সদরঘাটে দুর্ঘটনার পরও উদাসীন যাত্রীরা
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে রয়েছে ঘরমুখো মানুষের ভিড়। ছবি: রাইজিংবিডি
ঢাকার সদরঘাটে লঞ্চ দুর্ঘটনায় হতাহতের পরও সেখানে যাত্রীদের মধ্যে উদাসীনতা লক্ষ্য করা গেছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চে গাদাগাদি করে চড়া এবং হুড়োহুড়ি অব্যাহত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ঈদযাত্রার তৃতীয় দিনে সরেজমিনে দেখা যায়, ঘাট এলাকায় রয়েছে যাত্রীদের ভিড়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যে যেভাবে পারছেন লঞ্চে উঠছেন। কেউ নিয়ম মানছেন না, নেই কোনো নির্দিষ্ট লাইনের শৃঙ্খলা। এতে নতুন করে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সদরঘাট থেকে যাত্রী আব্দুল করিম বলেন, “ভিড় এতো বেশি যে না উঠলে বাড়ি যাওয়া যাবে না। ঝুঁকি থাকলেও বাধ্য হয়ে উঠতে হচ্ছে।”
আরেক যাত্রী সুমাইয়া আক্তার বলেন, “কেউ কোনো নিয়ম মানছে না। ধাক্কাধাক্কির মধ্যে ওঠানামা করতে হচ্ছে, খুব ভয় লাগছে। কিন্তু বিকল্পও নেই।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘাটে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই এবং লঞ্চ চলাচলেও রয়েছে নানা অনিয়ম। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতা, পর্যাপ্ত তদারকির অভাব এবং নিরাপত্তা সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। প্রশাসনের আরো কঠোর নজরদারি এবং কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি বলে তারা জানান।
গতকাল সদরঘাটে দুই লঞ্চের সংঘর্ষের ঘটনায় দুজন নিহত হন। আহত হন একজন। নিখোঁজ রয়েছেন আরো দুজন।
পুলিশ জানায়, গতকাল বিকেলে সদরঘাটের ১৪ নম্বর পন্টুনের কাছে ঢাকা–ইলিশা (ভোলা) রুটের ‘আসা যাওয়া-৫’ নামে একটি লঞ্চ ট্রলার থেকে যাত্রী তুলছিল। এ সময় লঞ্চটিকে ঢাকা-দেউলা-ঘোষেরহাট রুটের ‘এমভি জাকির সম্রাট-৩’ নামে একটি লঞ্চ ধাক্কা দেয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এ ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এমভি জাকির সম্রাট–৩ লঞ্চের পেছনের একটি কোণের আঘাতে ‘আসা যাওয়া–৫’ লঞ্চের দুজন যাত্রী পিষ্ট হন। এর মধ্যে একজনকে পানিতে পড়ে যেতে দেখা গেছে। অন্যজনকে ‘আসা যাওয়া–৫’–এর বাইরের অংশে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
ঢাকা/আলী/ইভা