আসামে বাংলাদেশি মুসলমানদের পা ভেঙে রেখেছি : হিমন্ত বিশ্বশর্মা
কলকাতা ব্যুরো || রাইজিংবিডি.কম
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেছেন, “আসামের ধুবড়িতে ঈদের সময় গোমাংস খাওয়া লোকজন হিন্দুদের ঘরের সামনে গোমাংস রাখতে শুরু করে দিয়েছিল। আমি পুলিশকে বলেছিলাম, হিন্দুদের বাড়ির সামনে গোমাংস রাখবে দেখলেই সোজা গুলি মারবে। একদিনে গোমাংস রাখা বন্ধ হয়ে গেছে।”
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) শ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ভোট প্রচারে এসে এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তিনি।
শিলিগুড়ির ফাঁসিদেওয়ায় বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রীতিমত মুসলিমদের বিরুদ্ধে আগুন ছুড়ে দিয়েছেন হিমন্ত।
আসামের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এইযে মমতা দিদি আছেন সব সময় মিথ্যা কথা বলেন, মোদিজিকে সকালবেলা গালি দিতে থাকেন, আর বিকেলবেলা বাংলাদেশি মুসলমানদের কোলে তুলে রাখেন। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পুরো খোলা রয়েছে। সারাদিন বাংলাদেশিরা পশ্চিমবাংলায় আসছে। আর বাংলাদেশি মুসলমান আসার কারণেই মুসলমানের সংখ্যা পশ্চিমবাংলায় প্রতিদিন বাড়ছে, হিন্দুদের সংখ্যা কমছে। আসামে ৪০ শতাংশ বাংলাদেশি মুসলমান আছে। পশ্চিমবাংলায় ৩৩ থেকে ৩৫ শতাংশ বাংলাদেশি মুসলমান আছে। আগামী ২০ বছর যদি এভাবে চলতে থাকে তাহলে হিন্দুরা কোথায় যাবে?”
হিমন্ত বলেন, “আপনারা ভাবুন কিছুদিন পূর্বে বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর কী ধরনের অত্যাচার হয়েছে! আজ যদি আমরা সাবধান না হই ৩০ বছর পরে বাংলাদেশের মতোই অবস্থা হবে। এখন ত্রিপুরা এবং আসামে বাংলাদেশিরা আসতে পারছে না । এই কারণে মমতা ব্যানার্জি পশ্চিমবাংলার সীমান্ত খুলে রেখেছে। আর এরা এসে মমতাদিকে ভোট দিচ্ছে। মমতাদিকে ভোট দেওয়ার জন্য পুরো পশ্চিমবাংলা বাংলাদেশের সীমান্ত খোলা রেখেছে।”
তিনি আরো বলেন, “আপনাদের কাছে আমি আবেদন রাখব এবার পশ্চিমবাংলায় বিজেপি সরকার নিয়ে আসুন। ত্রিপুরায় বিজেপি সরকার আছে। আসামে বিজেপি সরকার আছে। পশ্চিমবাংলায় যদি বিজেপি সরকার চলে আসে তাহলে আমরা সবাই মিলে অনুপ্রবেশকারীদের লাথি মেরে দেশ থেকে ভাগিয়ে দেব। আজ কী হচ্ছে? আমি যদি আসাম থেকে ভাগিয়ে দিচ্ছি তাহলেও আবার পশ্চিমবাংলায় চলে আসছে। কোনো লাভ হচ্ছে না, শুধু লুকোচুরির খেলা চলছে। আসামে আমি রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশি মুসলমানদের পা ভেঙে রেখেছি। আমি এবার ভোটের সময় বলেছি, দেখো ভাই আমাকে ভোট দিতে হবে না। তোমাদের ভোট আমি চাই না, আমায় ভোট দিতেও হবে না। ভোটের পর এবার আমি রাজনৈতিকভাবে তোমাদের কোমর ভেঙে দেব। আমি এমন মুখ্যমন্ত্রী যে সোজাসুজি কথা বলে। আমার বাংলাদেশি মুসলমানদের কোন ভোট লাগবে না। আমার ভারতীয় সনাতনী হিন্দুদের ভোট লাগবে।”
এরপরেই বাবরি মসজিদ নিয়ে হিমন্ত বলেন, “এখন আবার এক হুমায়ুন কবিরের জন্ম হয়েছে, কী বলছে? আমি পশ্চিমবাংলায় বাবরি মসজিদ বানাব। পশ্চিমবাংলা তোমার বাপের জায়গা নাকি? একবার বাবরের মসজিদ বানাবে, একবার আওরঙ্গজেবের মসজিদ বানাবে, একবার শাজাহানের নামে মসজিদ বানাবে, তোমার অন্য কাজ নেই? একবার তৃণমূলকে সরিয়ে বিজেপি সরকার নিয়ে আসুন। এই বাবরওআলাদের এমন শিক্ষা দেব জীবনে ভুলে যাবে এটা কী ছিল।”
নিজের রাজ্যের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের তুলনা করে হিমন্ত বলেন, “প্রথমে আসামেও এরকম ভাবা হয়েছিল যে, এদের কিছু করা যাবে না। এদের সঙ্গে ভোট আছে। বিজেপি দেখিয়ে দিয়েছে যে, সনাতন যখন এক হয় তখন সনাতনের বিরুদ্ধে টক্কর নেওয়ার মতো কোনো লোক আজ পর্যন্ত ভারতবর্ষে জন্ম হয়নি। আমার মসজিদ বানানোতে কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু বাবরের নামে মসজিদ বানাতে হবে কেন? বাবরের নামে মসজিদ বাবরের দেশে বানানো উচিত। ভারতে নয়। আসাম ছোট রাজ্য, তাই আসামে সেঞ্চুরি মারবে বিজেপি। পশ্চিমবাংলা বড় রাজ্য, যার কারণে পশ্চিমবাংলায় ডাবল সেঞ্চুরি করতে হবে বিজেপিকে।”
পশ্চিমবঙ্গে গরুর মাংস বন্ধ করার হুমকি দিয়ে হিমন্ত বলেন, “মমতা ব্যানার্জি কেন মাছ মাংসের কথা বলছেন? উনিও জানেন আসামে, বিহারে বিজেপি সরকার আছে। সেখানে মানুষ মাছ-মাংস খায়। কিন্তু মমতা দিদি কী বলছে? বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলার মানুষ মাছ-মাংস খেতে পারবে না। মাছ-মাংস দিয়ে কি বোঝাতে চাইছেন? চিকেন মাটন এর কথা বলছেন না। মমতা দিদির ভয় বিজেপি সরকার এলে গরুর মাংস বন্ধ হয়ে যাবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কান্না করছেন একটাই কারণে যে, বিজেপি সরকার এলে পশ্চিমবাংলায় যদি গোমাংস বন্ধ হয়ে যায়! আমি মমতা দিদিকে বলছি, সত্যি সত্যি গোমাংস বন্ধ হতেও পারে।
ঢাকা/সুচরিতা/শাহেদ