ সুষম ও সমতাভিত্তিক উন্নয়নে বিশ্বাসী। খেয়াং, বম ও চাকসহ পিছিয়ে পড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীকে দেশের মূলধারা উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।”
তিনি বলেন, “এবারের নির্বাচনে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ বিপুল ভোটে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের তিনটি আসনেই জয়ী করেছেন।”
এজন্য তিনি পাহাড়ের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি, সম্প্রীতি ও কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা/আসাদ/সাইফ
২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ১২ জনের মৃত্যু