ঢাকা, রবিবার, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

হার্ট রক্ষা করবে ৫ মেডিক্যাল টেস্ট

এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১১-২১ ৯:২৮:৩২ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১১-২১ ২:১২:১১ পিএম

অনেক বছর ধরে হার্টের বিশেষজ্ঞরা বলে আসছেন যে উচ্চ রক্তচাপ, ধূমপান, হৃদরোগের পারিবারিক ইতিহাস ও উচ্চ কোলেস্টেরল হচ্ছে হৃদরোগের মূল রিস্ক ফ্যাক্টর বা ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়।

যাদের লাইফস্টাইলে এসব ফ্যাক্টরের প্রভাব বেশি তাদের হৃদরোগে ভোগার ঝুঁকি বেশি। একারণে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা তাদের কাছে আসা রোগীদের মধ্যে এসব রিস্ক ফ্যাক্টর আছে কিনা চেক করেন। তারা এসব রিস্ক ফ্যাক্টরের মাত্রা নিরূপণেরও চেষ্টা করেন।

কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় এমন পাঁচটি টেস্ট ডেভেলপ হয়েছে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি আরো নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে সহায়তা করে। একজন কার্ডিওলজিস্ট এসব টেস্টের সমন্বিত ফলাফল দেখে আপনার ভবিষ্যতে হৃদরোগের ঝুঁকি কতটুকু রয়েছে তা আরো ভালোভাবে ধারণা করতে পারেন। এর ফলে লাইফস্টাইলে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে হার্ট অ্যাটাক ও অন্যান্য হৃদরোগ প্রতিরোধ করা যায়। এ প্রতিবেদনে এ পাঁচ মেডিক্যাল টেস্ট সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম: একটি স্ট্যান্ডার্ড ১২-লিড ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম ইসিজি বা ইকেজি নামেও পরিচিত। হার্টের মাংসপেশির ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যাক্টিভিটি পরিমাপ করতে এটি হচ্ছে অন্যতম স্ট্যান্ডার্ড টেস্ট। এ টেস্টের জন্য শরীরে কাটাছেঁড়া করা হয় না। এটি হচ্ছে ব্যথাবিহীন দ্রুত প্রকৃতির টেস্ট, যা সম্পন্ন করতে মাত্র পাঁচ থেকে ১০ মিনিট লাগে। হৃদরোগের ঝুঁকি নিরূপণের জন্য ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রামকে সর্বোত্তম উপায়গুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ টেস্টের সময় প্রান্তীয় অঙ্গ ও বুকের ওপর দশটি ছোট ইলেক্ট্রোড বসানো হয়। এ টেস্টে হার্ট অ্যাটাক, অ্যারিদমিয়া ও অন্যান্য বিপজ্জনক হার্টের সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত যেকোনো অস্বাভাবিক রিদম ও প্যাটার্ন ধরা পড়ে। আমেরিকান কলেজ অব কার্ডিওলজির অন্তর্গত নিউট্রিশন অ্যান্ড লাইফস্টাইল ওয়ার্কগ্রুপের সহ-সভাপতি অ্যান্ড্রু এম. ফ্রিম্যান বলেন, ‘হৃদরোগের উপসর্গ দেখা গেছে এমন যেকোনো নতুন রোগীর ক্ষেত্রে বেসলাইন টেস্ট হিসেবে সাধারণত ইসিজি করা হয়। যারা ধূমপান করেন, উচ্চ কোলেস্টেরল রয়েছে, হৃদরোগের পারিবারিক ইতিহাস রয়েছে অথবা হৃদরোগের অন্যান্য রিস্ক ফ্যাক্টর রয়েছে তাদের এ টেস্টের জন্য চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা উচিত।’

করোনারি ক্যালসিয়াম স্ক্যান: যদি চিকিৎসকে মনে করেন যে আপনি হৃদরোগ বিকাশের ঝুঁকিতে রয়েছেন, তাহলে তিনি করোনারি ক্যালসিয়াম স্ক্যান করতে পারেন। নিম্ন রেডিয়েশনের এই সিটি স্ক্যান করোনারি আর্টারি বা হার্টে রক্ত-সঞ্চালক ধমনীতে কতটুকু ক্যালসিয়াম জমেছে তা প্রকাশ করে। ডা. ফ্রিম্যান বলেন, ‘যখন আমরা করোনারি আর্টারিতে ক্যালসিয়াম দেখতে পাই, তখন ধরে নিই যে সেখানে কিছু মাত্রার অ্যাথেরোসক্লেওরোসিস (ধমনীর ভেতরের দেয়ালে চর্বিযুক্ত পদার্থ জমে ধমনী সরু ও শক্ত হয়ে যাওয়া) রয়েছে।’ করোনারি আর্টারিতে নিম্ন মাত্রার ক্যালসিয়াম সাধারণত সুস্থ হার্টের ইঙ্গিত দেয়, কিন্তু উচ্চ মাত্রার ক্যালসিয়াম হার্ট অ্যাটাক অথবা অন্যান্য কার্ডিওভাস্কুলার ইভেন্টের উচ্চ ঝুঁকির কথা বলে। উচ্চ কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ, অকাল হৃদরোগের পারিবারিক ইতিহাস ও হৃদরোগের অন্যান্য প্রচলিত রিস্ক ফ্যাক্টর থাকলে আপনার ঘনঘন এই স্ক্যান করার প্রয়োজন হতে পারে। ডা. ফ্রিম্যান সতর্ক করেন, ‘যেসব পুরুষের বয়স ৭০ বছরের উর্ধ্বে তাদের করোনারি আর্টারিতে ক্যালসিয়াম সঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।’

