ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ‘আমাকে ছুঁলে ইরান পৃথিবী থেকে মুছে যাবে’
আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হুমকির চেষ্টা করে, তাহলে দেশটিকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য তিনি ‘খুবই কঠোর’ নির্দেশনা দিয়েছেন। দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘নিউজ নেশন’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে জর্ডানের সংবাদমাধ্যম রোয়া নিউজ।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘নিউজ নেশন’-এর কেটি প্যাভলিচকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেবে। তিনি বলেন, “যদি কিছু ঘটে, তাহলে তারা (মার্কিন বাহিনী) তাদের (ইরানকে) পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলবে। আমি এ বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর নির্দেশ জারি করেছি।”
২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণার সময় জো বাইডেন আমলের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ট্রাম্পকে ‘তাকে হত্যার কথিত ইরানি হুমকির’ বিষয়ে অবহিত করেছিলেন। সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মেরিক গারল্যান্ড জানিয়েছিলেন যে, এই ষড়যন্ত্রটি ছিল ২০২০ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে মার্কিন হামলায় ইরানি জেনারেল কাসেম সোলেইমানি হত্যার প্রতিশোধ।
ইরানি হুমকির বিরুদ্ধে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বাইডেন জোরালো পদক্ষেপ না নেওয়ায় সমালোচনা করেন ট্রাম্প। মঙ্গলবার নিউজ নেশনকে তিনি বলেন, তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের এই বিষয়ে ‘কিছু বলা উচিত ছিল’।
ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, একজন প্রেসিডেন্টকে কেবল তার পদ নয়, বরং হুমকির মুখে থাকা ব্যক্তিদেরও রক্ষা করতে হবে। তিনি আরো বলেন, “হুমকি যদি প্রেসিডেন্টের পরিবর্তে অন্য কাউকে লক্ষ্য করেও দেওয়া হয়, তবুও আমি কঠোরভাবে তার জবাব দেব।”
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য হিলের খবর অনুসারে, ট্রাম্প এর আগেও বলেছিলেন যে, ইরান যদি তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হুমকির চেষ্টা করে তাহলে দেশটিকে ধ্বংস করার নির্দেশনা তিনি দিয়ে রেখেছেন। গত বছর দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ইরানের সরকারের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগ ও তাদের মোকাবিলায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দিয়ে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করার পর তিনি এই মন্তব্য করেছিলেন।
সেই সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, “তারা (ইরান) তা করেনি এবং সেটি করা তাদের জন্য একটি ভয়াবহ বিষয় হবে। আমার জন্য নয়- বরং তারা যদি অন্য কিছু লক্ষ্যবস্তু করে, তাহলে তারা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। ওখানেই সব শেষ। আমি নির্দেশনা দিয়ে রেখেছি, যদি তারা এটি করে, তাহলে তারা ধ্বংস হয়ে যাবে, কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। আর তাদের এটি করার সামর্থ্য থাকা উচিত নয়।”
গত সপ্তাহে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সতর্ক করে বলেছিলেন, দেশটির সর্বোচ্চ আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে খামেনিকে লক্ষ্য করে কোনো হামলা চালানো হলে সেটিকে পূর্ণ মাত্রার যুদ্ধ ঘোষণা হিসেবে গণ্য করা হবে। পেজেশকিয়ানের সেই বক্তব্যের পরই ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারি এলো।
গত ডিসেম্বরের শেষের দিকে চরম অর্থনৈতিক মন্দার কারণে ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়, যা চলতি মাসের শুরুতে সরকারবিরোধী সহিংস আন্দোলনে রূপ নেয়। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবর অনুসারে, ইরানে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অন্তত ৫ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য।
ট্রাম্প ইরানের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যাতে তারা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য হাজার হাজার মানুষকে হত্যা না করেন। তবে ইরানের অভ্যন্তরে এই ‘নাশকতা ও হত্যাকাণ্ডের’ জন্য খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছেন।
গত শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খামেনি বলেন, “আমরা দেশটিকে যুদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে চাই না। তবে, আমরা দেশের ভেতরের অপরাধীদেরও ছেড়ে দেব না। অভ্যন্তরীণ অপরাধীদের চেয়েও ভয়াবহ হলো আন্তর্জাতিক অপরাধীরা! আমরা তাদেরও ছাড় দেব না।”
এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কের মধ্যে চরম অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং এ অঞ্চলে একটি সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এক প্রতিবেদনে জানায়, মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘আব্রাহাম লিংকন’ মালাক্কা প্রণালী অতিক্রম করে উত্তর আরব সাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এটি মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বঙ্গোপসাগর এবং ভারত মহাসাগর অতিক্রম করার সময় রণতরীটি তার ‘অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম’ বন্ধ করে রেখেছিল, যা সাধারণত সামরিক নিরাপত্তার স্বার্থে করা হয়।
ঢাকা/ফিরোজ