গাড়িতে টাকা পাওয়া নিয়ে ধূম্রজাল, এ্যানি ও পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির নিবাচনি কাজে ব্যবহৃত গাড়ি থেকে টাকা উদ্ধার নিয়ে ধূম্রজাল তৈরি হয়েছে। প্রথমে একটি টিভি চ্যানেলের অনলাইন সংস্করণে গাড়িটি থেকে ৮০ লাখ টাকা উদ্ধারের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে।
বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের কাছে টাকা পাওয়ার খবরের মধ্যে এ্যানির গাড়ি থেকে টাকা উদ্ধারের ঘটনার খবরটি ওই অনলাইন কিছু সময় পরই প্রত্যাহার করে নেয়। তবে, ধোঁয়াশা কাটেনি।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঘটনাটি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে ভিডিও বার্তা দিয়ে গাড়ি থেকে টাকা উদ্ধারের বিষয়টির ব্যাখ্যা দেন স্বয়ং শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।
ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “আমি শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। লক্ষ্মীপুরে নির্বাচনি কাজে ব্যস্ত রয়েছি। এর মধ্যে শুনতে পেলাম, আমার নির্বাচনি কাজে ব্যস্ত একটি গাড়ি তল্লাশি করা হয়েছে। আমার নির্বাচনি এজেন্ট সেই গাড়ি নিয়ে বিভিন্ন কেন্দ্রে যাচ্ছিলেন। ওই গাড়িতে নির্বাচনের এজেন্টদের প্রয়োজনীয় খরচের ১৫ লাখ টাকা ছিল। কর্তৃপক্ষ সেটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু একটি পক্ষ এটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে অপপ্রচার চালাচ্ছে।”
লক্ষ্মীপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহা. রেজাউল হক বলেন, “গাড়িতে টাকা পাওয়ার পর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে জানানো হয়। পরে আদালত পরিচালনা করে যাচাই-বাছাই করে গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া হয়। এটি নির্বাচনি তহবিলের বৈধ টাকা বলে নিশ্চিত হয়।”
প্রত্যক্ষদর্শী ও নির্বাচন অনুসন্ধান টিম সূত্র জানায়, নির্বাচনকালীন নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঝুমুর এলাকায় চেকপোস্ট বসায়। এ সময় কৃষক দল নেতা শ্যামল নির্বাচনকালীন ব্যবহৃত একটি গাড়িতে যাচ্ছিলেন।
সেই গাড়ি তল্লাশি করে ১৫ লাখ টাকা পাওয়া যায়। পরে শ্যামলকে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের চতুর্থ তলায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিচারক তাহরিনা আক্তার নওরিন তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ নির্দেশ দেন। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
শ্যামল জেলা কৃষক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও এ্যানির খালাতো ভাই। আটক গাড়ির সামনে ও পেছনে লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী নির্বাচনি পোস্টার সাঁটানো ছিল।
ঢাকা/লিটন/রাজীব