Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     বুধবার   ০৪ আগস্ট ২০২১ ||  শ্রাবণ ২০ ১৪২৮ ||  ২৩ জিলহজ ১৪৪২

শেষ সময়ে কমেছে গরুর দাম

এসকে রেজা পারভেজ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:৪৫, ২০ জুলাই ২০২১   আপডেট: ০৮:৪৩, ২১ জুলাই ২০২১
শেষ সময়ে কমেছে গরুর দাম

গরুর দাম কমে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় বিক্রেতারা

প্রতিবছরই ঈদুল আজহায় দুটি সমীকরণ সামনে রেখে পশু ক্রেতা ও বিক্রেতারা দম ধরে রাখেন শেষ পর্যন্ত। দাম বাড়বে, সে আশায় থাকেন বেশিরভাগ বিক্রেতা। অন্যদিকে, ক্রেতারা দাম কমার আশায় থাকেন। কোনো বছর দাম কমে, তো কোনো বছর বাড়ে। এবছর ঈদের আগের দিনে গরুর দাম নিম্নগামী। অপেক্ষাকৃত কম দামে পশু কিনতে পেরেছেন ক্রেতারা। ক্রেতারা এতে খুশি হলেও, মলিন মুখ বিক্রেতাদের।

ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে কোরবানি দেওয়ার হার কমেছে। তবে, ঢাকার হাটগুলোতে এবার গরু এসেছে অনেক। গত কয়েক বছরে গরু উৎপাদনে বাংলাদেশ যে রেকর্ড অর্জন করেছে, হাটগুলোতে বেশি দেশি গরুর উপস্থিতি সেটিই জানান দিচ্ছে। এবার যে পরিমাণ গরু এসেছে, তা চাহিদার তুলনায় বেশ বেশি বলে মনে করছেন তারা। বাজারে গরুর যোগান বেশি থাকায় শেষ দিনে দাম কমেছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

রাজধানীর গাবতলী গরুর হাট থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে বড় একটি গরু কিনেছেন তানু রায়হান। তিনি জানান, দুই দিন আগে এমন একটি গরুর দাম দেড় লাখ টাকার বেশি চাওয়া হয়েছিল। আজ যে দামে তিনি গরু কিনেছেন, তাতে তার কাছে মনে হয়েছে, তিনি কম দামেই পেয়েছেন মনের মতো গরু।

কুষ্টিয়া থেকে চারটি গরু নিয়ে এসেছেন জালাল মিয়া। দুটি বিক্রি করেছেন বেশ ভালো দামে। কিন্তু বড় দুটি গরু এখনও বিক্রি করতে পারেননি। একটু ভালো দামে বিক্রির আশা নিয়ে গরু দুটিকে শেষ দিন পর্যন্ত রেখে দিলেও এখন মনে করছেন আগে ছেড়ে দেওয়াই ভালো ছিলো।

তিনি জানান, দুই দিন আগে যে দাম দিতে চেয়েছিলেন ক্রেতারা, আজ তা দিতে চাচ্ছেন না।

রাজধানীর রামপুরার আফতাবনগর হাটেও একই চিত্র চোখে পড়েছে। সেখানেও গরুর দাম গত দুই দিনের তুলনায় বেশ কম বলে জানিয়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।

বিভিন্ন জনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাটে যে পরিমাণ গরু আছে, সেই তুলনায় ক্রেতা বেশ কম। এজন্য হঠাৎ করেই দাম পড়ে গেছে।

৭৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কিনেছেন মইনুল হোসেন। তিনি জানান, আজকে দাম তুলনামূলক কম।

দাম কমায় অখুশি বিক্রেতা মোতালেব মোল্লা। ঝিনাইদহ থেকে পাঁচটি গরু নিয়ে ঢাকায় আসা এই বিক্রেতা বলেন, ‘দাম ভালো নাই, মামু।’

ঢাকায় কোরবানির পশু রাখার ব্যবস্থা অপ্রতুল হওয়ায় অনেকেই ঈদের আগের দিনে কোরবানির পশু কেনেন। তবে, এবার হয়েছে উল্টো। অনেকেই আগেই গরু কিনেছেন। কেউবা হাসিলের টাকা বাঁচাতে সরাসরি ফার্ম থেকে গরু কিনেছেন। সরাসরি ফার্ম থেকে গরু কেনার এই প্রথা গত কয়েক বছরে বেশ বেড়েছে। কেউ আবার অনলাইন থেকেও কিনছেন। করোনার কারণে অনলাইনে পশুর ব্যবসাও এবার খুব জমজমাট।

ক্রেতা-বিক্রেতা এবং হাট সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অন্তত ৩০ শতাংশ ব্যবসায়ী সন্তোষজনক দাম পাওয়ার পরও গরু ছাড়েননি শেষ দিনে ভালো দাম পাওয়ার আশায়।

গত বছর ঈদের আগের দিনে গরুর দাম বেশি ছিল, এ তথ‌্য জানিয়ে বিক্রেতা মহিবুল বলেন, ‘আগের বছর ভালোই হইছে। কিন্তু এবার মনে হয়, হইবো না।’

পারভেজ/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়