ঢাকা     বুধবার   ২৭ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ১৩ ১৪৩৩ || ১০ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

অতিরিক্ত গরম ও বৃষ্টিতে কোরবানির পশুর পরিচর্যা

ফিচার ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:০৪, ২৭ মে ২০২৬   আপডেট: ১১:০৫, ২৭ মে ২০২৬
অতিরিক্ত গরম ও বৃষ্টিতে কোরবানির পশুর পরিচর্যা

পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র একদিন বাকি। জমে উঠতে শুরু করেছে পশুর হাট। তবে বিড়ম্বনাও কম নেই। বিশেষ করে তীব্র বৃষ্টির কারণে এবার ভোগান্তি বেড়েছে। এ সময় কোরবানির পশুর পরিচর্যা নিয়েও রয়েছে খামারিদের দুশ্চিন্তা। কেননা তারা বছরজুড়ে পশু লালন-পালন করেন কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য। পশুর অসুস্থতা বা ক্ষতি তাদের কাম্য নয়। ক্রেতারাও চান সুস্থ ও নিরাপদ পশু কিনতে।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ট্রাকে গরু-ছাগল রাজধানীতে নিয়ে আসা হয়। এ সময় তীব্র গরম বা ভ্রমণজনিত ক্লান্তি স্বাভাবিক। ফলে অনেক পশু ট্রাক থেকে নামিয়ে হাটে তোলার আগেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ সময় কী ধরনের যত্ন প্রয়োজন জানতে চাইলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য কর্মকর্তা (প্রাণিসম্পদ) ডা. মনিরুজ্জামান তরফদার বলেন, ‘‘ক্লান্ত নাকি অসুস্থ- এর পার্থক্য আগে বুঝতে হবে। বোঝার সহজ উপায় হলো, ক্লান্ত হলে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিলেই পরে স্বাভাবিক হবে। এ সময় পানি খাওয়াতে হবে। তাহলেই চাঙা হয়ে উঠবে। শীতল বা ছায়াঘেরা স্থানে বিশ্রামের ব্যবস্থা করতে হবে। আর প্রকৃত অসুস্থ হলে, দীর্ঘসময় ঝিমায়, খেতে চায় না, জ্বর থাকে, শ্বাসকষ্ট হয়, পাতলা পায়খানা বা কাশি থাকে।’’ 

আরো পড়ুন:

অতিরিক্ত গরমে হাটে গরুর জন্য পর্যাপ্ত ছায়ার ব্যবস্থা করতে হবে উল্লেখ করে ডা. মনিরুজ্জামান তরফদার বলেন, ‘‘দিনে বারবার পরিষ্কার পানি দিতে হবে। দুপুরের রোদে হাঁটানো কমাতে হবে। হিট স্ট্রেস এড়াতে শরীরে পানি ছিটানো যেতে পারে। অতিরিক্ত গাদাগাদি করা যাবে না। দ্রুত নষ্ট হয় এমন খাবার না দেওয়া ভালো। অবশ্যই অসুস্থ পশুকে আলাদা রাখতে হবে। হিট স্ট্রেসের লক্ষণগুলো হলো, জোরে শ্বাস নেওয়া, জিভ বের করে হাঁপানো, অতিরিক্ত লালা, দুর্বল হয়ে পড়ে যাওয়া।’’

‘‘আরেকটি বিষয় হলো, কোরবানির পশু বিশেষ করে গরু, ছাগল বা ভেড়া দীর্ঘসময় বৃষ্টিতে ভিজে থাকলে কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বড় হাটে ভিড়, কাদা ও অপরিষ্কার পরিবেশ থাকলে ঝুঁকি আরও বাড়ে। বৃষ্টিতে দীর্ঘসময় ভেজা থাকলে শরীরের তাপমাত্রা কমে গিয়ে জ্বর বা দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ছোট বাছুর, ছাগল ও দুর্বল পশুদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া হতে পারে। কাদা ও ভেজা জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকলে খুর নরম হয়ে সংক্রমণ হতে পারে, ভেজা লোম ও অপরিষ্কার পরিবেশে ত্বকের সমস্যা বাড়ে।’’ 

‘‘হাটে বৃষ্টির পানি থেকে পশু রক্ষা করতে হবে। এজন্য তাঁবু বা ত্রিপলের ব্যবস্থা করে মাথার ওপর ভালো কভার দিন যাতে সরাসরি বৃষ্টি না লাগে। পাশে কিছুটা খোলা রাখুন যেন বাতাস চলাচল করতে পারে। উঁচু ও শুকনা জায়গায় পশু রাখুন, কাদাযুক্ত নিচু জায়গা এড়িয়ে চলুন। সম্ভব হলে খড়, বাঁশের চাটাই বা কাঠের পাটাতন বিছিয়ে দিন। পশু ভিজে গেলে দ্রুত শরীর মুছে দিন। রাতে শরীর ভেজা অবস্থায় রাখা উচিত নয়,’’ বলেন প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এই কর্মকর্তা। 

ঢাকা/তারা//

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়