আমদানি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিতে কোরবানির আগে মসলার দাম ঊর্ধ্বমুখী
নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম
আমদানি খরচ বৃদ্ধি, ডলারের বিনিময় হার চড়া, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ও চাহিদা বেশি থাকায় কোরবানির ঈদ সামনে রেখে বাজারে গরম মসলাসহ মসলাজাতীয় পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। খুচরা বাজারে প্রায় সব ধরনের মসলা গত বছরের তুলনায় এ বছর বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে।
শনিবার (২ মে) সকালে রাজধানীর নিউ মার্কেট ও কারওয়ান বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কোরবানির ঈদ সামনে রেখে এলাচ, জিরা, লবঙ্গ ও দারুচিনিসহ প্রায় সব ধরনের মসলার দাম কেজিতে ৫০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এর মধ্যে এলাচের দাম বেশি বেড়েছে।
বাজারে এখন প্রতি কেজি এলাচ বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৬০০ টাকা, যা গত বছর এই সময়ে বিক্রি হয়েছে ৪ হাজার ২০০ থেকে ৪ হাজর ৩০০ টাকা। ভালো মানের বড় দানার প্রতি কেজি এলাচ বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৪০০ থেকে ৫ হাজার ৫০০ টাকায়।
লবঙ্গ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১ হাজার ৩৫০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায়, যা আগে ছিল ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ২৮০ টাকা। এবছর লবঙ্গের দাম গড়ে কেজিতে ১০০ থেকে ১২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারে এখন খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি দারুচিনি বিক্রি হচ্ছে ৫২০ থেকে ৫৬০ টাকা। প্রতি কেজি জিরা বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ টাকায়। এবং জয়ফল ও জয়ত্রী বিক্রি হচ্ছে যথাক্রমে ১ হাজার ৫০০ এবং ২ হাজার ৮০০ টাকায়।
এবার তুলনামূলক বেশি দাম বেড়েছে আলু বোখারার দাম, এখন কেজিপ্রতি আলু বোখারা বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায়, যা আগে ছিল ৯০০ টাকার আশপাশে। এখন কিশমিশ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৮৩০ থেকে ৮৫০ টাকায়, যা আগে ছিল ৭৬০ টাকা। এই হিসাবে কিশমিশের দাম বেড়েছে কেজিতে ৭০ থেকে ৯০ টাকা।
এছাড়া বাজারে এখন প্রতি কেজি পেস্তা বাদাম বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ১০০ থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকায়, যা আগে ছিল ৩ হাজার ৩০০ থেকে ৩ হাজার ৪০০ টাকা। এ হিসেবে এবার পেস্তা বাদামের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৮০০ টাকা। কাজু বাদাম বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ টাকা, যা আগে ছিল ১ হাজার ১৫০ টাকা এবং কাঠবাদাম বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৩৫০ টাকায়, যা আগে ছিল ১ হাজার ১৫০ টাকা।
রাজধানীর নিউ মার্কেটে বনলতা কাঁচাবাজারের কোরবানি ঈদের জন্য মসলা নিতে এসেছেন গৃহিণী নিশি আক্তার। তিনি রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, ‘‘কোরবানি ঈদ আসলেই আমাদের মতো সাধারণ মানুষের পকেটে টান পড়ে। তবে এবার মসলার বাজারে গিয়ে যা দেখলাম, তাতে মনে হচ্ছে মাংস কেনার চেয়ে মসলা কেনাই এখন বড়ো চ্যালেঞ্জ। গত বছর যে জিরা বা এলাচ কিনেছি, এবার তার দাম আকাশছোঁয়া। দোকানদাররা বলছে, ডলারের দাম বেশি আর ট্রাক ভাড়া বেড়ে গেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে আমাদের এখানে মুহূর্তেই বেড়ে যায়, কিন্তু কমলে তার প্রভাব পড়তে মাস পার হয়ে যায়।’’
‘‘সরকার যদি নিয়মিত বাজার মনিটরিং করে তাহলে বিক্রেতারা বেশি দাম রাখার সাহস পায় না,’’ যোগ করেন তিনি।
কারওয়ান বাজারের মসলা বিক্রেতা নুরুজ্জামান বেপারি রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, ‘‘বাংলাদেশের যে সকল মসলার প্রচলন রয়েছে তার অধিকাংশই আমদানি করা হয়। মসলার দাম বাড়ার কারণ প্রথমত, ডলার সংকটের কারণে এলসি খোলা আগের চেয়ে অনেক কঠিন হয়ে গেছে, যার কারণে আমদানিকৃত মসলার সরবরাহ কম। দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক বাজারেই বুকিং রেট এবার চড়া। এর ওপর আবার যুক্ত হয়েছে পরিবহণ খরচ। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে এক ট্রাক মালামাল ঢাকা আনতে আগের চেয়ে অন্তত ২০-৩০ শতাংশ বেশি ভাড়া গুণতে হচ্ছে। তেলের দাম বাড়ায় ট্রাক চালকরা ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে। পাইকারি বাজারে আমরা খুব সামান্য লাভে পণ্য ছাড়ছি, কিন্তু আমদানিকারক পর্যায়ে খরচ বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারে তার প্রভাবটা একটু বেশিই পড়ছে। সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকলে এবং পরিবহন খরচ না কমলে দাম কমানো আমাদের পক্ষে সম্ভব না।’’
ঢাকা/রায়হান//
দেশে ফিরল যুক্তরাষ্ট্রে নিহত শিক্ষার্থী লিমনের মরদেহ