স্থানীয় সরকার নির্বাচনে থাকছে না প্রবাসীদের পোস্টাল ভোট
সাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া || রাইজিংবিডি.কম
ইসি ভবন। ফাইল ফটো।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছেন। তবে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সেই সুযোগ থাকছে না।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ের নির্বাচন দেশজুড়ে ধাপে ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি নির্বাচনের জন্য আলাদাভাবে প্রবাসীদের কাছে ব্যালট পাঠানো, তা সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই করা অত্যন্ত জটিল এবং ব্যয়সাপেক্ষ। এ কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রবাসীদের পোস্টাল ভোট গ্রহণ থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
তবে নির্বাচন কার্যক্রমে নিয়োজিত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যাতে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, সে জন্য তাদের পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
একজন নির্বাচন কমিশনার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পোস্টাল ভোট না থাকার প্রসঙ্গে রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “সামগ্রিকভাবে পোস্টাল ভোটের বিষয়টি বিকল্পভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালট চালু করা বাস্তবিক কারণে না থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে ব্যয়, সময় ও ব্যবস্থাপনার জটিলতা বড় চ্যালেঞ্জ।”
তিনি আরো বলেন, “যদি প্রবাসীরা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পোস্টাল ভোট দেওয়ার সুযোগ পান, তাহলে ন্যায়সংগত কারণে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও একই সুযোগ দিতে হবে। কিন্তু একটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেই বহু প্রশাসনিক ও কারিগরি বিষয় জড়িত থাকে। বিদেশ থেকে পোস্টাল ভোট গ্রহণ, প্রেরণ ও গণনা এসব কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সহজ নয়। এ কারণে বিষয়টির আইনগত ও বাস্তবিক দিকগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।”
সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ভোট
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে নিবন্ধন করেছিলেন মোট ১৫ লাখ ২৮ হাজার ১৩১ জন। এর মধ্যে ভোট প্রদান করেন ১২ লাখ ২৪ হাজার ১৮৮ জন, যা মোট নিবন্ধিত ভোটারের ৮০ দশমিক ১১ শতাংশ।
প্রদত্ত ভোটের মধ্যে রিটার্নিং অফিসারদের কাছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পৌঁছেছে ১১ লাখ ৬৫ হাজার ৫৯২টি ব্যালট, যা মোট নিবন্ধিত ভোটারের ৭৬ দশমিক ২৮ শতাংশ।
এসব ব্যালট যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং অফিসাররা বৈধ ঘোষণা করেছেন ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৪৯৭টি ভোট। যা মোট নিবন্ধিত ভোটারের ৭০ দশমিক ২৫ শতাংশ।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, ভোটের দিন বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে পৌঁছানো পোস্টাল ব্যালটই কেবল গণনায় অন্তর্ভুক্ত হবে। নির্ধারিত সময়ের পর পৌঁছানো ব্যালট গণনায় ধরা হয়নি।
প্রথমবারে পোস্টাল ভোটের এমন সাড়ায় সন্তুষ্ট ইসি।এ বিষয়ে ইসির আউট অব কান্ট্রি ভোটিং (ওসিভি) প্রকল্পের টিম লিডার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সালিম আহমেদ খান বলেন, "বৈশ্বিক বিবেচনায় পোস্টাল ভোটে আমরা ভালো সাড়া পেয়েছি। ভবিষ্যতে পোস্টাল ভোট আরো যুগোপযোগী করার বিষয়ে ভাবা হচ্ছে।”
পোস্টাল ভোটে কত ব্যয় করল ইসি
আইটিভিত্তিক পোস্টাল ব্যালট কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রায় ৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি কারিগরি প্রকল্প হাতে নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দুই বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের আওতায় এরইমধ্যে ২০ কোটির বেশি টাকা ব্যয় হয়েছে।
এছাড়া, প্রবাসীদের কাছে প্রতিটি ব্যালট পাঠাতে গড়ে ৭০০ টাকা এবং দেশের অভ্যন্তরে নিবন্ধিত ভোটারদের ক্ষেত্রে প্রতিটি ব্যালটে ২২ টাকা করে খরচ হয়েছে। শুধু এই খাতেই ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭০ কোটি টাকা।
এর বাইরে সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেসসহ অন্যান্য মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানে পোস্টাল ব্যালট, খাম, ঘোষণাপত্র ও সংশ্লিষ্ট সামগ্রী ছাপানোর জন্য আলাদা অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে ইসিকে। ইসির প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রায় ১০০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এখনও একাধিক বিল বকেয়া রয়েছে। সব মিলিয়ে পোস্টাল ব্যালট কার্যক্রমে মোট ব্যয় আরো বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঢাকা/এমএসবি/ইভা