ট্রাম্পের বেইজিং সফরের আগেই তাইওয়ান ইস্যুতে কঠোর অবস্থানে চীন
চীনের তাইওয়ান বিষয়ক দপ্তরের মুখপাত্র ঝাং হান
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের ঠিক আগ মূহূর্তে তাইওয়ান ইস্যুতে কঠোর অবস্থান প্রকাশ করেছে বেইজিং। খবর রয়টার্সের।
বুধবার (১৩ মে) চীনের ‘তাইওয়ান বিষয়ক দপ্তর’ এক কড়া বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাইওয়ানের স্বাধীনতার যেকোনো প্রচেষ্টা নস্যাৎ করতে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত এবং এই বিচ্ছিন্নতাবাদকে ‘গুঁড়িয়ে দেওয়ার’ ক্ষমতা চীনের রয়েছে।
বেইজিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দুই নেতার এই দুই দিনব্যাপী বৈঠকে তাইওয়ান ইস্যুটি আলোচনার তালিকায় থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত তাইওয়ানকে চীন দীর্ঘকাল ধরে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে। অন্যদিকে, তাইওয়ানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে বেইজিংয়ের এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
মঙ্গলবার (১২ মে) কোপেনহেগেন ডেমোক্রেসি সামিটে লাই চিং-তে তাইওয়ানকে একটি ‘সার্বভৌম ও স্বাধীন রাষ্ট্র’ এবং ‘গণতন্ত্রের বাতিঘর’ হিসেবে উল্লেখ করে জানান, তারা কোনো চাপের কাছেই নতি স্বীকার করবে না।
তবে বুধবার (১৩ মে) বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের তাইওয়ান বিষয়ক দপ্তরের মুখপাত্র ঝাং হান বলেন, “তাইওয়ান চীনের একটি অংশ, যা কখনোই কোনো আলাদা দেশ ছিল না। ভবিষ্যতেও হবে না।”
মুখপাত্র ঝাং হান বলেন, “লাই চিং-তে তার মিথ্যা কথা কতবার পুনরাবৃত্তি করলেন তাতে কিছু যায় আসে না, হাজার বার বললেও সেগুলো মিথ্যাই থাকবে। কখনোই সত্যে পরিণত হবে না।”
তিনি আরো যোগ করেন, “তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করার আমাদের সংকল্প পাথরের মতো দৃঢ়। তাইওয়ানের স্বাধীনতাকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার আমাদের সক্ষমতা অটুট।”
চীন তাইওয়ানকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য বলপ্রয়োগের বিষয়টি কখনোই নাকচ করেনি। তবে তারা বলছে যে, তাদের পছন্দের পথ হলো ‘শান্তিপূর্ণ পুনরেকত্রীকরণ’।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাইওয়ানের কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও, দেশটি তাইওয়ানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সমর্থক ও অস্ত্র সরবরাহকারী। গত ডিসেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন তাইওয়ানের জন্য ১১ বিলিয়ন ডলারের একটি অস্ত্র সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, যা এ যাবৎকালের মধ্যে সবচেয়ে বড়।
বিশ্ববাসীর নজর এখন ট্রাম্প-শি সম্মেলনের দিকে, যেখানে এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিরসনে কোনো কার্যকর পথ বেরিয়ে আসে কি না, সেটাই দেখার বিষয়।
ঢাকা/ফিরোজ
সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন মারা গেছেন