সর্দি ও ফ্লু থেকে শিশুদের নিরাপদ রাখার উপায়
দেহঘড়ি ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
ছবি: প্রতীকী
এই সময় সর্দি ও কাশির মতো অসুখে শিশুরা সহজেই আক্রান্ত হচ্ছে। অভিভাবকদের জন্য এই সময় শিশুদের সুস্থ রাখা যেন একটানা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়—বিশেষ করে যখন স্কুল, খেলাধুলার জায়গাগুলো জীবাণুর সহজ বিস্তারের স্থান হয়ে ওঠে।এই সময়ে আপনার শিশুর সুস্থতা রক্ষা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিছু সচেতন পদক্ষেপ নিলে সহজেই শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারেন।
ঠান্ডা ও ফ্লু মৌসুমের স্বাস্থ্যঝুঁকি
ফ্লু এবং সাধারণ সর্দি—দুটিই ভাইরাসজনিত রোগ, যা খুব সহজে ছড়ায়, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে। কারণ তাদের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি শক্তিশালী হয়নি।
সর্দির লক্ষণ: নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ, হালকা কাশি
ফ্লুর লক্ষণ: জ্বর, শরীর ব্যথা, দুর্বলতা
যদিও বেশিরভাগ শিশু দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে, তবে যেসব শিশু হাঁপানি, ডায়াবেটিস বা দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতায় ভুগছে, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি।
শিশুকে সুস্থ রাখার প্রতিরোধমূলক উপায়
১. হাত পরিষ্কার রাখার অভ্যাস
হাত ধোয়া সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ।অন্তত ২০ সেকেন্ড সাবান ও গরম পানি দিয়ে হাত ধোয়া, খাওয়ার আগে, টয়লেট ব্যবহারের পর এবং খেলাধুলার পর হাত ধোয়া এবং সাবান না থাকলে ৬০% অ্যালকোহলযুক্ত স্যানিটাইজার ব্যবহার ।
২. কাশি-হাঁচির সঠিক নিয়ম শেখানো
টিস্যু বা কনুইয়ে কাশি/হাঁচি দেওয়া, ব্যবহৃত টিস্যু দ্রুত ফেলে দেওয়া এরপর হাত ধোয়া।
৩. টিকাদান নিশ্চিত করা
ফ্লু ভ্যাকসিন শিশুদের গুরুতর অসুখ থেকে রক্ষা করে।এটি জটিলতা, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং স্কুল মিস করার ঝুঁকি কমায়।
৪. পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো
শিশুর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে—ফল, সবজি, প্রোটিন ও পূর্ণ শস্য, ভিটামিন সি জাতীয় ফল যেমন—কমলা, স্ট্রবেরি, জিঙ্ক সমৃদ্ধদ খাবার যেমন— বাদাম, ডাল খাওয়ানো উচিত। এবং পর্যাপ্ত পানি পান করানো উচিত।
৫. পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা
শিশুদের বয়স অনুযায়ী প্রতিদিন ৯–১২ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। নিয়মিত ঘুমের সময় নির্ধারণ করুন এবং ঘুমের আগে স্ক্রিন টাইম কমান ।
৬. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা
খেলনা, দরজার হাতল, টেবিল নিয়মিত পরিষ্কার করুন। খাবারের পাত্র বা ব্যক্তিগত জিনিস শেয়ার না করতে শেখান।
৭. অসুস্থ হলে বাসায় রাখা
নিম্নলিখিত লক্ষণ থাকলে শিশুকে বাইরে পাঠাবেন না—
- জ্বর
- বমি
- দীর্ঘস্থায়ী কাশি
- অতিরিক্ত দুর্বলতা
- জ্বর সেরে যাওয়ার পর অন্তত ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করে স্কুলে পাঠান।
কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?
বাড়িতে যত্ন নেওয়ার পরও কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে। যেমন—
- ১০২° ফারেনহাইট এর বেশি জ্বর
- শ্বাসকষ্ট বা শোঁ শোঁ শব্দ
- তীব্র গলা ব্যথা বা কানের ব্যথা
- বারবার বমি বা ডায়রিয়া
সূত্র: টেক হেলথ
ঢাকা/লিপি
প্রধানমন্ত্রীর কাছে সিএজির অডিট রিপোর্ট পেশ