সি-রিয়্যাক্টিভ প্রোটিন টেস্ট: ব্লাড টেস্টের প্রথম তিনটিতে হৃদরোগের ঝুঁকি নিরূপণ করা হয়, যেমন- রক্তপ্রবাহের সি-রিয়্যাক্টিভ প্রোটিন (সিআরপি) পরিমাপ করা। ডা. ফ্রিম্যান বলেন, ‘শরীরে প্রদাহ বেশি থাকলে সিআরপির পরিমাণও বেশি হবে। বাড়তি সিআরপি হচ্ছে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ, যাদের মধ্যে হৃদরোগও অন্তর্ভুক্ত। নিশ্চিত প্রমাণ নেই যে প্রদাহ সরাসরি হৃদরোগ সৃষ্টি করে, কিন্তু উভয়ে একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত- হার্টের সমস্যা রয়েছে এমন লোকদের শরীরে উচ্চ মাত্রার প্রদাহ ধরা পড়ে। একটি সিআরপি টেস্ট আপনাকে এটা জানান দিতে পারে যে, হৃদরোগ শুরুর পূর্বেই তাকে ব্লক করার জন্য প্রতিরোধমূলক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। হৃদরোগ এড়াতে ডা. ফ্রিম্যান উদ্ভিজ্জ খাবার ভিত্তিক ডায়েট অনুসরণ, নিয়মিত শরীরচর্চা, মানসিক চাপ কমানো ও অন্যদের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনের পরামর্শ দিচ্ছেন।

এনটি-প্রোবিএনপি ব্লাড টেস্ট: আপনার কার্ডিওলজিস্ট প্রয়োজন মনে করলে এনটি-প্রোবিএনপি নামক একটি কেমিক্যালের মাত্রা জানতেও ব্লাড টেস্টের অর্ডার করতে পারেন। কার্ডিওভাস্কুলার স্ট্রেসের প্রতিক্রিয়ায় আপনার ব্রেইন ও হার্ট উভয়েই বিএনপি বা ব্রেইন ন্যাট্রিইউরেটিক পেপটাইড নামক হরমোন নিঃসরণ করে। ডা. ফ্রিম্যান জানান, ‘ব্লাড টেস্টে উচ্চ মাত্রায় বিএনপি ধরা পড়লে তা একটি সতর্ককারী লক্ষণ হতে পারে যে হার্টের মাংসপেশি শক্ত হয়ে গেছে এবং এটি আগের মতো শিথিল হতে পারছে না।’ প্রায়শ নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তার অভাবে এমনটা হয়ে থাকে, যাকে মেডিক্যালের ভাষায় ডায়াস্টোলিক ডিসফাংশন বলে। এ সমস্যাটি হার্ট ফেইলিউরের পূর্বাভাষ দিতে পারে। জীবনযাপনে কিছু সহজ পরিবর্তন এনে হার্টে স্ট্রেসের পরিমাণ বা ডায়াস্টোলিক ডিসফাংশনের ঝুঁকি কমানো যায়- যার শুরুটা হবে স্বাস্থ্যকর ডায়েট, নিয়মিত শরীরচর্চা ও ধূমপান বর্জনের মধ্য দিয়ে।

ট্রপোনিন টি টেস্ট: হৃদরোগের ঝুঁকি নিরূপণের জন্য সর্বশেষ যে মেথড ব্যবহার করা হয় তা হচ্ছে হাইলি সেনসিটিভ ব্লাড টেস্ট, যা ট্রপোনিন টি নামক প্রোটিনের মাত্রা পরিমাপ করে। কারো হার্ট উল্লেখযোগ্য স্ট্রেসে ভুগলে অথবা ড্যামেজ হলে ট্রপোনিন টি নিঃসরিত হয়। একটি সাধারণ ট্রপোনিন টেস্টে শুধুমাত্র উচ্চ মাত্রার প্রোটিন ধরা পড়ে, যা হার্টকে প্রচুর স্ট্রেসে ভোগায় এমন ইভেন্টের সময় নিঃসরিত হয়, যেমন- ম্যারাথন অথবা হার্ট অ্যাটাক। কিন্তু নতুন সংস্করণের ট্রপোনিন টেস্ট কম মাত্রার প্রোটিনও শনাক্ত করতে পারে। অল্প মাত্রার ট্রপোনিন টি শনাক্ত করতে পারলে হার্ট ড্যামেজের চিকিৎসা তাড়াতাড়ি শুরু করা যায়, যার ফলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি হ্রাস পায়।


ঢাকা/ফিরোজ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন