ন্যাটো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
পশ্চিমা সামরিক জোট ‘ন্যাটো’ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে মিত্রদেশগুলোর অনীহার পর এটি মার্কিন মিত্রদের প্রতি তার নতুন হুমকি। খবর সিএনবিসির।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ৭৭ বছরের পুরোনো এই রক্ষণাত্মক জোটকে একটি ‘কাগজের বাঘ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ইরান যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর তিনি ন্যাটোর সদস্যপদ পুনর্বিবেচনা করবেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “ওহ হ্যাঁ, আমি বলব এটি পুনর্বিবেচনারও ঊর্ধ্বে।”
বুধবার (১ এপ্রিল) প্রকাশিত এই সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমি কখনোই ন্যাটোর মাধ্যমে প্রভাবিত হইনি। আমি সব সময় জানতাম তারা একটি কাগজের বাঘ এবং প্রসঙ্গত পুতিনও তা জানেন।”
সিএনবিসির প্রতিবেদন বলছে, ইরান নিয়ন্ত্রিত গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস চলাচলের পথ- হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে ইউরোপীয় মিত্রদের যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে অস্বীকৃতি এবং ইরানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়েছেন।
ইউরোপীয় নেতারা হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার যেকোনো প্রচেষ্টাকে অত্যন্ত বিপজ্জনক হিসেবে দেখছেন, কারণ ইরান ক্রমাগত সেইসব ট্যাঙ্কারে হামলা চালাচ্ছে যেগুলোকে তারা ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ দেশ হিসেবে বিবেচনা করে না।
ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের এই যুদ্ধ একটি ব্যক্তিগত পছন্দ, যা শুরু করার আগে তাদের সঙ্গে পরামর্শ করা হয়নি। এছাড়া, ইরাক বা আফগানিস্তানের মতো মধ্যপ্রাচ্যে আরও একটি ‘অন্তহীন যুদ্ধে’ জড়ানোর বিষয়েও তাদের মধ্যে অনীহা রয়েছে।
ট্রাম্প ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই অনীহাকে তিনি ন্যাটোর পক্ষ থেকে আমেরিকার প্রতি এক ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখছেন- বিশেষ করে ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার চার বছরের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করার পর। তবে বিরোধীদের মতে, ন্যাটো কোনো আক্রমণাত্মক অভিযানের জন্য নয়, বরং সম্মিলিত প্রতিরক্ষার ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-কে বলেন, তিনি আশা করেছিলেন মিত্ররা ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করার অনুরোধ মেনে নেবে।
তিনি বলেন, “সেখানে উপস্থিত না থাকা তো পরের কথা, এটা বিশ্বাস করাই কঠিন ছিল। আমি খুব বেশি জোর দিয়ে কিছু বলিনি, শুধু বলেছিলাম ‘হ্যালো’। আমি ভেবেছিলাম এটি স্বয়ংক্রিয় হওয়া উচিত।”
তিনি আরো বলেন, “আমরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাশে দাঁড়িয়েছি, ইউক্রেনসহ। ইউক্রেন আমাদের সমস্যা ছিল না। এটি ছিল একটি পরীক্ষা, এবং আমরা তাদের পাশে ছিলাম। অথচ তারা আমাদের পাশে ছিল না।”
এর আগে গত মঙ্গলবার ট্রাম্প যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সকে সতর্ক করে বলেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ‘আর তোমাদের সাহায্য করতে আসবে না’। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেন, “ফ্রান্স তাদের ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে ইসরায়েলগামী সামরিক সরঞ্জামবাহী মার্কিন বিমান উড়তে দেয়নি।”
অন্য একটি পোস্টে তিনি যুক্তরাজ্যের কড়া সমালোচনা করেন এবং হরমুজ প্রণালিতে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, যাদের জ্বালানি সংকট দেখা দিচ্ছে তারা যেন হয় যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল কেনে, অথবা সাহস সঞ্চয় করে নিজেরাই হরমুজ প্রণালি দখল করে নেয়।
বুধবার প্রকাশিত মন্তব্যে ট্রাম্প ব্রিটিশ নৌবাহিনীকে কটাক্ষ করে বলেন, “আপনাদের তো নৌবাহিনীই নেই। আপনারা বড্ড সেকেলে হয়ে গেছেন এবং আপনাদের বিমানবাহী রণতরীগুলোও অকেজো।”
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “আমি তাকে বলব না কী করতে হবে। তিনি যা খুশি করতে পারেন। স্টারমার শুধু দামি উইন্ডমিল (বায়ুকল) চান, যা আপনাদের জ্বালানি খরচ আকাশচুম্বী করে দিচ্ছে।”
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও-সহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরান যুদ্ধ শেষ হলে ওয়াশিংটন ন্যাটোর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি ‘পুনর্বিবেচনা’ করবে।
বুধবার (১ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে এই সমালোচনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “ইরান যুদ্ধে যোগ দেওয়ার জন্য আমার ওপর অনেক চাপ রয়েছে, কিন্তু আমি আমার অবস্থান পরিবর্তন করব না। আওয়াজ বা চাপ যাই থাকুক, আমি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এবং আমাকে জাতীয় স্বার্থেই কাজ করতে হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নেওয়ার বদলে তিনি উভয় পক্ষের সঙ্গেই সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চান।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ইউরোপের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের শক্তিশালী সম্পর্কের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে।
ঢাকা/ফিরোজ
চার বছরে ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে: প্রধানমন্ত্রী