ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ৩০ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

লাঠিতে ভর দিয়ে ভোট, বয়স্ক-প্রতিবন্ধীদের জন্য কেন্দ্রে নেই বিশেষ ব্যবস্থা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:৫৮, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১৯:৫৮, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
লাঠিতে ভর দিয়ে ভোট, বয়স্ক-প্রতিবন্ধীদের জন্য কেন্দ্রে নেই বিশেষ ব্যবস্থা

অবসরপ্রাপ্ত মেজর আমিরুল ইসলাম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৮ আসনের উত্তরা স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর আমিরুল ইসলাম। বয়স প্রায় ৭৫। বয়সজনিত কারণে হাঁটাচলায় কষ্ট হয়, তাই লাঠিই তার ভরসা। তবু ১৫ বছর পর স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে কেন্দ্রে আসেন এই সাবেক সেনা কর্মকর্তা।

কিন্তু, কেন্দ্রে বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভোটারদের জন্য বিশেষ কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তাকে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে ভোট দিতে হয়েছে।

আরো পড়ুন:

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ভোট দিয়ে নিচে নামার পর তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, “বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকলে ভালো হতো। অনেকেরই সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠার সক্ষমতা নেই। ভোটকক্ষে যেতে আমারও অনেক কষ্ট হয়েছে।”

ভোট দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “১৫ বছর পর ভোট দিতে এসেছি। খুব ভালো লাগছে, ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না।”

একই কেন্দ্রে ভোট দিতে আসেন ৮২ বছর বয়সী মনোয়ারা খান। অসুস্থতা ও বয়সের ভারে চলাফেরা করতে কষ্ট হলেও দেশ সংস্কারের প্রত্যাশায় তিনি ভোট দিতে এসেছেন।

মনোয়ারা জানান, বয়স্কদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকলে ভোগান্তি কম হতো। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের গুরুত্বসহকারে দেখা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে শান্তিপূর্ণভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে ছোট-বড় সবার মধ্যে ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনা। তবে এবারের নির্বাচনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র উপযোগী ছিল না। বিশেষ করে প্রবেশপথ ও ভেতরে চলাচলের ক্ষেত্রে তেমন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা দেখা যায়নি।

ঢাকা-৮, ৯, ১০, ১১ ও ১৭ আসন ঘুরেও একই চিত্র দেখা গেছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সোসাইটি ফর দ্য চেঞ্জ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি নেক্সাসের (বি-স্ক্যান) সমন্বয়ক মাহফুজুর রহমান রাকিব বলেন, “জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বি-স্ক্যান ভোটকেন্দ্রগুলোর অবকাঠামো, পরিকল্পিত ব্যবস্থা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার সক্ষমতা পর্যালোচনায় একটি প্রবেশগম্যতা মূল্যায়ন পরিচালনা করেছে। এ মূল্যায়নে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের সুযোগ, ভেতরে চলাচল এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করা হয়।”

তিনি জানান, ২০২৬ সালের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ঢাকা, দিনাজপুর, ফরিদপুর ও মেহেরপুরের ২৮টি ভোটকেন্দ্রে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বি-স্ক্যানের নির্বাচনসংক্রান্ত কার্যক্রম ইউরোপীয় ইউনিয়ন ডেলিগেশন ও ইউরোপিয়ান পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসির সহায়তায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।

মাহফুজুর আরো বলেন, “সাধারণত বিদ্যালয়গুলো ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হলেও অধিকাংশ ভবনই প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রয়োজন অনুযায়ী উপযোগী নয়। অনেক ভবনে র‍্যাম্প থাকলেও সেগুলো ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় নেই বা সেখানে পৌঁছাতে প্রতিবন্ধীদের বাধার মুখে পড়তে হয়। তুলনামূলকভাবে নতুন ভবনগুলো কিছুটা প্রবেশগম্য হলেও পুরোনো ভবনগুলো এখনো অনুপযুক্ত। কিছু ক্ষেত্রে সামান্য পরিবর্তন আনলেই প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব। এছাড়া নির্মাণাধীন ভবনকেও ভোটকেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভোটাধিকার নিশ্চিতে উপযুক্ত নয়।”

ঢাকা/তানিম/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়