ঢাকা     রোববার   ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ১২ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

ভোটের মাঠে প্রশাসনের শক্ত ও নিরপেক্ষ ভূমিকা দেখতে পাচ্ছি না: মঞ্জু

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:০৬, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১৮:০৭, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
ভোটের মাঠে প্রশাসনের শক্ত ও নিরপেক্ষ ভূমিকা দেখতে পাচ্ছি না: মঞ্জু

রবিবার ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশে ব্রিফ করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।

আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, ‍“মাঠ পর্যায়ে যেভাবে প্রশাসনের শক্ত ও নিরপেক্ষ ভূমিকা থাকার কথা ছিল, অনেক ক্ষেত্রেই তা আমরা দেখতে পাচ্ছি না।”

রবিবার(২৫ জানুয়ারি) ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি এই মন্তব্য করেন।

আরো পড়ুন:

মঞ্জু বলেন, “আমরা মূলত নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে যে অবজারভেশনগুলো করেছি, সেগুলোই আজ নির্বাচন কমিশনের সামনে তুলে ধরেছি। এ-সংক্রান্ত একটি লিখিত অবজারভেশন ও অভিযোগ সচিবের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”

তিনি বলেন, “আমাদের প্রধান পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, মাঠপর্যায়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড, নির্বাচন আচরণবিধি প্রতিপালন এবং প্রশাসনের দৃঢ় অবস্থান- এসব বিষয়ে গুরুতর ঘাটতি রয়েছে।”

“তফসিল ঘোষণার আগে যেসব পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন লাগানো হয়েছিল, সেগুলো অপসারণের জন্য নির্দেশনা ছিল। কিছু কিছু এলাকায় এই নির্দেশনা মানা হয়েছে এবং কোথাও কোথাও রিটার্নিং অফিসাররা যথেষ্ট দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। উদাহরণ হিসেবে বলতে চাই, আমার নিজের নির্বাচনি এলাকা ফেনীতে দুই-চারটি পোস্টার রয়ে যাওয়ার কারণে আমাদের বিরুদ্ধে জরিমানা করা হয়েছে, যা প্রশাসনের দৃঢ়তার উদাহরণ,” বলেন এবি পার্টির প্রধান। 

তিনি বলেন, “কিন্তু একইসঙ্গে আমরা দেখেছি, ঢাকাসহ দেশের অনেক এলাকায় এই আচরণবিধি পুরোপুরি উপেক্ষিত হয়েছে এবং সেখানে প্রশাসনের কোনো শক্ত অবস্থান লক্ষ্য করা যায়নি। এসব উদাহরণ আমরা স্পষ্টভাবে নির্বাচন কমিশনের কাছে তুলে ধরেছি। সচিব মহোদয় বিষয়গুলো নোট করেছেন এবং বলেছেন, কোথাও কোথাও আঠা দিয়ে পোস্টার লাগানো থাকায় সেগুলো অপসারণ করা যায়নি- এ ধরনের ব্যাখ্যাও এসেছে। তবে আমাদের কাছে স্পষ্টভাবে মনে হয়েছে, একেক জায়গায় একেক রিটার্নিং অফিসার ভিন্ন ভিন্নভাবে নির্দেশনা প্রতিপালন করছেন। কোথাও প্রশাসন শক্ত, কোথাও আবার একেবারেই নীরব।”

সহিংস ঘটনার তথ্য তুলে ধরার কথা জানিয়ে মঞ্জু বলেন, “আমরা বিভিন্ন সহিংস ঘটনার বিষয়ও তুলে ধরেছি। বরিশালে আমাদের দলের সেক্রেটারি ব্যারিস্টার ফুয়াদের নির্বাচনি এলাকায় আগেও তার ওপর হামলা হয়েছে। গতকালও তার প্রচারে বাধা ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়ভাবে প্রতিবাদ জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

“আমার নিজের এলাকা ফেনীর ছাগলনাইয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ওপর বিএনপি সমর্থকদের হামলার ঘটনাও আপনারা দেখেছেন। সেখানে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এভাবে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা উত্তেজনাকর ঘটনা ঘটছে। নির্বাচনকালে উত্তেজনা থাকতেই পারে কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, প্রশাসন কেন দৃঢ় ও শক্ত অবস্থান নিচ্ছে না,” প্রশ্ন রাখেন মঞ্জু।

