ঢাকা     শনিবার   ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ৩ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

নিরাপত্তা গ্যারান্টি নিয়ে ওয়াশিংটনে ইউক্রেনীয় প্রতিনিধি দল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:৪৫, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬  
নিরাপত্তা গ্যারান্টি নিয়ে ওয়াশিংটনে ইউক্রেনীয় প্রতিনিধি দল

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ছবি: রয়টার্স

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের ‘নিরাপত্তা গ্যারান্টি’  ও যুদ্ধ পরবর্তী ‘পুনর্গঠন’ প্যাকেজ নিয়ে আলোচনার দেশটির একটি প্রতিনিধি দল যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন। তিনি আরো জানান, আগামী সপ্তাহে দাভোসে অনুষ্ঠিতব্য ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সাইডলাইনে এই সংক্রান্ত নথিগুলো স্বাক্ষরিত হতে পারে। খবর রয়টার্সের।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) চেক প্রেসিডেন্ট পেত্র পাভেলের সঙ্গে কিয়েভে এক সংবাদ সম্মেলনে জেলেনস্কি বলেন, প্রায় চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টার বিষয়ে রাশিয়ার অবস্থান আসলে কী, সে সম্পর্কেও কিয়েভের প্রতিনিধি দলটি ওয়াশিংটনের কাছ থেকে স্পষ্ট ধারণা পাওয়ার আশা করছে।

আরো পড়ুন:

ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান আলোচনা প্রসঙ্গে জেলেনস্কি বলেন, “আমি মনে করি আমরা মার্কিন পক্ষের সঙ্গে ভালো কাজ করেছি, তবে কিছু বিষয়ে আমাদের মধ্যে এখনো মতভিন্নতা রয়েছে।”

চলতি সপ্তাহের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন যে, তিনি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে জেলেনস্কির সঙ্গে দেখা করতে পারেন।

জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেনের ব্যয়বহুল যুদ্ধোত্তর পুনরুদ্ধারের জন্য অর্থ ছাড় করতে একটি ‘উন্নতি প্যাকেজ’ এবং ভবিষ্যতে রাশিয়ার আক্রমণ ঠেকাতে মার্কিন নিরাপত্তা গ্যারান্টি সংক্রান্ত নথিপত্র তৈরির কাজ ইউক্রেন সম্পন্ন করেছে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের মতে, দেশটির যুদ্ধোত্তর পুনর্গঠনের জন্য প্রায় ৮০০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে।

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ওলগা স্টেফানিষিনা জানান, আজ শনিবার মিয়ামিতে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় ইউক্রেনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশ নেবেন। তিনি ফেসবুকে একটি পোস্টে লেখেন, ‘এই সফরের উদ্দেশ্য হলো মার্কিন অংশীদারদের সঙ্গে এই চুক্তিগুলো চূড়ান্ত করা’ এবং এগুলো ‘দাভোসে স্বাক্ষরিত হতে পারে’ বলেও তিনি যোগ করেন।

ইউক্রেনীয় প্রতিনিধি দলে প্রেসিডেন্ট দপ্তরের প্রধান কিরিলো বুদানভ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রুস্তেম উমেরভ ও জেলেনস্কির সংসদীয় দলের প্রধান দাভিদ আরাখামিয়া রয়েছেন।

ওয়াশিংটন ইউক্রেনকে একটি শান্তি কাঠামোর বিষয়ে একমত হতে চাপ দিচ্ছে, যা পরবর্তীতে রাশিয়ার কাছে উপস্থাপন করা হবে। অন্যদিকে, কিয়েভ ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা নিশ্চিত করতে চায় যেন ভবিষ্যতে ইউক্রেন পুনরায় রাশিয়ার আক্রমণের শিকার না হয়।

নির্দিষ্ট কোনো প্রসঙ্গের উল্লেখ না করে জেলেনস্কি বলেন, “আমার মতে, আল্টিমেটাম বা চরমপত্র প্রদান দেশগুলোর মধ্যে গণতান্ত্রিক সম্পর্কের জন্য কোনো কার্যকর মডেল নয়।”

প্রায়ই সময়ই জেলেনস্কির সমালোচনা করে আসা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বুধবার বলেন, রাশিয়া একটি শান্তি চুক্তির জন্য প্রস্তুত, কিন্তু জেলেনস্কি কম প্রস্তুত। ট্রাম্পের এমন মন্তব্য ইউরোপীয় মিত্রদের সম্পূর্ণ বিপরীত।

শুক্রবার জেলেনস্কি পাল্টা অভিযোগে বলেন, রাশিয়া শান্তি প্রচেষ্টায় বাধা সৃষ্টি করছে। মস্কোর আসল উদ্দেশ্য প্রমাণ করতে তিনি ইউক্রেনের জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর সাম্প্রতিক রুশ হামলার কথা উল্লেখ করেন। সংবাদ সম্মেলনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, “আমাদের জ্বালানি খাত এবং শহরগুলোতে এই প্রতিটি হামলা রাশিয়ার প্রকৃত স্বার্থ ও উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে দেয়: তারা কোনো চুক্তিতে আগ্রহী নয়, বরং ইউক্রেনকে আরো ধ্বংস করতে চায়।”

সংবাদ সম্মেলনে জেলেনস্কি ইউক্রেনের বিদ্যুৎ গ্রিড রক্ষায় আরো আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য জোর দাবি জানান। তিনি বলেন, শুক্রবার সকালে নতুন একটি সহায়তা প্যাকেজ পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত বেশ কিছু আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্রহীন অবস্থায় ছিল। সাংবাদিকদের জেলেনস্কি বলেন, “এই (সহায়তা) প্যাকেজগুলোর জন্য আমাদের রক্ত দিয়ে, মানুষের জীবন দিয়ে লড়াই করতে হচ্ছে।”

ঢাকা/ফিরোজ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়