আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ ৮ অধ্যাদেশ সংসদে পাস
জাতীয় সংসদ ভবন। ফাইল ছবি
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জারি করা ৮টি অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তর করতে বিল আকারে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দশম দিন বিলগুলো পাস হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা বিলগুলো উত্থাপন করলে সরাসরি কণ্ঠভোটে সেগুলো পাস হয়।
সকালের সেশনে পাস হওয়া ৯টি বিলের দফাওয়ারি কোনো সংশোধনী প্রস্তাব ছিল না। তাই বিলের ওপর সংসদে কোনো আলোচনা হয়নি।
পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে অধিবেশনের শুরুতে ‘হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ বিল’ সংসদে পাসের জন্য প্রস্তাব করেন পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সংক্রান্ত বিলটি পাসের প্রস্তাব করতে গিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, “এটি এমন একটি বিল যার মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞায় গুমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যারা বলছেন, সরকার গুমের আইন করতে চাচ্ছে তাদের এই আইনটি ভালো করে দেখার জন্য অনুরোধ করছি। বর্তমান সরকার গুমের বিচারে বদ্ধপরিকর সেটার বহিঃপ্রকাশ এই আইনে এসেছে।”
বিলটি পাস হওয়ার পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়ান বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, “আইনমন্ত্রী বিল পাসের প্রস্তাব করতে গিয়ে যা বলেছেন তা অনাহূত। এটা না বললেই ভালো হতো। নির্দিষ্ট সময় যখন আসবে তখন এ বিষয়ে কথা বলব।”
জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, “বাইরে অনেকে গুমের বিচার নিয়ে, সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করেছেন। সে কারণে এ বিল উপস্থাপনের আগে ক্লিয়ার করেছেন যে গুমের বিচারে সরকার কতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “বাইরে কতজন কত কথা বলে। আপনি সংসদের আলোচনার মধ্যে, সংসদ সদস্যদের মধ্যে বক্তব্য সীমাবদ্ধ রাখেন। আইনবিধি অনুযায়ী যেটা গৃহীত হবে সেটা নিয়ে কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।”
পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে পৃথকভাবে কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, সিভিল কোর্টস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল ও রেজিস্ট্রেশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল সংসদে পাসের প্রস্তাব করেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। পৃথকভাবে বিলগুলো কণ্ঠভোটে পাস হয়।
পাস হওয়া অন্য বিলগুলো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত। মূলত নাম পরিবর্তনে আইন সংশোধন করে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। সেগুলোকে অনুমোদন করতে বিল পাস করা হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে তিনটি বিল সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ। সেগুলো হলো— বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল ও শেখ হাসিনা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন)। দ্বিতীয় বিলটি উত্থাপনের সময় সালাহ উদ্দিন আহমদ মজা করে বলেন, “খুব দুঃখের ব্যাপার। এতক্ষণ তো যা বললাম, এখন আবার শেখ হাসিনা বলতে হচ্ছে!”
এছাড়া ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) বিল সংশোধনী আকারে পরে পাস হবে বলেও জানান তিনি।
পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট (সংশোধন) বিল’ পাসের প্রস্তাব করেন। বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।
ঢাকা/আসাদ/সাইফ
বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিলো ক্রীড়া পরিষদ, ৩ মাসের মধ্যে নির্বাচন, অ্যাডহক কমিটির প্রধান তামিম ইকবাল