ঢাকা     বুধবার   ২৭ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ১৩ ১৪৩৩ || ১০ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ঈদে লোকসানের শঙ্কায় রাজশাহীর আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা

রাজশাহী প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:৩৯, ২৭ মে ২০২৬   আপডেট: ১০:৪০, ২৭ মে ২০২৬
ঈদে লোকসানের শঙ্কায় রাজশাহীর আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা

পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর হাট

প্রতিবছর এ সময় রাজশাহীতে আমের বাজার থাকে জমজমাট। তবে, এবার ঈদের কারণে ক্রেতা কম আসায় এবং দাম কমে যাওয়ায় লোকসানের আশঙ্কা করছেন আম চাষি ও ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, হাটগুলোতে আমের ক্রেতা খুবই কম, যা বিক্রি হচ্ছে তাও গেল বছরের তুলনায় কম দামে বিক্রি হচ্ছে। 

চলতি বছর রাজশাহীতে ১৯ হাজার ৬২ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৬০ হাজার ৬ মেট্রিক টন। গত মৌসুমে আম চাষ হয়েছিল ১৯ হাজার ৬০২ হেক্টর জমিতে। ওই বছরের মতো এবারো আমের ফলন ভালো। তবে, গত দুই বছরের তুলনায় এবার মণপ্রতি ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম কমেছে আমের।

আরো পড়ুন:

রাজশাহীর সর্ববৃহৎ আমের বাজার বসে পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর হাটে। দুর্গাপুর, বাঘা, চারঘাট, পবা, মোহনপুর, বাগমারাসহ সব উপজেলার আম মূলত বেচাকেনা হয় এই বানেশ্বর হাটে। এ হাটে রয়েছে কয়েকটি বিশাল মোকাম। এখান থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে ট্রাকে করে পাঠানো হয় আম।

বানেশ্বর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গোপালভোগ গেল বছরের এসময়ে বিক্রি হয়েছিল ১৮০০-২০০০ টাকা মণ দরে। এবার ১৬০০ টাকা মণ বিক্রি হচ্ছে। ২০২৪ সালে  একই সময়ে এই আম বিক্রি হয়েছিল ২৪০০ থেকে ২৮০০ টাকায়। গুটি জাতের আম বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা মণে। গেল বছরেও এমন দাম ছিল। ২০২৪ সালে দাম ছিল ১৬০০ থেকে ১৮০০ টাকা মণ।

এদিকে, এখনো বাজারে আসেনি খিরসাপাত বা হিমসাগর আম। ল্যাংড়া, আম্রপালি ও ফজলি আসবে আরো পরে। এছাড়াও কিছু আম উঠবে ঈদের পর। এ কারণে অনেক ব্যবসায়ী এখন আম গাছ থেকে নামানো বন্ধ রেখেছেন।

চারঘাট উপজেলা থেকে আম বিক্রি করতে আসা নজরুল ইসলাম বলেন, ‍“এবারও আমের আকার ও স্বাদ বেশ ভালো। কিন্তু ঈদের আগে আমের দাম নেই বললেই চলে। আমার গোপালভোগের পাঁচটি গাছের প্রায় ৬০ মণ আম নিয়ে এসেছি। এই আম গতবছরে ৩ হাজার টাকা মণে বিক্রি করেছিলাম। এবার তা ২ হাজার টাকার কমে বিক্রি করতে হচ্ছে। ঈদের পর বাজারে আসবে ল্যাংড়া আম। তখন হয়তো দাম কিছুটা বাড়বে।”  

বানেশ্বর বাজারের আড়তদার শামীম হোসেন জানান, অন্যান্য বছর মৌসুমের শুরুতে বাজারে যে পরিমাণ পাইকার থাকে, এবার তার অর্ধেকও নেই। কোরবানির ঈদ থাকায় বাইরের মোকামগুলো থেকে পাইকাররা এখনো সেভাবে আসছেন না। ঈদের পরে হয়তো আমের বাজার চাঙ্গা হতে পারে।

অপর আড়তদার মো. আসাদুল্লাহ বলেন, “গেলবারের মতো এবার আমের দাম কম। কোরবানি ঈদের আগে সেভাবে আম বিক্রি হয়নি। আশা করছি, ঈদের পর থেকে বিক্রি বাড়বে। সে সময় আমের দামও বৃদ্ধি পেতে পারে।”  

বানেশ্বর হাটের ইজারাদার জাকির হোসেন সরকার বলেন, “এবছর আমের উৎপাদন ভালো, কিন্তু কোরবানি ঈদের কারণে ঠিকমত দাম পাচ্ছেন না চাষি ও ব্যবসায়ীরা। ঈদের কারণে রাজশাহীর বাইরের ব্যবসায়ীরা আম নিতে চাচ্ছেন না। হয়তো পরে আমের দাম বাড়তে পারে।”    

তিনি বলেন, ঈদের পরে সব ধরনের আম পুরোদমে বাজারে আসবে। বাইরের পাইকারদের আনাগোনা বাড়বে। আশা করছি, তখন বর্তমান মন্দাভাব কেটে যাবে এবং চাষিরা ন্যায্য মূল্য পাবেন।”

ঢাকা/মাহী/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়