ঢাকা     বুধবার   ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ১৪ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক ফার্স্ট লেডির কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:৩২, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১৫:৩৮, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক ফার্স্ট লেডির কারাদণ্ড

সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে সাবেক ফার্স্ট লেডি কিম কিয়ন হি

দক্ষিণ কোরিয়ার একটি আদালত দেশটির সাবেক ফার্স্ট লেডি কিম কিয়ন হিকে ঘুষ গ্রহণের দায়ে এক বছর আট মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন। দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপ জানিয়েছে, ইউনিফিকেশন চার্চের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। খবর আল-জাজিরার।

বুধবার (২৭ জানুয়ারি) সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট হিকে শেয়ার বাজার কারসাজি ও রাজনৈতিক তহবিল আইন লঙ্ঘনের অন্যান্য অভিযোগগুলো থেকে খালাস দিয়েছে। দেশটির ক্ষমতাচ্যুত ও দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের স্ত্রী হলেন হি।

আরো পড়ুন:

হির বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে, তিনি ইউনিফিকেশন চার্চসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে অন্তত ২ লাখ ডলার মূল্যের ঘুষ ও বিলাসবহুল উপহার গ্রহণ করেছেন।

প্রসিকিউশন টিম ইউনিফিকেশন চার্চের নেতা হান হাক-জাকেও অভিযুক্ত করেছে, যার বিচার বর্তমানে চলমান। ধারণা করা হচ্ছে, এই ধর্মীয় গোষ্ঠীটি প্রেসিডেন্টের স্ত্রীর ওপর প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে তাকে ‘শ্যানেল’ ব্র্যান্ডের দুটি হ্যান্ডব্যাগ এবং একটি হীরার নেকলেসসহ মূল্যবান সামগ্রী উপহার দিয়েছিল।

গত ডিসেম্বরে প্রসিকিউটররা বলেছিলেন, হি নিজেকে ‘আইনের ঊর্ধ্বে’ মনে করতেন। তিনি ধর্মীয় গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগসাজশ করে রাষ্ট্রের ধর্ম ও রাজনীতির সাংবিধানিক পৃথকীকরণকে ক্ষুণ্ণ করেছেন।

প্রসিকিউটর মিন জুং-কি জানান, হির ক্ষমতার অপব্যবহারের ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তবে সাবেক ফার্স্ট লেডি হি তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। গত মাসে তার শেষ সাক্ষ্যে তিনি এই অভিযোগগুলোকে ‘গভীরভাবে অন্যায্য’ বলে দাবি করেন। তবে ‘গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও ঝামেলার সৃষ্টি করার জন্য’ তিনি ক্ষমাও চেয়েছেন।

ডিসেম্বরে তিনি বলেছিলেন, “আমার ভূমিকা এবং আমাকে দেওয়া দায়িত্বগুলোর কথা বিবেচনা করলে এটি স্পষ্ট যে আমি অনেক ভুল করেছি।”

হির স্বামী, দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল গত বছর ক্ষমতাচ্যুত হন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তার নেওয়া হঠকারী সামরিক আইন জারির পদক্ষেপের জন্য তাকে ইতিমধ্যে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্য একটি মামলায় ইওল এমনকি মৃত্যুদণ্ডেরও সম্মুখীন হতে পারেন।

২০২৩ সালে একটি গোপন ক্যামেরায় হিকে ২ হাজার ২০০ ডলার মূল্যের একটি বিলাসবহুল হ্যান্ডব্যাগ গ্রহণ করতে দেখা যায়। এই ঘটনাটি ‘ডিয়র ব্যাগ কেলেঙ্কারি’ নামে পরিচিতি পায়, যা ইওলের জনপ্রিয়তায় ধস নামিয়েছিল। এই কেলেঙ্কারি ২০২৪ সালের এপ্রিলের সাধারণ নির্বাচনে ইওলের দলের শোচনীয় পরাজয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিল।

ইওল তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্তের তিনটি বিলে ভেটো দিয়েছিলেন। সর্বশেষ ভেটোটি ছিল ২০২৪ সালের নভেম্বরে। এর এক সপ্তাহ পরেই তিনি সামরিক আইন জারি করেন।

হির এই সাজা ঘোষণার মাত্র কয়েক দিন আগেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী হান ডাক-সুকে ২৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে, তিনি ইওনের সামরিক আইন জারির সিদ্ধান্তে সহায়তা করেছিলেন।

ঢাকা/ফিরোজ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়