ভূমি উন্নয়ন কর রাষ্ট্রীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি: ভূমি উপদেষ্টা
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম
ভূমি উন্নয়ন কর রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব উৎস, যা স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিয়মিত ও স্থিতিশীল অর্থায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই করের অর্থ সড়ক যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সেচব্যবস্থা ও গ্রামীণ অবকাঠামোসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক খাতে ব্যয় করা হয়। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীর ভূমি ভবনের সম্মেলন কক্ষে ‘সংস্থার ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ে করণীয় নির্ধারণ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার।
তিনি বলেন, নিজ নিজ সংস্থার কর পরিশোধে উদাসীনতা রাষ্ট্রীয় রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং সমাজে নেতিবাচক বার্তা দেয়। নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের মাধ্যমে ভূমির মালিকরা শুধু আইনগত দায়িত্বই পালন করেন না, বরং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে সরাসরি অবদান রাখেন। কর ফাঁকি বা অবহেলা রাজস্ব ঘাটতির সৃষ্টি করে, যা উন্নয়ন কার্যক্রমকে ব্যাহত করে।
তিনি বলেন, নাগরিকদের দেওয়া করই আবার জনগণের কল্যাণে ফিরে আসে। সময়মতো ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ না হলে রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়। তাই দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে প্রত্যেক ভূমির মালিককে নিয়মিত ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করে রাষ্ট্র গঠনে অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি জানান, ডিজিটাল ভূমিসেবা চালুর ফলে ২০২০ সাল থেকে প্রতিবছর ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের হার ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। শুরুতে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও বর্তমানে শতভাগ অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ সম্ভব হচ্ছে। এতে হয়রানি কমেছে এবং কর পরিশোধে মানুষের আগ্রহ বেড়েছে।
উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, ভূমি উন্নয়ন করকে কেবল আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, বরং নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। নিয়মিত কর পরিশোধে ভূমির মালিকানাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় এবং ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা ও মামলা-মোকদ্দমার ঝুঁকি কমে।
কর্মশালায় জানানো হয়, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ মোট বকেয়ার পরিমাণ ৭১১ কোটি ২০ লাখ ৭৬ হাজার ২০০ টাকা। এ পর্যন্ত আদায় হয়েছে ৮২ কোটি ৫ লাখ ৯১ হাজার টাকা। জুন ২০২৫ পর্যন্ত বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের কাছে বকেয়া দাঁড়িয়েছে ৫৬১ কোটি ৭৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা। চলতি অর্থবছরে ভূমি উন্নয়ন করের দাবি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪৯ কোটি ৪২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। সবচেয়ে বেশি বকেয়া রয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ের, যার পরিমাণ ২২০ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) এ. জে. এম. সালাউদ্দিন নাগরী, যিনি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ. এস. এম. সালেহ আহমেদ, ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান (সিনিয়র সচিব) মোহাম্মদ ইউসুফ এবং ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) ড. মো. মাহমুদ হাসান। এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের প্রতিনিধিসহ ভূমি মন্ত্রণালয় ও এর অধীন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা/এএএম/জান্নাত