তামিমের চোট
অবহেলা কার, জানতে চায় বিসিবি?
বিদায় জানিয়ে দিয়েছিলেন ক্রিকেটকেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তখেপে সেই সিদ্ধান্ত বদল আসে, কিন্তু তামিম ইকবাল ছেড়ে দিয়েছেন নেতৃত্ব। এক দিনের ক্রিকেটে তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ হাঁটছিল সাফল্য মোড়ানো পথে। সামনে এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপ, এই আসরকে ঘিরে অধিনায়ক তামিমের স্বপ্নও ছিল বড়। কিন্তু পিঠের নিচের অংশে পুরোনো ইনজুরি বারবার খেলা না খেলার মধ্যে থাকা তামিমকে ঠেলে দিল কন্টাকীর্ণ পথে।
এতে দায় কি শুধু ইনজুরির? অবসর আর অধিনায়কত্ব ছাড়ার আড়ালে পড়ে গেছে যেন গোড়ার সমস্যাই। তামিমের এই ইনজুরি বারবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার পেছনে দায়ী যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মেডিকেল বিভাগই। স্ক্যান রিপোর্ট বুঝতে না পারা, উলটো নানা কসরত করিয়ে তামিমকে আরও বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। যার ফলস্বরূপ তামিমের অবসর, আবার ফেরা, অধিনায়কত্ব ছাড়া সবকিছুই ঘটেছে।
গত মে’তে হাথুরুসিংহের পরামর্শে সিরিজ চলাকালে প্রথমে একজন স্পোর্টস অস্টিওপ্যাথ এবং পরে একজন স্পোর্টস ফিজিশিয়ানের শরনাপন্ন হন তামিম। সেখানে তাদের পরামর্শে স্ক্যানও করানো হয়েছিল তামিমের কোমরের। বিসিবির মেডিকেল বিভাগ সেই রিপোর্টে কিছু খুঁজে পাননি। পরবর্তীতে লন্ডনের স্পাইন ফিজিশিয়ান টনি হ্যামন্ড নিশ্চিত করেছেন, তামিম ইকবালের মেরুদণ্ডের নিচের দুটি হাড়ের মাঝের ডিস্কে ক্ষয় ধরেছে।
তামিম ইনজুরি নিয়ে কিসের মধ্য দিয়ে গিয়েছেন সবকিছু দিনের আলোর মতো পরিস্কার। বিসিবি সভাপতি গতকাল তামিমের সঙ্গে বৈঠকের পর নিজেদের দায় স্বীকার করে নিলেন এক প্রকার। জানিয়েছেন তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা।
‘আমার তো মেজাজই গরম হয়ে গেল রিপোর্ট দেখার পর। এই ব্যাপারটা আমাদের আরও তদন্ত করে বের করার দরকার। এটা যেভাবে আমাদের কাছে প্রেজেন্ট করা হয়েছে তাতে একটা ব্যাপার আছে। এটা হওয়ার কথা না। এটা যদি ২০২২ এ হয়ে থাকে তাহলে এতদিনে ভাল হয়ে যাওয়ার কথা। তো নিশ্চয়ই এটা নিয়ে অবহেলা করা হয়েছে এজন্যই আমাদের এরকম কথা এখন শুনতে হচ্ছে। আগে থেকে চিকিৎসা করা হলে এতদিনে ভাল হয়ে যেতো।’
পরিস্থিতির শিকার তামিম নিজেও বুঝে গেছেন কোথায় গণ্ডগোল হয়েছে। সেজন্য তার কণ্ঠে সতর্কবার্তা পাওয়া গেল, ‘পাপন ভাইয়ের সাথে……আমার যে সমস্যা সেটা নভেম্বর থেকেই ছিল। কিন্তু কথা হল ওনাকে (পাপন) তো কেউ একজন জানায়। আমি তো আগে পাঠাইনি ওনাকে। ওনাকে যখন প্রথম পাঠাই উনি সাথে সাথে আমাকে ফোন করে বলছে এ কথা আমাকে জানানো হয়নি কেন এতদিন! যাই হোক, আমরা যদি ওপেন থাকি তাহলে এই সমস্যাগুলো হয় না। তো আমরা এখন পুরোপুরি স্পষ্ট যে গত ছয়মাসে কি হয়েছে।’
গত নভেম্বরে ভারতের বিপক্ষে খেলতে পারেননি তামিম। বিপিএল দিয়ে ফিরলেও শেষ দিকে আবার ব্যথার কারণে সরে দাঁড়ান। মাঝে তিনটি সিরিজ খেলেন। এরপর আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টের আগে আবার ব্যথা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। ওয়ানডে সিরিজের আগে সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, শতভাগ ফিট না, খেলে দেখতে চান কি অবস্থান।
এরপর নানামুখি সমালোচনায় প্রথম ম্যাচের পর নেতৃত্ব ছেড়ে দেন। ২৮ ঘণ্টার মাঝে প্রধানমন্ত্রীর হস্তখেপে আবার ফেরেন। দেড় মাসের ছুটি পান চিকিৎসার জন্য। লন্ডনে লাম্বার চোর ও ফাইভে দুটি ইনজেকশন নেন তিনি। সবমিলিয়ে ফিট হয়ে মাঠে ফিরতে কিছুটা সময় লাগবে। তাই ঝুঁকি নিয়ে খেলছেন না এশিয়া কাপ। এরপরেই ঘরের মাঠে নিউ জিল্যান্ড সিরিজ দিয়ে ফিরতে চান খেলায়, যেতে চান বিশ্বকাপে। সব বাধা পেরিয়ে তামিম ফিরতে পারবেন তো চেনা ২২ গজে?
ঢাকা/রিয়াদ/ইয়াসিন