কোরবানির হাটে বড় গরু নিয়ে বিপাকে খামারি-ব্যবসায়ীরা
রাজধানীর পশুর হাটে মাঝারি ও ছোট গরুর চাহিদা বেশি
রাত পোহালেই পবিত্র ঈদুল আজহা। কোরবানির পশুর হাটে চলছে শেষ মুহূর্তের বেচাকেনা। তবে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বড় গরু নিয়ে আসা খামারি ও ব্যবসায়ীরা পড়েছেন বিপাকে। কারণ, গত বছরের তুলনায় এবার বড় গরু বিক্রির পরিমাণ অনেক কম। ফলে, বড় গরু বিক্রেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
বুধবার (২৭ মে) রাজধানীর হাজারীবাগ পশুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, পুরোদমে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর বেচাকেনা। কিন্তু, হাটের যে পাশে বড় বড় গরু রাখা হয়েছে, সে পাশে ক্রেতাদের আনাগোনা কম। ঈদের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, বড় গরুর ব্যাপারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ততটাই স্পষ্ট হচ্ছে।
অন্যদিকে, হাটে এখন মাঝারি ও ছোট গরুর কদর বেশি। কারণ, ঢাকার অনেক কোরবানিদাতাই এককভাবে কোরবানি দিয়ে থাকেন, তাদের প্রথম পছন্দ মাঝারি বা ছোট আকারের পশু। এর বাইরেও রয়েছে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা। সচেতন ক্রেতাদের বড় অংশেরই ধারণা, অতিরিক্ত মুনাফার লোভে বড় গরুকে বিভিন্ন ধরনের কৃত্রিম মোটাতাজাকরণ ওষুধ বা স্টেরয়েড খাওয়ানো হয়, যা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। এই ক্ষতিকর ওষুধের ভয় ক্রেতাদের অধিকাংশই বড় গরু এড়িয়ে চলছেন। ফলে, হাটে বড় গরুর নিয়ে আসা ব্যাপারীরা এখন অবিক্রিত পশু নিয়ে বাড়ি ফেরার চরম শঙ্কায় সময় গুনছেন।
হাজারীবাগ কোরবানির পশুর হাটে চারটি বড় আকারের গরু নিয়ে এসেছেন সিরাজগঞ্জের খামারি মো. আসিন মিয়া। তিনি রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন,“তিন বছর ধরে এই চারটা গরুকে নিজের সন্তানের মতো লালন-পালন করেছি। ভুসি, খৈল খাওয়াতেই লাখ লাখ টাকা শেষ। আশা ছিল, ঢাকার কোরবানির হাটে বিক্রি করতে পারলে ভালো লাভ করতে পারব। হাটে আনার পর থেকে মানুষ খালি এসে দেখে আর ছবি তোলে, কিন্তু দাম বলার মতো ক্রেতা নাই। ১৫ লাখ টাকা দামের গরুর দাম বলে ৮ থেকে ১০ লাখ! ঈদের আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। এই গরু যদি বিক্রি না করে ফেরত নেওয়া লাগে, তবে ট্রাকে করে বাড়ি নেওয়ার ভাড়াই জুটবে না। সেই চিন্তায় সময় কাটছে।”
একই হাটে আরেক ব্যাপারী ফয়সাল গাজী এ প্রতিবেদককে বলেন, “এবার কুষ্টিয়া থেকে পাঁচটি বড় সাইজের গরু এনেছিলাম। এখন পর্যন্ত মাত্র একটা বিক্রি করতে পারছি, তাও লোকসানে। ঢাকার মানুষের এবার বড় গরুর দিকে কোনো মন নেই। সবাই ছোট ছোট গরু খুঁজে নিয়ে যাচ্ছে। আমাদের এই গরুগুলো একেকটা ওজনে ১০ থেকে ১২ মণ। অথচ, বাজারে এখন মাংসের ওজনের দামও উঠছে না। বাকি ৪টা গরু নিয়ে এখন কী করব, মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে।”
রাজধানীর গ্রিন রোড এলাকা থেকে হাজারীবাগে কোরবানির পশু কিনতে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী মো. তানভীর আহমেদ। তিনি বলেন, “আমরা এককভাবেই কোরবানি দিই। তাই, আমাদের জন্য ১ থেকে দেড় লাখ টাকার মধ্যে মাঝারি গরুই সেরা। তাছাড়া, বড় গরুর প্রতি আমাদের এক ধরনের ভয় কাজ করে। আজ-কাল বিভিন্ন মাধ্যমে প্রায়ই দেখি, বড় গরুকে ইনজেকশন বা ক্ষতিকর ওষুধ খাইয়ে মোটা করা হয়। পরিবারের মানুষদের এই বিষাক্ত মাংস খাওয়াতে চাই না বলেই বড় গরু পুরোপুরি এড়িয়ে চলছি।”
মোহাম্মদপুর থেকে হাজারীবাগ কোরবানির পশুর হাটে এসেছেন ব্যবসায়ী হাজী মাহমুদুর হাসান। তিনি রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “এবার বাজারের যে পরিস্থিতি, তাতে বড় গরু কেনার মতো বাজেট করা কঠিন। এছাড়া, বড় গরুর মাংসের মান নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। কৃত্রিমভাবে মোটাতাজাকরণ ওষুধ দেওয়া গরু চেনা সাধারণ মানুষের পক্ষে অসম্ভব। অনেক সময় দেখা যায়, এসব গরু কেনার পর বাসায় নেওয়ার আগেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাই, ঝুঁকি না নিয়ে দেশি মাঝারি সাইজের সতেজ গরু কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ বলে মনে করি। আমরা আজ হাটে এসে ২ ঘণ্টার মধ্যে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে একটা মাঝারি দেশি গরু কিনে নিয়ে যাচ্ছি।”
ঢাকা/রায়হান/রফিক
রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ৬ শিশুর মৃত্যু