বইমেলায় কাজী রাফির নতুন উপন্যাস ‘রাজকুমারী মারিয়া এবং মরুর জীবন্ত লাশ’
নিউজ ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
অনিন্দ্যপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত হয়েছে কাজী রাফির নতুন উপন্যাস ‘রাজকুমারী মারিয়া এবং মরুর জীবন্ত লাশ’।
উপন্যাসের ফ্ল্যাপে লেখা হয়েছে, এই উপন্যাসের প্রথম খণ্ডে ঔপন্যাসিক রাজ-পরিবা্রের বাস্তব চরিত্র নিয়েছেন এবং তৈরি করেছেন কল্পনার এক রহস্যঘন অ্যাখ্যান। উপন্যাসটির এই খণ্ডে আমরা দেখি –আফ্রিকার নির্জন মরুর সান স্টেডিয়াম এলাকায় একদল সেনা ঘিরে ফেলে পালিয়ে থাকা বৃদ্ধ নাবিক, সৈকত এবং ব্যোহেমিয়ান-ভ্রমণপিপাসু ডাচ রাজকন্যাকে। সেনাদের জালে আটকা পরলেও বৃদ্ধ নাবিক অথবা সৈকত অবাক হয় তাদের কিছু না জানিয়েই উধাও হয়েছে মারিয়া! ডাচ রাজপ্রাসাদে বন্দী নাবিকের তিনমাস পর মৃত্যুদণ্ড নির্ধারণ করা হয়। তার জীবন বাঁচানোর শর্ত হিসেবে সৈকতকে এই তিন মাসের মধ্যে মারিয়া বা ডাচ রাজকন্যাকে উদ্ধার করতে সময় বেঁধে দেয় ডাচ কিং। সুতরাং সৈকতকে প্রচুর অর্থকড়ি দিয়ে পুনরায় ছেড়ে দেওয়া হয় আফ্রিকায়। কিন্তু এই অচেনা আফ্রিকার মরুতে কোথায় পালিয়েছে কিশোরী রাজকন্যা ? মরুতে সৈকত অজ্ঞান অবস্থায় নিজেকে খুঁজে পায় একটা উটের পিঠে। সাহেইল রিজিয়নে নাইজার নদীর উদ্দেশে পথচলা একটা রাখাল দলের আদামাকে নিয়ে শুরু হয় সৈকতের রোমাঞ্চকর অভিযান। তারা জানতে পারে, সাহারা মরুভূমির দিকে অ্যাবেইবারারাতে একজন গুহামানবের কথা। যিনি সব লুকানো রহস্য বলে দিতে পারেন। পথে চলতে চলতে যুদ্ধরত একদল সেনাবাহিনীর জালে তারা আটকে পড়ে। সেখান থেকে পরিত্রাণ পর্বটা যতটা রোমাঞ্চকর তার চেয়েও হাস্যরসে পরিপূর্ণ। আদামা এবং সৈকত একটা আর্মি পিক আপ নিয়ে এক সময় পলায়ন করে। নির্জন মরুতে হঠাৎ একটা মুড়ির টিন টাইপ যান দেখে সৈকতের মনে হয় রাজকুমারী হয়তো মাকিনার সাথে সেই গাড়িতেই অ্যাবেইবারারাতে যাচ্ছে। কিন্তু রাজকুমারী্র সাক্ষাৎ না পেলেও তারা বিশালদেহী তরুণী ইরাকে পেয়ে যায়। যে তার শরীরের আস্তিনের ভিতর লুকিয়ে রাখে বিরাট এক তরবারি এবং যাকে ধাওয়া করছে এক গোত্রপতি। ইরা’কে নিয়ে শুরু হয় নতুন এক অভিযান। কিন্তু একদিন তারা দেখে সেই গোত্রপতি তার দলবল আর তরবারিসহ দ্রুতগতিতে এগিয়ে আসছে তাদের দিকে। কীভাবে তারা বাঁচবে? ইরা, সৈকত এবং আদামা জলতেষ্টায় কূপ খুঁজতে খুঁজতে এক অদ্ভুত গ্রামে গিয়ে পৌঁছায়। এখানে সেখানে ছড়ানো কয়েকটা বাড়িতে উঁকি দিতেই তাদের আত্মা খাঁচারাম হয়ে ওঠে। কংকালসার এক একটা লাশ যেন জীবন্ত চোখ নিয়ে তাকিয়ে আছে অনন্তকাল। সেই মৃত্যুপুরিতে একজনও জীবিত মানুষ নেই! কিন্তু সৈকত অবাক হয় নেটওয়ার্কহীন সেই নির্জন সাহারার কাছে, বহুদিন আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া তার মোবাইল ফোনটা অদৃশ্য কোনো শক্তিতে ‘অন’ হয়ে গেছে। সৈকত, আদামা আর ইরা কি আর ফিরতে পারবে মরুর জীবন্ত লাশপুরী থেকে? সৈকত কি আর কোনোদিনই রাজকুমারী মারিয়ার সন্ধান পাবে না? পা পারলে বৃদ্ধ নাবিককে তো মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে! কী করবে তারা এখন? বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তর, রহস্যময় প্রকৃতি বিচিত্র জাতি-গোষ্ঠী, আদিম উপজাতি এবং তাদের জীবনকে তুলে আনাই শুধু নয়, কাজী রাফির এই ধারাবাহিক উপন্যাস বিশেষত কিশোর মননকে আলোকিত করতে, তাদের জীবন-জিজ্ঞাসার স্থানটিকে স্পষ্ট করে শনাক্ত করতেও সাহায্য করবে।
‘রাজকুমারী মারিয়া এবং মরুর জীবন্ত লাশ’ এর প্রচ্ছদ করেছেন ধ্রুব এষ। বইটির মূল্য রাখা হয়েছে ৩০০ টাকা। বইমেলায় এটি পাওয়া যাবে ৫৬৫-৫৬৬-৫৬৭-৫৬৮-৫৬৯ নম্বর স্টলে।
উল্লেখ্য, কাজী রাফি তার প্রথম উপন্যাস ‘ধূসর স্বপ্নের সাসান্দ্রা’র জন্য পেয়েছেন ‘এইচএসবিসি কালি ও কলম পুরস্কার- ২০১০’ এবং ‘এমএস ক্রিয়েশন সম্মাননা-২০১০’। উপন্যাস এবং ছোটগল্পে অসামান্য অবদানের জন্য পেয়েছেন ‘নির্ণয় স্বর্ণপদক-২০১৩’, ‘এমএস রাহী পদক ২০১৯’, একান্নবর্তী-রণজিৎ বিশ্বাস স্মৃতি সম্মাননা-২০২৪’।
ঢাকা/লিপি