ঢাকা     মঙ্গলবার   ২০ জানুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ৬ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

‘নির্বাচনে নির্ধারণ হবে দেশ উদার গণতন্ত্রে থাকবে নাকি উগ্রবাদী শক্তির হাতে যাবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:৫৬, ২০ জানুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১৪:৫৮, ২০ জানুয়ারি ২০২৬
‘নির্বাচনে নির্ধারণ হবে দেশ উদার গণতন্ত্রে থাকবে নাকি উগ্রবাদী শক্তির হাতে যাবে’

মঙ্গলবার দুপুরে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথনির্ধারণ করবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

তিনি বলেছেন, “এই নির্বাচন নির্ধারণ করবে দেশ উদার গণতন্ত্রের পথে থাকবে নাকি উগ্রবাদী রাষ্ট্রবিরোধী শক্তির হাতে যাবে। আমাদের অবশ্যই গণতন্ত্র, মানুষের কল্যাণ ও উদারপন্থার পথ বেছে নিতে হবে।” 

আরো পড়ুন:

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ঢাকার কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। 

বিএনপির বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “বিএনপি এখন ওদের সবচেয়ে বড় শত্রু। যারা একসময় বাংলাদেশকে স্বীকারই করেনি, তারাই আজ সবচেয়ে বেশি দুষ্টামি করছে।”

তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা মানুষ হত্যা করেছে, মা-বোনদের সম্ভ্রমহানি করেছে এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছে—সেই ইতিহাস বিএনপি ভুলে যায়নি।” 

“রাজনীতি করতেই হলে সোজা পথে করুন। ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করবেন না। দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে বেহেশতে যাওয়া যাবে—এ ধরনের কথা বলে মানুষকে ভুল বোঝানো হচ্ছে,” বলেন তিনি। 

ধর্মের নামে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে বিএনপিকে নিয়ে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, “আজ যখন দেশের মানুষ তারেক রহমানের আধুনিক ও জাতীয়তাবাদী রাজনীতিকে গ্রহণ করতে উন্মুখ, তখন ধর্মের নাম ব্যবহার করে আবার বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে।” 

বিএনপির মহাসচিব বলেন, “বিএনপি ধর্মে বিশ্বাসী দল। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সংবিধানে প্রথম ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ সংযোজন করেন এবং আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থা ও বিশ্বাসের কথা বলেন। তাই আমরা স্পষ্ট করে বলছি—ধর্মের নামে অপরাজনীতি বন্ধ করুন।”

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আর মাত্র ২৩ দিন বাকি থাকলেও এখনো কেউ কেউ নির্বাচন হতে দেবে না বলে হুমকি দিচ্ছে। ভেতরে ভেতরে খবর নিয়ে দেখেন, তাদের তিনটা ভোটও নেই। এত গলাবাজি কেন? নির্বাচন হোক, দেখা যাক কে কত ভোট পায়।” 

বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুত এবং জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল জানিয়ে তিনি বলেন, “জনগণ চাইলে আমরা সরকারে থাকব, না চাইলে বিরোধী দলে থাকব। কিন্তু নির্বাচন আগে থেকেই বাধাগ্রস্ত করার হুমকি কেন?”

আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ড. আব্দুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ দলটির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা/আলী/ইভা 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়