ঢাকা     শনিবার   ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||  আশ্বিন ১১ ১৪২৭ ||  ০৮ সফর ১৪৪২

মেডিক্যাল কলেজের বই কেনায় অনিয়ম,মামলা করবে দুদক

এম এ রহমান মাসুম || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:৫৪, ১৫ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১৪:৫২, ২৯ আগস্ট ২০২০
মেডিক্যাল কলেজের বই কেনায় অনিয়ম,মামলা করবে দুদক

অ্যাশক্র্যাফ্টস পেডিয়াট্রিক সার্জারি নামের মেডিক্যাল একটি বইয়ের বাজার দাম ১৭ হাজার ৫০ টাকা।  অথচ সরকারি দরপত্রে দাম দেখানো হয় ৫১ হাজার ৬৮০ টাকা।  বই প্রতি খরচ হয়েছে ৩৪ হাজার ১৮০ টাকা।  এভাবে তিনটি বই ক্রয়ের মাধ্যমে আত্মসাৎ হয় মোট ১ লাখ ২ হাজার ৫৪০ টাকা।

অনুরূপভাবে ল্যাং কারেন্ট অ্যাসেনশিয়াল পেডিয়াট্রিক্স নামের বইয়ের প্রকৃত বাজার দাম ৫০০ টাকা হলেও দরপত্রে ৭ হাজার ১৩১.৫০ টাকা দেখিয়ে ২০টি বই থেকে অতিরিক্ত ১ লাখ ৩২ হাজার ৬৩০ টাকা তোলা হয়।  একইভাবে আলটাস অব এনাটনির প্রকৃত বাজার দাম ৬০০ টাকা হলেও দরপত্রে দুই হাজার ৪৫০ টাকা, ৩৮০ টাকার মান্নান’স রিজোনাল ডিসিশন অ্যান্ড সারফেস এনাটমির দাম ১ হাজার ১৯০ টাকা কিংবা ৫৫০০ টাকার ক্লিনিক্যাল বায়োকেস্ট্রির বইয়ের দাম ১৯ হাজার ১৯৭ টাকা দেখিয়ে সরকারি অর্থ লোপাট হয়।

এভাবে হবিগঞ্জ শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজে একই প্রক্রিয়ায় বেশি দাম দেখিয়ে ৩৬৫ ক্যাটাগরির বিভিন্ন বই কেনায় সোয়া কোটি টাকার বেশি লুটপাটের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন।  নির্ঝরা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানসহ এর সঙ্গে জড়িত বলেও প্রমাণ পেয়েছে সংস্থাটি।  এর পরিপ্রেক্ষিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজের শীর্ষ কর্তা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আগামী সপ্তাহে মামলা হতে পারে বলে দুদকের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র রাইজিংবিডিকে নিশ্চিত করেছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধান টিমের তদারককারী কর্মকর্তা ও দুদক পরিচালক কাজী শফিকুল আলম রাইজিংবিডিকে বলেন, বিভিন্ন হাসপাতালের ক্রয় সংক্রান্ত দুর্নীতির অনুসন্ধান ও তদন্ত চলমান রয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি টিম ইতিমধ্যে বেশকিছু মামলা করেছে।  শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজের বিষয়টিও অনুসন্ধান চলমান।  যতটুকু জানি তা প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।  মামলা হলে আপনারা জানতে পারবেন।

অনুসন্ধান প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা ব্যতীত ২০১৮ সালের মার্চ মাসে উচ্চমূল্যে বিপুল পরিমাণ মেডিক্যাল বইপত্র ও সাময়িকী এবং যন্ত্রপাতি ক্রয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করে শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. আবু সুফিয়ানসহ সংশ্লিষ্টরা।  তারা বিধি বহির্ভূতভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশাসনিক অনুমোদন ব্যতীত বাজার দর কমিটি, দরপত্র উন্মুক্তকরণ কমিটি, দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি ও সার্ভে কমিটি গঠন করেন এবং দরপত্র আহ্বান করা হয়।  মেডিক্যাল কলেজের পক্ষে (স্মারক নং-শেখ হাসিনা মে: ক:/ হবি:/২০১৮/১৯৮) ২০১৮ সালের ১৮ জুন ৩ হাজার ৬৩৯টি মেডিক্যাল বই এবং একই দিনে অন্য একটি স্মারকে (স্বারক নং-শেখ হাসিনা মে: ক:/ হবি:/২০১৮/১৯৯) ২ হাজার ৮২৩টি মেডিক্যাল বই সরবরাহের জন্য নির্ঝরা এন্টারপ্রাইজকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ক্রয় পরিকল্পনা ছাড়াই পছন্দের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে উচ্চমূল্যে ক্রয় দেখিয়ে শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজে বইপত্র ও সাময়িকী সরবরাহের নামে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা বলেন, শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজের ক্রয়কৃত মেডিক্যাল বইপত্র ও সাময়িকীসমূহের ২০১৮ সালের বাজার দাম যাচাই করা হয়।  এতে ক্রয়কৃত মেডিক্যাল বইপত্র ও সাময়িকীসমূহের প্রকৃত বাজার দাম পাওয়া যায় ২ কোটি ৭৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকা।  অথচ দরপত্রে যার দাম দেখানো হয় ৪ কোটি টাকার বেশি। 

এ বিষয়ে জানতে শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ আবু সুফিয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও মুঠোফোনে তাকে পাওয়া যায়নি।

হবিগঞ্জ শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজে কেনাকাটায় দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে শুরু করে দুদক।  দুদক উপ-পরিচালক মো. শামছুল আলমের নেতৃত্বে একটি দল অনুসন্ধানের দায়িত্ব পালন করেন।  তিন সদস্যের অনুসন্ধান টিমের অন্য সদস্যরা হলেন উপ-সহকারী পরিচালক মো. সহিদুর রহমান ও ফেরদৌস রহমান। 

এম এ রহমান/সাইফ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়