ঢাকা     বুধবার   ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  ফাল্গুন ১২ ১৪৩২ || ৭ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

দক্ষ ভেটেরিনারিয়ান গড়তে বাকৃবির উদ্যোগ

বাকৃবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:৫৪, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  
দক্ষ ভেটেরিনারিয়ান গড়তে বাকৃবির উদ্যোগ

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ভেটেরিনারি শিক্ষাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘ভেটেরিনারি উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও সক্ষমতা শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে এ কর্মশালার আয়োজন করে ভেটেরিনারি অনুষদ। কর্মশালাটি বাস্তবায়িত হচ্ছে ‘হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট)’ প্রকল্পের আওতায়।

আরো পড়ুন:

কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজিমুদ্দিন খান। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা ও উন্নয়ন পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ উদ্দীন ভূঞা।

ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বাহানুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ড. এম আরিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ভেটেরিনারি বিভাগের সকল শিক্ষক ও অন্যান্য অনুষদের শিক্ষকরাও উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজিমুদ্দিন খান বলেন, “দেশে ভেটেরিনারি সায়েন্সে দক্ষ বিজ্ঞানীর সংখ্যা বাড়ছে। তবে তাদের কাজের যথাযথ প্রচার ও স্বীকৃতি সবসময় পাওয়া যায় না। সাম্প্রতিক সরকারি উদ্যোগ, স্কলারশিপ এবং বিনামূল্যে ভেটেরিনারি ক্লিনিক চালুর ফলে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এখন প্রয়োজন উপযুক্ত পরিবেশ, যান্ত্রিক সুবিধা ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা, আর হিট প্রকল্প সে লক্ষ্যেই কাজ করছে।”

কর্মশালায় প্রকল্পের লক্ষ্য, কর্মপরিকল্পনা ও প্রত্যাশিত ফলাফল তুলে ধরেন ফিজিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ও প্রকল্পের সাব-প্রজেক্ট ম্যানেজার ড. মুহাঃ ইলিয়াছুর রহমান ভূঁইয়া।

ইলিয়াছুর জানান, হিট প্রকল্পের আওতায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এ গবেষণা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রতিযোগিতামূলক রিসার্চ অ্যাওয়ার্ডিং প্রক্রিয়ায় প্রথম পর্বে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দুই বছর মেয়াদি এ গবেষণা প্রকল্পের জন্য নির্বাচিত হয়।

প্রকল্পের প্রত্যাশিত ফলাফল সম্পর্কে তিনি বলেন, “প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে এমন শ্রেণিকক্ষ গড়ে তোলা হবে যেখানে প্রতিটি লেকচার ডিজিটালি রেকর্ড থাকবে। ফলে শিক্ষার্থীরা যেকোনো সময় পাঠ দেখতে পারবেন, উপস্থিতির সীমাবদ্ধতাও থাকবে না। পাঠদান হবে প্রযুক্তিনির্ভর। একঘেয়েমি দূর করতে আধুনিক উপস্থাপন পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। গবেষণাগারে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বাড়ানো হবে এবং শিক্ষার্থীদের গবেষণায় যুক্ত করে হাতে-কলমে শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে। ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতালকেও আরো আধুনিক করা হবে। লক্ষ্য একটিই, একজন শিক্ষার্থীকে ক্লিনিক্যালি দক্ষ ভেটেরিনারিয়ান হিসেবে গড়ে তোলা।”

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, “স্মার্টনেস শুধু পোশাক বা উপস্থাপনায় নয়; এটি জ্ঞান ও চিন্তার গভীরতা থেকে আসে। আগে শিক্ষকরা চক-ডাস্টার দিয়ে পড়াতেন, আন্তরিকতা ও পরিশ্রম ছিল প্রশ্নাতীত। এখন স্লাইডভিত্তিক শিক্ষা এসেছে, তবে সব বিষয়ের জন্য একই পদ্ধতি প্রযোজ্য নয়। কোথাও স্লাইড প্রয়োজন, কোথাও আলোচনা, কোথাও ছবি বা ভিডিও, আবার কোথাও ব্যবহারিক শিক্ষার গুরুত্ব বেশি। কোন বিষয় কীভাবে পড়ানো হবে, তা নির্ভর করে শিক্ষকের প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতার ওপর।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রকল্পের প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়ন হলে শিক্ষকরা আরো নিবিড় ও কার্যকরভাবে পাঠদান করতে পারবেন।

ঢাকা/লিখন/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়