ত্বকে কোলাজেন বাড়ানোর প্রাকৃতিক উপায়
লাইফস্টাইল ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
ছবি: প্রতীকী
মুখে খাওয়া কোলাজেন শরীরে প্রবেশের পর অন্যান্য প্রোটিনের মতোই অ্যামিনো অ্যাসিডে ভেঙে যায়। এরপর তা সরাসরি ত্বকে গিয়ে বিশেষভাবে কাজ করে—এমন দাবির পক্ষে এখনো শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। শুনতে আকর্ষণীয় হলেও, এটি এখনো নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন ডায়েটে কিছু খাবার যোগ করে প্রাকৃতিকভাবে কোলাজেন উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।
মুরগির বুকের মাংস
আপনি যদি কখনও পুরো মুরগি কেটেছেন, তাহলে নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন পোলট্রিতে কত বেশি সংযোজক টিস্যু থাকে। এই টিস্যুগুলো মুরগিকে খাদ্য হিসেবে কোলাজেনের সমৃদ্ধ উৎস করে তোলে। ২০২২ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, মুরগির হাড় ও তরুণাস্থি থেকে পাওয়া কোলাজেন আর্থ্রাইটিস, প্রদাহসহ বিভিন্ন সমস্যায় উপকারী হতে পারে। তবে মুরগির সব অংশে সমান কোলাজেন নেই। উদাহরণস্বরূপ, বুকের মাংসের তুলনায় রান বা উরুর মাংসে কোলাজেন বেশি থাকে।
মাছের মাথা ও চোখ
অন্যান্য প্রাণীর মতো মাছের হাড় ও লিগামেন্টও কোলাজেন দিয়ে তৈরি। কেউ কেউ দাবি করেন, সামুদ্রিক কোলাজেন শরীরে সহজে শোষিত হয়। ২০২৩ সালের এক গবেষণা পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, এই ধরনের কোলাজেন শরীরে বেশি কার্যকরভাবে ব্যবহার হতে পারে এবং বিশেষ করে ত্বকের স্বাস্থ্য ও স্থিতিস্থাপকতায় সহায়ক হতে পারে। মাছের মাথা ও চোখ থেকে বেশি কোলাজেন পাওয়া যায়।
যদি এসব অংশ আপনার কাছে খুব আকর্ষণীয় না লাগে, তাহলে সামুদ্রিক কোলাজেন সাপ্লিমেন্ট চেষ্টা করতে পারেন।
ডিমের সাদা অংশ
ডিমে অন্যান্য প্রাণিজ খাবারের মতো সংযোজক টিস্যু না থাকলেও ডিমের সাদা অংশে প্রোলিন নামের অ্যামিনো অ্যাসিডের পরিমাণ বেশ বেশি। এটি কোলাজেন তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলোর একটি।
সাইট্রাস ফল
ভিটামিন সি শরীরে প্রো-কোলাজেন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রো-কোলাজেন হলো কোলাজেন তৈরির পূর্বধাপ। অর্থাৎ, ভিটামিন সি কোলাজেন উৎপাদনে সহায়তা করে।
কমলা, জাম্বুরা, লেবু ও লাইমের মতো সাইট্রাস ফলে প্রচুর ভিটামিন সি থাকে। সকালের নাশতায় গ্রিল করা জাম্বুরা খেতে পারেন, সালাদে কমলার টুকরা যোগ করতে পারেন কিংবা স্টির-ফ্রাইয়ে হলুদ ক্যাপসিকাম ব্যবহার করতে পারেন।
বেরিজাতীয় ফল
সাইট্রাস ফল ভিটামিন সি-এর জন্য বেশি পরিচিত হলেও স্ট্রবেরি, রাস্পবেরি, ব্লুবেরি ও ব্ল্যাকবেরিও এই পুষ্টির চমৎকার উৎস।
ডেভিডসন বলেন, “বেরিতে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা ত্বককে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে।”
ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল
ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফলের তালিকায় রয়েছে আম, কিউই, আনারস ও পেয়ারা। পেয়ারা আবার সামান্য জিঙ্কও সরবরাহ করে, যা কোলাজেন তৈরির আরেকটি সহায়ক উপাদান।
রসুন
রসুন শুধু রান্নার স্বাদই বাড়ায় না, এটি কোলাজেন উৎপাদনেও সহায়তা করতে পারে।
পাতাযুক্ত সবজি
স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকায় পাতাযুক্ত সবজি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এগুলো ত্বকের জন্যও উপকারী হতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ক্লোরোফিল গ্রহণ করলে ত্বকে কোলাজেনের পূর্বধাপের উৎপাদন বাড়তে পারে।
সূত্র: ডেইলি মেইল, হেলথলাইন
ঢাকা/লিপি