হজম শক্তি ভালো রাখার ৫ উপায়
দেহঘড়ি ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
ছবি: প্রতীকী
প্রায় সবাই কখনো না কখনো হজমজনিত সমস্যায় ভোগেন—যেমন পেট খারাপ, গ্যাস, অম্বল, বমিভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া। কিন্তু এসব সমস্যা যদি ঘন ঘন হয়, তাহলে তা দৈনন্দিন জীবনে বড় ধরনের অসুবিধা সৃষ্টি করতে পারে। হজমশক্তি উন্নত করার জন্য নিচে কিছু কার্যকর উপায় দেওয়া হলো—
১. প্রাকৃতিক ও সম্পূর্ণ খাবার খান
আপনি কী খাচ্ছেন, তা আপনার অন্ত্রের মাইক্রোবায়োম এর উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
এই মাইক্রোবায়োম হজম, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং হরমোনের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যখন এই ভারসাম্য নষ্ট হয়, তখন দেখা দিতে পারে—গ্যাস, পেট ফাঁপা, পেটে ব্যথা। এসব সমস্যা দূর করতে প্রাকৃতিক বা কম প্রক্রিয়াজাত খাবার—ফাইবার, ভিটামিন ও খনিজ জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে। এসব খাবার অন্ত্রের জন্য উপকারী। অন্যদিকে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার প্রদাহ বাড়াতে পারে।
২. পর্যাপ্ত ফাইবার গ্রহণ করুন
ফাইবার হজম ভালো রাখতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ফাইবার দুই ধরনের— অদ্রবণীয় ফাইবার পাওয়া যায় শস্য ও সবজি থেকে। এসব খাবার মলের পরিমাণ বাড়ায়, নিয়মিত পায়খানা করতে সাহায্য করে।
দ্রবণীয় ফাইবার পাওয়া যায় ফল, বীজ ও ডালে। এগুলো পুষ্টি শোষণে সাহায্য করে এবং ভালো ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য হিসেবে কাজ করে। সেক্ষেত্রে ফাইবার হঠাৎ বেশি না বাড়িয়ে ধীরে ধীরে বাড়ান। বেশি পানি পান করুন।
৩. স্বাস্থ্যকর চর্বি খান
অ্যাভোকাডো, বাদাম, মাছ এ থাকা ভালো চর্বি হজমে সহায়তা করে। এগুলো— পিত্তরস (bile) উৎপাদন বাড়ায়, ভিটামিন A, D, E, K শোষণে সাহায্য করে, অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
৪. পর্যাপ্ত পানি পান করুন
পানি হজমের জন্য অত্যন্ত জরুরি।পানি—খাবার ভাঙতে সাহায্য করে, এনজাইম সক্রিয় করে, পুষ্টি শরীরে পৌঁছে দেয় এবং ক্ষতিকর জীবাণু বের করে দেয়। পানি কম পান করলে হতে পারে—কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস এবং পেট ফাঁপা । পানি কম খেলেই শরীর পানি ধরে রাখে, ফলে ফাঁপাভাব বাড়তে পারে। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং অতিরিক্ত সোডা বা গ্যাসযুক্ত পানি এড়িয়ে চলুন।
৫. মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করুন
আমাদের মস্তিষ্ক ও অন্ত্র একে অপরের সাথে সংযুক্ত—যাকে বলা হয় গাট-ব্রেন অ্যাক্সিস (gut-brain axis)। স্ট্রেস হলে—হজম ধীর হয়ে যায়, অন্ত্রে রক্ত চলাচল কমে যায়। দীর্ঘমেয়াদে এই সমস্যায় ভুগলে হতে পারে পেটে গ্যাস ও ফাঁপাভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া, অন্ত্রের সমস্যা বৃদ্ধি এবং প্রদাহ বৃদ্ধি । তাই মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা হজমের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: হেলথলাইন
ঢাকা/লিপি
ইরানে ১ লাখ ১৫ হাজার বেসামরিক স্থাপনা বিধ্বস্ত: রেড ক্রিসেন্ট