সিআইডির কব্জায় অনলাইন জুয়া চক্রের ৮ সদস্য
আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনলাইন জুয়ার সাইট নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে সংগ্রহ করে বিদেশে পাচার করছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এ চক্রের মূল হোতাসহ ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)।
রবিবার (১৭ মে) বিকেলে সিআইডি সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ।
তিনি জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করছিল। এসব সাইটে জুয়াড়িরা মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বিকাশ, রকেট ও নগদ, বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ক্রিপ্টো ওয়ালেট ব্যবহার করে অর্থ লেনদেন করত। অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ পরে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ডিজিটাল হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হতো।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষকে অনলাইন জুয়ার প্রতি প্রলোভিত করে তারা প্রায় ৬ মাস ধরে প্রতিদিন আনুমানিক ১ কোটি ৮০ লাখ থেকে ২ কোটি টাকা অবৈধভাবে লেনদেন করত এবং এর একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার করছিল।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— মো. আশরাফ উদ্দীন আহম্মেদ, সজীব চক্রবর্তী, মো. আশরাফুল ইসলাম, মো. জসীম উদ্দীন, তৈয়ব খান, সৌমিক সাহা, মো. কামরুজ্জামান ও আব্দুর রহমান।
সিআইডির প্রধান বলেন, সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের সাইবার মনিটরিং সেল নিয়মিত অনলাইন নজরদারির সময় দেখতে পায় যে, কিছু চক্র বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনলাইন জুয়ার সাইট বাংলাদেশে অবৈধভাবে পরিচালনা করছে। এসব সাইটে জুয়াড়িরা মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, রকেট, নগদ), ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ক্রিপ্টো ওয়ালেট ব্যবহার করে টাকা লেনদেন করছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে পল্টন মডেল (ডিএমপি) থানায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা করা হয়।
পরে প্রযুক্তির সহায়তায় পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে ৬ মে সিআইডির একটি দল ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের প্রথম ৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। তাদের দেওয়া তথ্য এবং সাইবার পুলিশ সেন্টারের অনলাইন সার্ভিলেন্স ডেটা নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করে শনিবার (১৬ মে) নরসিংদীর পলাশ থানা এবং ঢাকার ধানমন্ডি থানাধীন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের আরো ৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল ডিভাইস ও গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করা হয়। জব্দ করা আলামতের মধ্যে আছে—১৩টি মোবাইল ফোন ও ২০টি সিম কার্ড। অভিযান চলাকালে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের দুটি নির্দিষ্ট কাস্টমার কপিসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভুয়া এজেন্ট সিম পাঠানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কুরিয়ার রশিদও জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা অনলাইন গ্যাম্বলিং ও ডিজিটাল হুন্ডি কার্যক্রমের সঙ্গে তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। পাশাপাশি চক্রের একাধিক সদস্য স্বীকার করেছেন যে, ছয় মাসের বেশি সময় ধরে সংঘবদ্ধ এই চক্রটি অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে প্রলোভিত করে প্রতিদিন আনুমানিক ১ কোটি ৮০ লাখ থেকে ২ কোটি টাকা অবৈধভাবে সংগ্রহ করত। ওই অর্থের একটি বড় অংশ ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ডিজিটাল হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হতো।
ঢাকা/এমআর/রফিক