তিনি বলেন, “প্রশাসন বলছে, তিন স্তরের নিরাপত্তা, বিভিন্ন কমিটি ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু আমরা জানতে চেয়েছি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে কি না, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বডি ক্যামেরার যে শর্ত দেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবায়িত হয়েছে কি না। তাদের বক্তব্যে আমাদের কাছে মনে হয়েছে, এসব বিষয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভরশীল। এখানেই একটি বড় ধরনের ঘাটতি বা লুপ হোল রয়ে যাচ্ছে, যা একটি জবাবদিহিমূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অন্তরায় হতে পারে।”

আরেকটি গুরুতর আশঙ্কার কথা তুলে ধরা তথ্য দিয়ে এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, “আমরা নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি। অনেক ভোটার আমাদের কাছে এসে বলেন, তারা আমাদের পক্ষে থাকলেও প্রকাশ্যে প্রচারে অংশ নিতে ভয় পাচ্ছেন। ভবিষ্যৎ সরকার কে আসবে এই অনিশ্চয়তা, প্রশাসন, পুলিশ ও প্রিজাইডিং অফিসারদের আচরণ নিয়ে এক ধরনের ভয়ভীতি কাজ করছে। আমরা যদি এই ভয়ের পরিবেশ কাটিয়ে উঠতে না পারি, তাহলে এত ত্যাগ, এত রক্তের বিনিময়ে যে উৎসবমুখর ও চমকপ্রদ নির্বাচনের কথা বলা হচ্ছে, তা দিনশেষে কেবল বাহ্যিক আড়ম্বর হয়েই থেকে যাবে।”

“আরও একটি বিষয় আমরা তুলে ধরেছি। বিভিন্ন জায়গায় তথাকথিত ‘ডামি প্রার্থী’ ব্যবহারের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা পুরোনো নির্বাচন ম্যানিপুলেশনের কৌশলেরই অংশ। এ ক্ষেত্রে আমরা গণমাধ্যমের সহযোগিতাও চাইব; যেসব প্রার্থী কার্যত নিষ্ক্রিয়, তাদের ভূমিকা পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য,” যোগ করেন মঞ্জু।

নির্বাচন কমিশনের সচিব এসব বিষয় নোট করেছেন বলে জানিয়ে এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, “বিষয়গুলো আমাদের স্থানীয় কমিটি ও কমিশনকে জানাতে বলেছেন তিনি।”

নির্বাচনি প্রচারে কারা বাধা দিচ্ছে- এমন প্রশ্নের জবাবে মঞ্জু বলেন, “আমরা দেখছি, অধিকাংশ অভিযোগ বিএনপির দিকেই যাচ্ছে। নিজেদের দলেও কিছু ঘটনা ঘটেছে, তবে সিংহভাগ দায় বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। আমরা বিএনপির নেতাদের সঙ্গেও কথা বলেছি। বিএনপি ও জামায়াত দুটিই বর্তমানে জনপ্রিয় দল, দীর্ঘদিন নিপীড়নের মধ্য দিয়ে এসেছে। তাই আমরা চাই, এই দুই দলের মধ্য থেকেই সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার উদ্যোগ আসুক।”

তিনি বলেন, “এগুলো কোনো বিরোধের কথা নয়, সতর্কতার কথা। নির্বাচন হওয়ার মতো আমেজ আছে, মানুষ মাঠে আছে। কিন্তু প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলো দায়িত্বশীল ভূমিকা না নিলে এখনো সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ার মতো পূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়নি।”

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাজনে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ হবে। এখন চলছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও উত্তেজনাপূর্ণ প্রচার পর্ব। বিভিন্ন আসনে প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ নিয়ে নির্বাচন কমিশনে আসছেন, এপি পার্টির চেয়ারম্যানের মতো দলীয় শীর্ষ নেতারাও কমিশনে এসে তাদের সমস্যার কথা জানাচ্ছেন। 

ঢাকা/এমএস/রাসেল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়