RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     শনিবার   ২৮ নভেম্বর ২০২০ ||  অগ্রাহায়ণ ১৪ ১৪২৭ ||  ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

আকবরদের কোহলি-স্মিথের মতো গড়তে চান র‌্যাডফোর্ড

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:৪৬, ২৯ অক্টোবর ২০২০  
আকবরদের কোহলি-স্মিথের মতো গড়তে চান র‌্যাডফোর্ড

কথাগুলো পুরোনো। তবে নতুন কারো থেকে শুনতে বরাবরই ভালো লাগে! নতুন করে আশা বাড়ে! সেই পুরোনো আশা, ‘টেস্ট ক্রিকেটেই আসল উন্নতি করতে হবে।’ আসছে নভেম্বরেই টেস্ট ক্রিকেটের দুই দশকে পা রাখবে বাংলাদেশ। অথচ এখনও বিদেশি কোচরা বলে আসছেন, ‘একদল খেলোয়াড় তৈরি করতে চাই যারা টেস্টের জন্যই মানানসই।’

সম্প্রতি বিসিবির হাই পারফরম্যান্স ইউনিটে যুক্ত হয়েছেন ইংলিশ কোচ টবি র‌্যাডফোর্ড। করোনার সময়ে এখানে এসে কাজে যুক্ত হয়েছেন। কর্মক্ষেত্রে কাজের মনোযোগ বাড়ানোর থেকেও মানসিকতার লড়াই বেশি করতে হচ্ছে তাকে, ‘শেষ তিন সপ্তাহে হোটেল থেকে ট্যাক্সি করে মাঠে আসছি। আবার ট্যাক্সি করে হোটেলে ফিরছি। একই রকম জীবন। এজন্য মানসিকভাবে লড়াই করতে হচ্ছে।’ সেই লড়াইয়ে র‌্যাডফোর্ডের সঙ্গী ২৬ তরুণ ক্রিকেটার। তাদেরকে বড় মঞ্চের জন্য প্রস্তুত করতে র‌্যাডফোর্ডকে দেওয়া হয়েছে দায়িত্ব।

অভিজ্ঞ র‌্যাডফোর্ড আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব নিয়েছেন তিনদিন হলো। এখনই খেলোয়াড়দের সম্পর্কে আগাম মন্তব্য করার পক্ষে নন। তবে তার ভাবনা পরিষ্কার, শুধুমাত্র সীমিত পরিসরের জন্য খেলোয়াড় তৈরি করতে চান না। তার নজর পাঁচদিনের টেস্ট ক্রিকেটে। এই কোচের বিশ্বাস, টেস্ট ক্রিকেটার তৈরি করতে পারলে সীমিত পরিসরে ফল পাওয়া যাবে সহজেই।

গণমাধ্যমে নিজের প্রথম সাক্ষাৎকারে র‌্যাডফোর্ড বলেন, ‘আমি বোর্ডকে জানিয়েছি, একদল খেলোয়াড় তৈরি করতে চাই যারা টেস্টের জন্যই মানানসই। তারা টেকনিক্যালি শক্তিশালী হবে। ঘণ্টায় ৯০ মাইলের বলে টানা পাঁচ ঘণ্টা ব্যাটিং করতে পারবে এবং বোলিংয়ে লম্বা স্পেল করতে পারবে। তাদেরকে নিয়ে ১৪-১৫ দিনের পৃথক লাল বলের ক্যাম্প করতে হবে।’

বাংলাদেশ সম্পর্কে র‌্যাডফোর্ডের ধারণা বেশ পরিষ্কার। সীমিত পরিসরে বাংলাদেশ খুব এগিয়ে। আর দীর্ঘ পরিসরে তলানিতে। ২০১৮ সালের বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিপাক্ষিক সিরিজের উদাহরণ টেনে র‌্যাডফোর্ড বলেন, ‘বাংলাদেশ যেবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর করলো সেবার আমি স্বাগতিক দলের সঙ্গে ছিলাম। দুই বছর আগের কথা। দুইটি টেস্ট তিনদিনের বেশি যায়নি। পেসার শ্যানন গ্যাব্রিয়েল এবং বাকি পেস বোলাররা বাংলাদেশের টপ অর্ডার স্রেফ উড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু সাদা বলের ক্রিকেটে বাংলাদেশকে আমরা ভিন্ন রূপে দেখতে পাই। ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি দুইটি সিরিজই বাংলাদেশ জিতেছিল।’

পাশাপাশি তিন সপ্তাহে স্থানীয় কোচদের থেকে ছেলেদের সম্পর্কে পেয়েছেন চিরন্তন সত্য তথ্য, ‘স্থানীয় কোচদের থেকে শুনেছি তরুণ খেলোয়াড়রা লাল বলের ক্রিকেট খেলার সুযোগ কম পায়। আবার আগ্রহের কমতিও আছে। তাদের মানসিকতায় থাকে সব সময় রান করতে হবে। সমস্যা হচ্ছে যখন ফিল্ডিংয়ে তিনটি স্লিপ ও গালি থাকবে তখন আপনাকে বল ছাড়তে হবে। আপনাকে তখন রান করার থেকেও টিকে থাকার লড়াই করতে হবে।’

তবে টি-টোয়েন্টির রমরমা সময়ে টেস্ট মানসিকতা বৃদ্ধি করানোও চ্যালেঞ্জিং। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অর্থের ঝনঝনানি। সেখানে টেস্ট ক্রিকেটে বরাবরই গর্বের। এজন্য দুইয়ের মিশেল ঘটাতে চান র‌্যাডফোর্ড। তার ভাষ্য, ‘ছেলেরা প্রচুর টি-টোয়েন্টি দেখতে পাচ্ছে। তারা দেখতে পারছে, ক্রিকেটাররা প্রচুর টি-টোয়েন্টি খেলে অজস্র অর্থ আয় করছে। কিন্তু আমি শুধুমাত্র টি-টোয়েন্টি খেলোয়াড় তৈরি করার পক্ষে নেই। টেস্ট ক্রিকেটার তৈরি করতে চাই যারা টি-টোয়েন্টি এবং ৫০ ওভারের ক্রিকেটও খেলতে পারে। আমার মতে, টেস্ট ক্রিকেটাররাই বিশ্বের সেরা ক্রিকেটার। আমি চাই তরুণরা লাল বলের ক্রিকেটে মনোযোগী হোক, পাঁচ দিনের ক্রিকেটে নিজেদের আগ্রহ তৈরি করুক। তাহলে বিশ্বের যে কোনো জায়গায় তারা খেলতে পারবে।’

ইংলিশ কোচ উদাহরণ টেনেছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা চার ব্যাটসম্যানের। কেন উইলিয়ামসন, বিরাট কোহলি, বেন স্টোকস ও স্টিভেন স্মিথের কথা জানিয়ে র‌্যাডফোর্ড আরও যোগ করেন, ‘তাদেরকে দেখবেন প্রত্যেকে তিন ফরম্যাটেই সেরা। তারা টেস্ট ক্রিকেটে দারুণ খেলোয়াড়। বিশেষ করে তাদের ক্রিকেটীয় মেধা ও কৌশল অসাধারণ। এটা থাকলে আপনি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটেও ভালো করতে পারবেন। এজন্য আমি ছেলেদেরকে প্রাথমিক কৌশল শেখাব।’

ঢাকা/ইয়াসিন/কামরুল

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়