ঢাকা     বুধবার   ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  ফাল্গুন ১২ ১৪৩২ || ৭ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

সেন্টমার্টিনে ধরা পড়ল ১১০০ কোরাল মাছ, ৩৫ লাখে বিক্রি

কক্সবাজার প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:০৬, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১৩:৫৭, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সেন্টমার্টিনে ধরা পড়ল ১১০০ কোরাল মাছ, ৩৫ লাখে বিক্রি

লাল কোরাল মাছ

কক্সবাজারের টেকনাফ সেন্টমার্টিন দ্বীপসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কেজির ১১০০ পিস লাল কোরাল মাছ। এই মাছ প্রায় ৩৫ লাখ টাকায় স্থানীয় এক মৎস্য ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করা হয়েছে। পরে ১০০টি কোরাল মাঝিমাল্লারা পরিবারের জন্য রেখে দেন, যার মূল্য ৩৫ লাখ টাকা থেকে কর্তন হবে। 

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টার দিকে মাছবোঝাই ট্রলারটি টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী ফিশারি ঘাটে পৌঁছায়।

আরো পড়ুন:

সূত্র জানায়, টেকনাফ সদর কেরনতলী এলাকার মিজান ও হারুনের মালিকানাধীন ট্রলারে ২১ জন মাঝি-মাল্লা গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সকালে মাছ ধরতে সমুদ্রে যান। ২৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্বে বঙ্গোপসাগরে জেলেরা বড় একটি মাছের ঝাঁক দেখতে পান। জাল ফেলার কয়েক ঘণ্টা পর লাল কোরাল মাছ ধরা পড়ে।

জেলেদের তথ্যমতে, ধরা পড়া মাছের সংখ্যা ১ হাজার ১০০টি। প্রতিটি মাছের ওজন সাড়ে ৪ কেজির বেশি। সবমিলিয়ে প্রায় ১৩৪ মণ বা প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কেজি।ফিশারি ঘাটে পৌঁছানোর পর স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী রশিদ আহমদ প্রতি মণ ২৬ হাজার টাকা দরে মাছগুলো কিনে নেন। যার বিক্রয়মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৩৫ লাখ টাকা।

মাছ ব্যবসায়ী রশিদ আহমদ বলেন, “এক জালে এত লাল কোরাল মাছ ধরা পড়া সত্যিই বিরল ঘটনা। মাছগুলো বরফ দিয়ে সংরক্ষণ করে ঢাকার যাত্রাবাড়ী, কারওয়ান বাজার ও আব্দুল্লাহপুরের আড়তে পাঠানো হচ্ছে।”

ট্রলার মালিক মিজান জানান, ধরা পড়া ১১০০টি কোরালের মধ্যে ১০০টি মাঝিমাল্লাদের পরিবারের জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে। এসব মাছের বাজারমূল্য নির্ধারণ করে মোট বিক্রয়মূল্য ৩৫ লাখ টাকা থেকে সমপরিমাণ অর্থ কর্তন করা হবে।

টেকনাফ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা উমুল ফারা বেগম তাজকিরা রাইজিংবিডিকে বলেন, “লাল কোরাল মূলত ভেটকি মাছের একটি প্রজাতি। এর বৈজ্ঞানিক নাম Lates calcarifer। সামুদ্রিক ও লোনা-পানির বৈচিত্র্যময় পরিবেশে এ মাছ স্বাভাবিকভাবেই সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠে।”

তিনি জানান, লাল কোরাল পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি মাছ। এতে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন বা আমিষ, ভিটামিন বি–১২, ভিটামিন ডি এবং ওমেগা–৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। এসব পুষ্টি উপাদান হৃদস্বাস্থ্য ভালো রাখতে, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ও স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে, হাড় মজবুত গঠনে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পুষ্টিমান ও স্বাদের কারণে লাল কোরালের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

ঢাকা/তারেকুর/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়