Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     সোমবার   ১৭ মে ২০২১ ||  জ্যৈষ্ঠ ৩ ১৪২৮ ||  ০৪ শাওয়াল ১৪৪২

রোজার গুরুত্ব ও ফজিলত

মুফতী মাহফূযুল হক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:৪৪, ২১ এপ্রিল ২০২১   আপডেট: ১২:০৫, ২১ এপ্রিল ২০২১
রোজার গুরুত্ব ও ফজিলত

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি হচ্ছে রমজান মাসের রোজা। সূরা বাকার ১৮৫ নং আয়াতের দ্বারা দ্বিতীয় হিজরীতে রোজা উম্মতের উপর ফরজ করা হয়েছে। তাই রমজানের রোজাকে কেউ যদি অস্বীকার করে তাহলে সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে।

রমজানের রোজা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, আবার এর প্রতিপালনের উপর অনেক বড় পুরস্কারেরও ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন: আল্লাহ্ তাআলা বলেন: রোজা আমারই জন্য। আমি নিজে এর প্রতিদান দেব। আমার বান্দা আমার জন্য পানাহার ছেড়ে দেয়, কামনা-বাসনা ছেড়ে দেয়। রোজাদারের জন্য দু’টি খুশি। একটি খুশি ইফতারের সময়। আরেকটি খুশি আমার সঙ্গে তার সাক্ষাতের সময়। রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট  মিশকের সুগন্ধের চেয়েও উত্তম। (বুখারি : ৭৪৯২)

রোজা জাহান্নাম থেকে বাঁচার একটি ঢাল। যেমন তোমাদের কাছে আছে হত্যা থেকে বাঁচার ঢাল। উত্তম রোজা হচ্ছে প্রত্যেক মাসের তিনটি রোজা। (সহিহ ইবনে খুযাইমা : ২১২৫)

আবু উমামা বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমাকে এমন একটি কাজের নির্দেশ দিন যার দ্বারা আমি জান্নাতে প্রবেশ করব। তিনি বললেন: ‘তোমার জন্য অপরিহার্য হলো রোজা রাখা। কেননা এর কোনো তুলনা নেই’।

সুতরাং মেহমানের আগমন ব্যতীত আবু উমামার বাড়ি থেকে দিনের বেলা কখনো ধোঁয়া উঠতে দেখা যেত না। তার বাড়ি থেকে দিনের বেলা ধোঁয়া উঠতে দেখলেই মানুষ বুঝত, আজ তার বাড়িতে মেহমান আছে। (সহিহ ইবনে হিব্বান: ৩৪২৫)

যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে একদিন রোজা রাখবে আল্লাহ তাআলা তার ও জাহান্নামের মাঝে একটি পরিখা তৈরি করে দেন। যা আকাশ ও জমিনের দূরত্বের মতো। (তিরমিজি : ১৬২৪)

জান্নাতে একটি ফটক আছে। তার নাম রাইয়্যান। কেয়ামতের দিন রোজাদারগণ সেই ফটক দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে। অন্য কেউ সেই ফটক দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। ঘোষণা দেওয়া হবে: রোজাদারগণ কোথায়? তখন তারা উঠবে। তারা ছাড়া অন্য কেউ যাবে না। যখন তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে তখন রাইয়্যান ফটক বন্ধ করে দেওয়া হবে। সুতরাং আর কেউ এ ফটক দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। (বুখারি : ১৮৯৬)

আমার উম্মতকে রমজান মাসে পাঁচটি জিনিস দান করা হয়েছে, যা আমার আগে কোনো নবীকেই দান করা হয়নি। প্রথম, রমজান মাসের প্রথম রাত যখন আসে তখন আল্লাহ তাআলা তাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করেন। আর যার উপর তাঁর দৃষ্টি পড়ে তাকে তিনি কখনো শাস্তি দেবেন না। দ্বিতীয়, তাদের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মিশকের সুবাসের চেয়েও উত্তম। তৃতীয়, ফেরেশতারা তাদের জন্য প্রত্যেক দিন ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকেন। চতুর্থ, আল্লাহ্ তাআলা জান্নাতকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, তুমি আমার বান্দাদের জন্য তৈরি হও এবং সজ্জিত হও। অতি শীঘ্রই তারা দুনিয়ার ক্লান্তি থেকে আমার ঘরে ও আমার সম্মানে স্বস্তি চাইবে। পঞ্চম, যখন শেষ রাত আসে তখন তাদের ক্ষমা করে দেওয়া হয়। একজন জিজ্ঞাসা করল, এটা কি কদরের রাতে? তিনি বললেন, না। তুমি কি মজদুরদের দেখনি যে, তারা যখন কাজ থেকে অবসর পায়, তখন তাদের মজুরি পুরোপুরি প্রদান করা হয়। (কানযুল উম্মাল)

যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে একদিন রোজা রাখবে আল্লাহ তাআলা তাকে জাহান্নাম থেকে এতটা দূরে সরাবেন, একটা কাক শৈশব থেকে বৃদ্ধ হয়ে মরা পর্যন্ত উড়ে যতটা দূরে সরে যায়। (শুআবুল ঈমান : ৩৩১৮)

হাদিসে বর্ণিত রোজার ফজিলত ও ছওয়াবগুলো লাভের জন্য রোজার সব আদব ও নিয়ম রক্ষায় আন্তরিক থাকা জরুরি।

* তারাবি ব্যক্তিকে নিষ্পাপ করে

* ইফতারের আগে দোয়া কবুল হয়

* সেহরি বরকতের খাবার

* কুরআনের মাসে ফিরে আসুন কুরআনের ছায়ায়

* শয়তানকে বন্দি করা হয়েছে মাহে রমজানে

ঢাকা/তারা

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়